বইয়ে খোঁজার সময় নাই
সব কিছু এখানেই পাই
Install "My All Garbage" App to SAVE content in your mobile

ভাবসম্প্রসারণ : প্রীতিহীন হৃদয় আর প্রত্যয়হীন কর্ম দুই-ই অসার্থক

প্রীতিহীন হৃদয় আর প্রত্যয়হীন কর্ম দুই-ই অসার্থক

মূলভাব : মানুষ সৃষ্টির সেরা। জ্ঞান কর্মে পুণ্য প্রীতিতে মানুষ তার জীবনকে সার্থক করে তোলে। বাঁচার জন্য মানুষ নিরবে সংগ্রাম করে। মানুষের বেঁচে থাকা তখন সার্থক হয়, যখন সে প্রীতির পরশে আপন আলয়ে স্বর্গ রচনা করতে পারে। ভোগ, ঐশ্বর্য, ক্ষমতা মানুষের কাম্য হতে পারে। কিন্তু এতে প্রকৃত সুখ নেই। মানুষ সুখ পায় প্রীতিময় সংসারে মমতাময় অনুভবে।

সম্প্রসারিত ভাব : স্বর্গ ও নরক মানুষের মাঝেই বিদ্যমান। তাই কবি যথার্থ বলেছেন,
‘প্রীতি-প্রেমের পুণ্য বাঁধনে
যবে মিলি পরস্পরে, স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখন
আমাদেরি কুঁড়ি ঘরে।’

প্রীতি মানুষের জীবনে স্বর্গসুখ এনে দেয়। যে হৃদয়ে প্রীতি নেই, প্রেম নেই সে হৃদয় নিষ্ঠুর, নির্মম। বিধাতা মানুষকে বিবেক দিয়েছেন ভালোবাসার মাঝে এক সুন্দর জীবন গড়ে তোলার জন্য। মানুষ জীবনে ও কর্মে সার্থক হয় তখনই, যখন প্রীতিপ্রেমের পুণ্য বাধনে সে বাঁধা পড়ে। প্রীতিহীন যে হৃদয় সে হৃদয়ে শান্তি ও সুখ থাকতে পারে না। শান্তি ও সুখের জন্য তথা সুষ্ঠুভাবে বেঁচে থাকার জন্য কর্ম করতে হয় এবং প্রতিটি কর্মই করতে হয় দৃঢ় প্রত্যয়ে। কারণ কোন কাজ যদি অর্ধপথে পরিত্যক্ত হয়, তাহলে শ্রম, অর্থ, সময় সবই নষ্ট হয়। একনিষ্ঠভাবে সফল হওয়ার প্রতিজ্ঞায় দৃঢ় হয়ে কোন কাজে হাত দিলে সে কাজ সুষ্ঠুভাবে সমাধা হবে। লক্ষ্যহীন পরিণামহীন কর্ম মানুষকে গৌরব বা কৃতিত্ব কোনটিই এনে দিতে পারে না। তাই, লক্ষ্য স্থির করে অধিক মনোবল নিয়ে কর্ম সম্পাদনে অগ্রসর হতে হবে।

এজগতে মানুষ ভালো কাজের মাধ্যমে স্বর্গের সুধা এবং খারাপ কাজের মাধ্যমে নরকের যন্ত্রণা ভোগ করে থাকে শান্তি আর করুণার সুর যদি পৃথিবীতে নেমে আসে, তাহলে জীবন স্বর্গীয় ও স্বার্থক হয়ে উঠবে।

No comments