বইয়ে খোঁজার সময় নাই
সব কিছু এখানেই পাই

রচনা : কেন আমি টাকা ভালোবাসি

ভাববাদিরা বলেন, অর্থ অনর্থের মূল।” কেহ বলেন, “টাকা হলে বাঘের দুধও মেলে।” আমি বলি “তঙ্কাহি কেবলাল।” এ দুনিয়াটা টাকার পাগল। কী আছে? টাকা আছে। কী নাই? টাকা নাই। টাকা আছেতো সবই আছে। টাকা নাইতো কিছুই নাই। টাকা থাকলে স্ত্রী আদর করবে- আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সকলেই ঘনিষ্ঠতম হবে। আর টাকা না থাকলে সকলেই বসন্তের কোকিলের মত দূরে সরে যাবে। আমার বন্ধুর বাবা ঔষুধ পথ্য ছাড়া রোগে ভুগে মরল, সে তো টাকার জন্যই। রশিদ ভালো গ্রেড নিয়ে মাধ্যমিক পাশ করেও পড়াশুনা করতে পারল না শুধুমাত্র টাকার অভাবে। খুনী দিনে খুব করেও টাকা দিয়ে বেঁচে আসল। টাকার জোরে করিম সেই মামলা পাইল? তবে আমি কেন টাকা ভালোবসব না?

জগৎ টাকার বস, দুনিয়াতে শুধু চাই টাকা আর টাকা। এই পৃথিবীতে মানসম্মান অর্থ টাকা – লেখাপড়ার অর্থ টাকা সবই টাকা। একজন অধ্যাপককে সাধারণ মানুষ যে সম্মান দেয় একজন ধনী বণিককে তার চেয়ে বেশি সম্মান করে। মানুষ সম্মান করে মানুষকে নয়, গুণকেও নয়, শুধু টাকাকে। ঐ দিন রাস্তা দিয়ে আসতে শুনি ছোট ছেলে বাবার কাছে আবদার করছে “টাকা দাও। বাদাম খাব।” টাকা কথাটি সে উচ্চারণ করতে না পারলেও এর মর্যাদা সে সম্পূর্ণ উপলব্ধি করতে পেরেছে।

একটা গ্রাম্য প্রবাদ আছে। “টাকার নৌকা শুকনাতেও চলে।” অর্থাৎ টাকা দ্বারা অসাধ্য সাধন করা যায়। সত্যি কথা বলতে কি আধুনিক যুগে তাই দেখা যায় দিনের পর দিন জীবনযুদ্ধ কঠিনতর হচ্ছে। মানুষ টিকে থাকতে পারছে না। তাই আধুনিক সমাজের প্রতি পদক্ষেপে দুর্নীতি ঢুকছে- চোরাবাজারী ঢুকছে। মানুষ তার আদর্শ বিসর্জন দিয়েছে, বিসর্জন দিয়েছে চরিত্রকে। তাই আজ সত্য পথে থেকে ন্যায় পথ ধরে সব কাজ চলে না। টাকা হলেও অন্যায়ও ন্যায় হয়, অনুচিতও উচিত হয়। মানুষের আদর্শ গেছে বলেই টাকার আদর বেড়েছে। এই টাকার আদর যতদিন থাকবে, নৈতিক অধঃপতনও ততদিন চলতে থাকবে।

অনেক কিছুর মায়া কাটিয়েছে মানুষ; কিন্তু একটি জিনিসের মায়া কাটাতে পারেনি; সেটি টাকা। আর সবকিছু না হলেও চলে, টাকা না হলে চলে না। টাকার বেলায় আর কেউ ঠোঁট উল্টাইয়া বলে না, “আরে ভাই, এই তো জীবন, কি হবে টাকা দিয়ে।” বেঁচে থাকতে হলে টাকা প্রয়োজন। যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ টাকা। আয় কমেতো আয়ু কমে।

আমাদের আধুনিক সমাজে এমন কোনো কাজ নেই যা টাকা দ্বারা করানো যায় না। টাকা হলে সকল স্তরের কাজই সমাধা করা যায় “Money is the key to all success.” মনীষীরা বলে ”ধন গোময়ের মত।” সত্যিই এর উপেক্ষা বিরল। আমাদের এই কৃষি প্রধান দেশে গোময়ের মতো মূল্যবান জিনিস খুব কমই দেখা যায়। মাঠে গোময় ছড়ায়ে দিলে ফসল খুবই ভালো হয়। তেমনি টাকা সমাজে ছড়াইয়া দিলে জনকল্যাণ সাধিত হয়। আমি টাকা ভালোবাসি। কারণ হাতে টাকা থাকলে আমি সেই টাকা জনকল্যাণ সাধিত করব, আধুনিক যুগে টাকা ছাড়া কিছুই হয় না। টাকা হলে আমি প্রথমে আমার ভোগ চরিতার্থ করব। বাড়ি করব, গাড়ি করব, ভবিষ্যতে নিরাপত্তার জন্য ব্যবসা করব। তারপর করব গ্রামের উন্নতি। রাস্তা-ঘাট, হাসপাতাল ইত্যাদি করব। আমি স্বার্থপর ভোগী মানুষ। আমি ভোগ চরিতার্থ না করে আমি জনকল্যাণ-সাধন করতে পারব না।

আমি টাকার অভাবে মানুষকে কষ্ট পেতে দেখেছি। না খেয়ে পথে মরতে দেখেছি। টাকার অভাবে চাল কিনে বাড়ি যেতে পারেনি বলে আমি অল্প টাকা বেতনের সাধারণ পিয়নকে গলায় দড়ি দিয়ে মরতে দেখেছি। টাকার মূল্য আম বুঝি। টাকাই জগতে কেন্দ্রীভূত শক্তি। সেই শক্তিই পরম শক্তি। আমি সেই শক্তিতে শক্তিশালী হতে চাই। আমি টাকা চাই- টাকা আর টাকা। “Money is sweeter than honey.”

No comments