My All Garbage

Shuchi Potro
সাধারণ জ্ঞান অ্যাসাইনমেন্ট-২০২১ বাংলা রচনা সমগ্র ভাবসম্প্রসারণ তালিকা অনুচ্ছেদ চিঠি-পত্র ও দরখাস্ত প্রতিবেদন প্রণয়ন অভিজ্ঞতা বর্ণনা সারাংশ সারমর্ম খুদে গল্প ব্যাকরণ Composition / Essay Paragraph Letter, Application & Email Dialogue List Completing Story Report Writing Graphs & Charts English Note / Grammar পুঞ্জ সংগ্রহ বই পোকা হ য ব র ল তথ্যকোষ পাঠ্যপুস্তক CV & Job Application বিজয় বাংলা টাইপিং My Study Note আমার কলম সাফল্যের পথে
About Contact Service Privacy Terms Disclaimer Earn Money


বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সহায়ক ওয়েব সাইট

ভাবসম্প্রসারণ : স্বার্থক জনম আমার জন্মেছি এ দেশে / স্বার্থক জনম মা গো, তোমায় ভালোবেসে।

স্বার্থক জনম আমার জন্মেছি এ দেশে 
স্বার্থক জনম মা গো, তোমায় ভালোবেসে। 

মূলভাব : জন্মভূমির প্রতি টান, হৃদয়ের টান। তাতে আছে আত্মিক বন্ধন। এ জননী সদৃশ্য জন্মভূমি সম্বন্ধে আমাদের দেশের প্রাচীন সাহিত্যে বলেছে- ‘জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী।’ এই কালের কবি রবীন্দ্রনাথও বলেছেন : 
‘ও আমার দেশের মাটি, তোমার পরে ঠেকাই মাথা 
তোমাতে বিশ্বময়ীর তোমাতে বিশ্ব মায়ের আঁচল পাতা।’ 

সম্প্রসারিত ভাব : জননী আমাদের জন্মযাত্রী ও ধাত্রী। নিজের জীবন তুচ্ছ করে অসহনীয় কষ্ট সয়ে তিনি আমাদের পৃথিবীর আলো দেখান। তিনি আমাদের লালন-পালন করেন। জগতের সাথে প্রথম পরিচয়ের সূত্রই তো মা। তার স্নেহধারা আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে অনুভব করি। জননীর মত জন্মভূমিও আমাদের বরণীয় ও পূজ্য। জননীর মত অনেক গুণেই তিনি আমাদের জীবন সিক্ত করেন। ভূমিষ্ঠের পর চোখ মেলে যে দেশ দেখলাম, যে দেশ দিল আলো, যে দেশের বাতাস বুক ভরে নিলাম, যে দেশ নিবৃত্ত করল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা, দিল লজ্জা নিবারণের বস্ত্র সে দেশ তো শুধু নিছক ভূখণ্ড নয় -এতো আর এক মা -আমাদের জন্মভূমি। স্বদেশের মানুষ, স্বদেশের রূপবৈচিত্র্য, স্বদেশের পশুপাখি, স্বদেশের গাছপালা, স্বদেশের ধূলিকণা তাই তার সন্তানের কাছে আপন, পরম প্রিয়। নিজের দেশের কাছে, জন্মভূমির কাছে প্রতিটি মানুষ আজন্ম ঋণী। যে দেশে সে জন্মেছে, যার ‘চিন্ময়ী মূর্তির চির অধিষ্ঠান’ তার আশা-ভালোবাসার মোড়কে তাকে সে সেবায়, দশের মঙ্গল কামনায় ও আত্মোৎসর্গে সার্থক করে তোলে। 

এ মানবিক গুণে জন্মভূমি হয়ে উঠে জননী। স্বর্গ অলীক কল্পনা হলেও জননী ও জন্মভূমি আমাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বিষয়। তাই আমাদের কাছে স্বর্গের চেয়ে জন্মভূমি অধিকতর বরণীয়া ও আকর্ষণীয়া।


এই ভাবসম্প্রসারণটি অন্য বই থেকেও সংগ্রহ করে দেয়া হলো


মূলভাব : ‘জননী জন্মভূমি স্বর্গাদপী গরিয়সী।’ জননী জন্মভূমি স্বর্গের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। দুনিয়ায় জন্মভূমি-ই সবার চেয়ে অধিক প্রিয়। তার ভালোবাসায় জীবনও ধন্য। তার ধন, দৌলত, রূপ-ঐশ্বর্য থাক বা না থাক, তার কোলে প্রাণ জুড়ায়, মন স্বস্তি পায়, স্নিগ্ধ হয়। তাই জন্মভূমিকে ভালোবেসে জীবনকে সার্থক করে তোলাই হচ্ছে জীবনের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য। 

সম্প্রসারিত ভাব : কবি লেখকেরা জন্মভূমিকে স্বর্গের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলে আখ্যায়িত করে গেছেন। জন্মভূমির বুকে স্বর্গের মত সুখ অনুভব করা যায়। অনেকেই জন্মভূমিকে জননীর সাথে তুলনা করেছেন। জননী আর জন্মভূমি একাকার হয়ে মিশে আছে। জননীকে যেমন আমরা ভালোবাসি, তার কাছে আমরা যেমন সুখ খুঁজে পাই, তেমনি জন্মভূমির কাছেও আমরা তেমন স্বর্গীয় সুখ অনুভব করি। সন্তানের কাছে মা যেমন আপনজন তেমনি জন্মভূমিও প্রত্যেক মানুষের কাছে অতি আপন। জননীর কাছে যেমন সন্তান তার সমস্ত শান্তি খুঁজে পায়, তেমনি জন্মভূমির কাছে আমরা খুঁজে পেতে পারি অনাবিল আনন্দ এবং সুখ। তাই আমরা জননীর সাথে জন্মভূমিকেও স্বর্গের সাথে তুলনা করতে পারি। যে ভূমিতে মা সন্তান জন্ম দেয় তার কাছে সে ভূমিই তার জন্মভূমি। আর সেই জন্মভূমি বা মাতৃভূমি প্রত্যেকের কাছে অতি আপনজন। এ জন্মভূমির বুকেই তার বেড়ে উঠা, জন্মভূমির আলো, বাতাস সব কিছু গ্রহণ করে তার বেঁচে থাকা। আর এ জন্মভূমিকে মানুষ ভালো না বেসে থাকতে পারে না। মায়ের মতোই জন্মভূমিকে আমরা ভালোবেসে ধন্য হই। এ জন্মভূমিই মানুষের বেঁচে থাকার প্রেরণা যোগায়। এ জন্মভূমির বুকে ফসল ফলায়। সেই ফসল মানুষের বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফুল, ফল, গাছপালা সবকিছুই আমরা মার্তৃভূমির কাছ থেকেই পেয়ে থাকি। অর্থাৎ মানুষের বেঁচে থাকা, তার যাবতীয় কর্মকাণ্ড, সবকিছুই জন্মভূমির অবদান। তাই যার যার জন্মভূমি তার কাছে অতি আপন, অতিপ্রিয়। নিজের বাড়ির মতোই নিজের জন্মভূমি পরিচিত। এখানে সে স্বাধীনভাবে বিচরণ করতে পারে, যা খুশী তাই করতে পারে। কিন্তু পরদেশে সেটা সম্ভব নয়। সেখানে প্রতি পদে পদে বাধা বিপত্তি আসে। তাই নিজের দেশকে ভালোবেসে মানুষ হাসি মুখে মৃত্যুবরণ করতে পারে। যারা নিজের জন্মভূমিকে ভালোনা বেসে, অন্যের জন্মভূমি বা অন্য দেশকে ভালোবেসে সুখ খুঁজতে চায়, তারা প্রকৃত সুখ অর্জন করতে পারে না। এক পর্যায়ে তারা নিজের মাতৃভূমির কাছে ফিরে আসার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়ে। কারণ নিজের দেশের বা নিজ জন্মভূমির সবকিছুই তার অতি প্রিয়। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ তার কবিতায় নিজভূমিকে ভালোবেসে এভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন যে- 

তাই প্রত্যেকের নিজের দেশকে ভালোবেসে সার্থক হওয়া উচিত। আর জন্মভূমিকে ভালোবেসে যদি তার মৃত্যুও হয় তবুও সেই মৃত্যু স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে থাকবে আর এখানেই প্রকৃত সুখ ও সার্থকতা লুকায়িত রয়েছে।

No comments