বইয়ে খোঁজার সময় নাই
সব কিছু এখানেই পাই
Install "My All Garbage" App to SAVE content in your mobile

ভাবসম্প্রসারণ : বিত্ত হতে চিত্ত বড়

বিত্ত হতে চিত্ত বড় 

মূলভাব : বিত্ত শব্দের আভিধানিক অর্থ- ‘ধন’, ‘সম্পদ’। অপরদিকে ‘চিত্ত’ শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘হৃদয়’, ‘অন্তকরণ’। পার্থিব মানুষের কাছে আপাতদৃষ্টিতে বিত্ত বড়ই লোভনীয়, কাম্য। কিন্তু একটু তলিয়ে দেখলে বেশ অনুভব করা যায় মানুষ আজকে যখন অর্থের পাহাড় তৈরি করে নিজেদের মধ্যে ভেদাবেদ সৃষ্টি করছে, তখন মলিনতাই বাড়ছে। 

সম্প্রসারিত ভাব : সুখ-সম্পদের প্রাচুর্য জড় করে আমরা আজ মনের মুক্তিকে অনুসন্ধান করে চলেছি। পাশ্চাত্যের দিকে তাকালে দেখব, পার্থিব উপকরণের সেখানে অভাব নেই, চিত্তের থেকে বিত্তেরই সেখানে প্রাধান্য। তবু তারা চিত্তমুক্তির অভাবে হতাশাগ্রস্ত। মানুষ হিসেবে তারা আঁকড়ে ধরতে চাইছেন। ত্যাগের মাধ্যমেই আসে ভোগের সার্থকতা। কাজেই মন যখন প্রসন্নভাবে মনুষ্যত্বকে একমাত্র মূলধনরূপে গ্রহণ করে বিলাস সামগ্রীর পরিমাণে সে বদ্ধ হয় না। আবার বিষয়বোধের জন্য যে প্রেরণা জাগে, তাতে মানুষ মানুষকে ঘৃণা করে। অথচ চিত্তের ঐশ্বর্যে যিনি ধনী তিনি সংকটের মুখোমুখি হন না। বুদ্ধদেব, শ্রীচৈতন্য পার্থিব সুখ ভোগ ছেড়ে পথের মানুষের জন্য ভিক্ষাব্রত নিয়েছেন। পৃথিবীর বুকে কত রাজা, কে মনে রেখেছে? অন্যদিকে বিত্তের হাতছানিকে তুচ্ছ করে যাঁরা চিত্তমুক্তির পতে পা বাড়িয়েছেন, মানবসভ্যতার ইতিহাসে তারাই প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে আছেন। 

কাজেই আমরা যদি বাইরের চাকচিক্যের চেয়ে অন্তরের মহত্ত্বকে বড় বলে জ্ঞান করি, তাহলে পাশ্চাত্যের মত ভবিষ্যতে আমাদের হতাশার শিকার হতে হবে না।

No comments