প্রবন্ধ রচনা : সুন্দরবন
| History | 📡 Page Views |
|---|---|
|
Published 24-Jul-2018 | 03:50 PM |
Total View 116K |
|
Last Updated 01-Jun-2025 | 01:03 PM |
Today View 2 |
ভূমিকা : সুন্দরবন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন বা লোনা পানির বন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর ঐশ্বর্যের অপূর্ব লীলাভূমি এ বন। সুন্দরবনে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সুন্দরী গাছ। আর এ বনের নাম অনুসারে বনের নামকরণ করা হয়েছে সুন্দরবন। এ বনে বাস করে পৃথিবীর বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার। তাই এ বন দিয়ে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশে পরিচিতি ও ব্যাপক। জীববৈচিত্র্য আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ চমৎকার এক বন এ সুন্দরবন।
সুন্দরবনের ভূতত্ত্ব, মৃত্তিকা ও জলবায়ু : হিমালয় পর্বতের ভূমি ক্ষয়জনিত জমা পলি মাটি থেকে সুন্দরবনের ভূভাগ সৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব দিকটি ক্রমেই ঢালু হচ্ছে। বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ মৃত্তিকার তুলনায় সুন্দরবনের মৃত্তিকা একটু ভিন্ন। সুন্দরবনের মৃত্তিকা পলিযুক্ত দোআঁশ মাটি। জোয়ার-ভাটার কারণে এখানে পানি লবণাক্ত। সুন্দরবনের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩০° এবং সর্বনিম্ন ২১°।
সুন্দরবনের আয়তন ও অবস্থান : সুন্দরবনের মোট আয়াতন ১৩৯৫০০ হেক্টর বা ৩৪৫০০ একর (তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া) এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন বা লোনাপানির বন। সুন্দরবনের প্রায় ৬২ ভাগ বা ৬০১৭ বর্গ কি:মি: রয়েছে বাংলাদেশের মধ্যে। আর বাকি অংশ ভারতের মধ্যে পড়েছে। এ বনভূমির মোট ৩১.১ শতাংশ এলাকা জলাজীর্ণ।
বাংলাদেশের খুলনা, সাতক্ষীরা, বাঘেরহাট, দক্ষিণে বিশাল বঙ্গোপসাগর, হরিণঘাট নদী, বরিশাল ও পিরোজপুর জেলা, পশ্চিমে রাইমঙ্গল, হাড়িয়াভাঙ্গা নদী ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আংশিক প্রান্ত সীমানা জুড়ে সুন্দরবনের অবস্থান। অক্ষাংশের হিসাবে ভারত ও বাংলাদেশ উপকূল ধরে বিস্তৃত ২১°৩০′ - ২২°৩০′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯°০০-৮৯°৫৫ পূর্ব দ্রাঘিমার মধ্যবর্তী স্থানে এ বনের অবস্থান। নানা ধরনের জীবজন্তু আর গাছপালা দ্বারা সজ্জিত এ বন।
সুন্দরবনের উদ্ভিদ : সুন্দরবন যেন উদ্ভিদের মিলনকেন্দ্র। সরকারি জরিপ অনুসারে, এ বনে ২৪৫ শ্রেণি ও ৩৩৪ প্রজাতির বৃক্ষ রয়েছে। এ বনের প্রধান উদ্ভিদ সুন্দরী গাছ। এ গাছের নামানুসারেই বনের নামকরণ করা হয়েছে। এছাড়া রয়েছে গেওয়া, কেওড়া, পশুর, বাইন, সেগুন, আমলকীসহ নানা ধরনের ফল ও ঔষধি গাছ; যা আমাদের দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে অসীম ভূমিকা রাখছে।
সুন্দরবনের প্রাণী : প্রাণী ব্যতীত বনের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। সুন্দরবনে প্রচুর পরিমাণে প্রাণী রয়েছে। বনে ১২০ প্রজাতির মাছ, ২৭০ প্রজাতির পাখি, ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ৮ প্রজাতির উভচর প্রাণী রয়েছে। সুন্দরবনের কথা বললেই বাঘের কথা মনে হয়। আর এসব বাঘের মধ্যে পৃথিবীতে সবচেয়ে বিখ্যাত রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। যার একমাত্র আবাসস্থল সুন্দরবন। এছাড়া এক সময় প্রচুর পরিমাণে চিতাবাঘ ছিল এ বনে। বাঘের পরেই সুন্দরবনে হরিণের প্রভাব বেশি। সুন্দরবনে বেশ কয়েক প্রজাতির হরিণ রয়েছে। এগুলো হলো- মায়াহরিণ, চিত্রা হরিণ, বারোশিঙা হরিণ, সাম্বার জাতের হরিণ, ঘাস-পাতা খেয়েই এরা জীবন ধারণ করে। পাখির জন্যও সুন্দরবন বিখ্যাত; যা প্রতিনিয়ত বনের মধ্যে কিচির-মিচির আওয়াজ তোলে। সুন্দরবনের পাখির মধ্যে রয়েছে- শালিক, ময়না, ঘুঘু, টিয়া, টুনটুনি, শকুন, ফিঙে, মাছরাঙা, বুনো-কবুতর, বন্য মোরগসহ আরো নানা জাতের পাখি। সুন্দরবনে গাছে গাছে সবচেয়ে নজর কাড়ে মৌচাক। এ মৌচাকে অগণিত মৌমাছিরা মধু জমা করে। মৌওয়ালারা এ মধু সংগ্রহ করে। সারা দেশে সুন্দরবনের মধুর বেশ সুনাম রয়েছে। উপরের বর্ণিত প্রাণীগুলো ছাড়া সুন্দর বনে অসংখ্য প্রাণী রয়েছে; যা এ বনকে করেছে সমৃদ্ধ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষের কারণে সুন্দরবনের অনেক প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। আর এভাবে চলতে থাকলে হয়তো কয়েক দশক পরে সুন্দরবনে প্রাণীর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ায় মুশকিল হয়ে পড়বে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুন্দরবনের অবস্থান : সুন্দরবন জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি দেশের বনজ সম্পদের সর্ববৃহৎ উৎস। কাঠের উপর নির্ভরশীল শিল্পে কাঁচামালের জোগান দেয় সুন্দরবন। খুলনা নিউজপ্রিন্ট ও হার্ডবোর্ড মিলস্ সুন্দরবনের বনজ সম্পদকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এছাড়া কাঠ, জ্বালানি ও মণ্ড ইত্যাদি সম্পদ আমরা সুন্দরবন থেকে পেয়ে থাকি। এই বন থেকে পাওয়া যায় গোলপাতা, মধু, মোম। এ বনের প্রবাহমান নদী থেকে নিয়মিত আহরণ করা হয় মাছ, কাঁকড়া ও শামুক-ঝিনুক। ঝিনুক-শামুক থেকে খাবার চুন তৈরি করা হয়।
সুন্দরবনের বর্তমান অবস্থা : বর্তমানে সুন্দরবনের প্রাণিকুল ধ্বংসের মুখে। মানুষ্যসৃষ্ট কারণে সুন্দরবন ধ্বংস হচ্ছে। অবাধে বৃক্ষনিধন, পশু শিকার ও মানুষের পরিবেশবিরোধী কার্যকলাপ সুন্দরবনের প্রাকৃতিক বৈচিত্র ধ্বংস করছে। সম্প্রতি শ্যালা নদীতে তেল ট্যাংকার দুর্ঘটনার কারণে বিপর্যস্ত হয়েছে সুন্দর বনের পরিবেশ। ইতোমধ্যে ভরা পূর্ণিমায় শক্তিশালী জোয়ারে তেল বনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে, কোথাও কোথাও শ্বাসমূলসমূলে তেলের আস্তরণে ঢাকা পড়েছে। বনের নিম্নাঞ্চল ও খালসমূহে তেলের অস্তিত্ব চোখে পড়ে। মৃত কাঁকড়া, মাছ, জলজপ্রাণী পানিতে ভেসে ওঠে। এই বিষাক্ত পানি পান করে অনেক পাখি ও বিরল প্রাণী প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, ওরিয়র বিদ্যুৎকেন্দ্র, সরকারি সাইলো গুদাম বনের পরিবেশকে প্রতিনিয়ত ধ্বংস করছে।
উপসংহার : বাংলাদেশের জলবায়ুর উপর সুন্দরবনের একটি বিরাট প্রভাব রয়েছে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ক্রমান্বয়ে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। প্রাণিজগৎ বিলুপ্ত হয়ে গেলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে। প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সরকারের আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত এবং আমাদের সুন্দরবনের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত। দল-মত নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে আমাদের সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হবে।
Leave a Comment (Text or Voice)
Comments (18)
রচনাটা ভালো হয়েছে কিন্তু, আর কয়টা পয়েন্ট যোগ করলে আরো ভালো হতো যেমন - সুন্দরবনের পরিবহন ব্যবস্থা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সুন্দরবনের জনবসতি ও জন্যসংখ্যার সংক্ষিপ্ত পরিচয়,,,,,,, এগুলাই 🙏🏻
Onek boro
সুন্দরবনের প্রাণী, সুন্দরবনের পাখি, সুন্দরবনের মাছ। আলাদা করে লিখলে প্যারা বেড়ে যাবে। আয়তন ও অবস্থানটাও আলাদা করা যায়।
It's just perfect for my project
Nice
Rochonata aro dui point beshi hole Bhalobasha goto😔
Easy fizy, I'm gonna be dizy!
aro?!
ভাল রচনা দিয়েছেন। আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের ছাত্র জীবনে আপনাদের ভূমিকা অনেক।
সুন্দর বনের বিচিএ রূপ ফুটে ওঠেছে রচনাটিতে
সুন্দরবনের সব বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।।।😍😍😍
আরো প্যারা দিলে ভালো হতো
Onek valo rochona, thanks
best rochona amar jonno. haha lol
Onek Boro rochona
😱😱
বরশা দিল ত্রিনমুল জরাফুল
সুন্দর
হয়েছে
সুন্দরবনের সৌন্দর্য রচনাটিতে ফুটে উঠেছে