My All Garbage

Shuchi Potro
সাধারণ জ্ঞান বাংলা ব্যাকরণ বাংলা রচনা সমগ্র ভাবসম্প্রসারণ তালিকা অনুচ্ছেদ চিঠি-পত্র ও দরখাস্ত প্রতিবেদন প্রণয়ন অভিজ্ঞতা বর্ণনা সারাংশ সারমর্ম খুদে গল্প ভাষণ লিখন দিনলিপি সংলাপ অ্যাসাইনমেন্ট-২০২১ English Grammar Composition / Essay Paragraph Letter, Application & Email Dialogue List Completing Story Report Writing Graphs & Charts পুঞ্জ সংগ্রহ বই পোকা হ য ব র ল তথ্যকোষ পাঠ্যপুস্তক CV & Job Application My Study Note আমার কলম সাফল্যের পথে
About Contact Service Privacy Terms Disclaimer Earn Money


বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সহায়ক ওয়েবসাইট

ভাবসম্প্রসারণ : পাপীকে নয়, পাপকে ঘৃণা কর

পাপীকে নয়, পাপকে ঘৃণা কর

পাপ পুণ্য মিলেই এ দুনিয়া। পাপ অপবিত্র কিন্তু পাপী অপবিত্র নয়। কেননা, সে পাপ কলুষিত। তাই পাপীকে নয় বরং পাপকে ঘৃণা করতে হবে।

পাপ বলতে আমরা অন্যায় অবিহিত কাজ, অধর্মকে বুঝি। যে অন্যায় কাজ, অধর্মের কাজ করে, তাকে আমরা পাপী বলি। সাধারণভাবে আমরা পাপ ও পাপী উভয়কেই ঘৃণা করি; কিন্তু এটা ঠিক নয়। পাপ অবশ্যই ঘৃণার কাজ, কারও জন্যই তা বাঞ্ছনীয় নয়। পাপের ফলে মানুষের ইহকাল ও পরকাল দু-ই নষ্ট হয়। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। পৃথিবীতে যখন একটি শিশু ভূমিষ্ঠ হয় তখন সে থাকে নিষ্পাপ। তার বয়োবৃদ্ধির সাথে সাথে চাওয়া-পাওয়ার প্রসার ঘটে। না চাইতেই যে পায় সে হয়ত এ সংঘাতকে এড়াতে পারে। কিন্তু যে শিশু অন্মের পর থেকে বা পরবর্তীতে বিরূপ পরিবেশে বড় হয়, দুঃখকষ্ট, ক্ষুধা আর নির্যাতনের সাথে যার বাস, জীবনের প্রয়োজনে তার পক্ষে সমাজের নিষিদ্ধ পথে, পাপের পঙ্কিল পথে পা বাড়ানো অস্বাভাবিক নয়। বাধ্য হয়েই সে পাপী হয। কিন্তু জন্মের সময় তো সে পাপী ছিল না। বরং পরিবেশের প্রতিকূলতাই তাকে পাপী করেছে। অনুকূল পরিবেশ পেলে; স্নেহের, ভালোবাসার একটু পরশ পেলে হয়তো বা তার হৃদয়ে সৃষ্টি হতে পারে অনুতাপের অমিয় ধারা।

এ জগতে এমন অনেক উদাহরণ আছে, যাঁরা জীবনের একটি সময়ে অনেক পাপ কাজ করেছেন কিন্তু পরবর্তী জীবনে তাঁরাই মানবকুলের শিরোমণি হিসেবে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করেছেন। উদাহরণ হিসেবে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর (রা.)-এর কথা বলা যায় যিনি ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে হত্যার জন্য ‍উন্মুক্ত তরবারি নিয়ে হযরত (স.)-এর দিকে ছুটে গিয়েছিলেন কিন্তু পরবর্তী জীবনে তিনি হয়েছেন আদর্শ পুরুষ। তাই পাপীকে ঘৃণা করে সমাজকে কলুষমুক্ত করা সম্ভব নয়। সেজন্যই পবিত্র হাদিসে বলা হয়েছে, ”তোমাদের মধ্যে কেউ কোনো পাপকার্য অনুষ্ঠিত হতে দেখলে সে যেন হাত দিয়ে তাকে বাধ দেয়; নয়তো মুখ দিয়ে তা নিষেধ করে। আর যদি তাও না পারে তবে যেন অন্তত অন্তর দিয়ে সেই পাপকার্যকে ঘৃণা করে।” পাপ তাই সর্বদা বর্জনীয়; কিন্তু পাপীকে বর্জন করা বা ঘৃণা করা ঠিক নয়। কেননা মানুষ অনেক সময়ই পাপ করে নানা কারণে বা অবস্থার বিপাকে পড়ে। ইচ্ছা করে হয়তো সে তা করে নি। অথবা অজ্ঞতার কারণে কিংবা অভাব অনটনে পড়ে বা রিপুর তাড়নায় বাধ্য হয়ে সে পাপ করেছে। অনেকে পরিণাম না বুঝে অনেক কাজ করে যা অত্যন্ত খারাপ, কিন্তু তাদের বুঝিয়ে বললে তখন সে পাপের জন্য তারা অনুশোচনা করে, অনুতপ্ত হয়। এমতাবস্থায় পাপীকে ঘৃণা করা কখনো ঠিক নয়। বরং ক্ষমা করে মহত্ত্ব দিয়ে পাপীকে কাছে টেনে নিলে পাপীও পাপের পথ ছেড়ে সুপথে ফিরে আসে। মহনবী হযরত মুহম্মদ (স.) তাঁর অশেষ ক্ষমাগুণ দিয়ে পাপীকে সৎপথে ফিরিয়ে এনেছিলেন।

পাপীকে ঘৃণা করা যাবে না। পাপকে ঘৃণা করতে হবে, পাপীকে ক্ষমার মাধ্যমে সুপথে ফিরিয়ে আনতে হবে।


এই ভাবসম্প্রসারণটি অন্য বই থেকেও সংগ্রহ করে দেয়া হলো


পাপ-পূণ্য বা ন্যায়-অন্যায় নিয়েই আমাজের কর্মজীবন। যিনি পাপ করেন তিনিই পাপী। তার নিজ কর্মের জন্য পাপী যতটা না দায়ী তার চেয়ে বেশি দায়ী তার সমাজবাস্তবতা। তাই পাপীকে দোষ না দিয়ে পাপকে ঘৃণা করাই উত্তম কাজ।

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। আর এ শ্রেষ্ঠত্বের প্রধান কারণ মানুষের বিবেক-বুদ্ধি আছে, যা অন্য কোন জীবের নেই। এ বিবেকের কারণেই মানুষ ভাল-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় বোঝতে সক্ষম হয়। বিবেক মানুষকে সত্যের পথে পরিচালিত করে, অন্যায় কাজে বাধা দেয। বিবেকের কারণেই মানুষ সকল অপরাধমূলক কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকে। এই অপরাধমূলক কার্যকলাপই পাপ নামে অভিহিত হয়। যেসব ব্যক্তি পাপাচারে লিপ্ত হয় তারাই পাপী। মানুষ সাধারণত পাপীকে ঘৃণা করে। কিন্তু পাপীকে ঘৃণা না করে পাপকে ঘৃণা করাই সমচীন। কেননা, পাপী অন্যান্যদের মতোই একজন সাধারণ মানুষ। তার পাপী হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে যে, সামাজিক প্রতিকূলতাই তার এই পাপ কার্যের পেছনে নিহিত। জীবন সংগ্রামমুখর। সংগ্রাম করেই মানুষকে প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে টিকে থাকতে হয়। জীবনকে গতিশীল রাখার জন্য মানুষ অনেক সময় খারপ পথে ধাবিত হয়। জীবিকার তাগিদেই মানুষকে অনেক সময় খারাপ কাজের আশ্রয় নিতে হয়। জীবিকার তাগিদেই মানুষকে বেছে নিতে হয় নানা কূটকৌশল, হত্যা, প্রতারণা, শঠতার মতো বীভৎস কার্যক্রম। মানুষ কখনো স্বেচ্ছায় এসব কাজে জড়ায় না বা জড়াতে পারে না। তার অস্তিত্বের সংকট কিংবা প্রতিকূল পারিপার্শ্বিকতাই তাকে এ পথে ঠেলে দেয়। তখন সে তার কামনা চরিতার্থ করার জন্য কিংবা দারিদ্র্য থেকে মুক্তির আশায় কিংবা স্বার্থ সিদ্ধির আশায় নিজের বিবেক-বুদ্ধি জলাঞ্জলি দিয়ে পাপের পথ অনুসরণ করে। পরিণতিতে সে হয়ে পড়ে পাপী। এ অবস্থায় তার বিবেক-বুদ্ধি লোপ পায় বলে তার কোন হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। কিন্তু যখনই তার হিতাহিত জ্ঞান ফিরে আসে এবং বিবেকের পুনর্জারণ ঘটে তখনই সে তার অতীত পাপের জন্য অনুতপ্ত হৃদয়ে অনুশোচনার জন্য যেকোন শাস্তি মাথা পেতে নিতে দ্বিধাবোধ করে না। তাই এসব মানুষকে ঘৃণা করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাতে পাপী ব্যক্তিটির সুপথে আসার পথ বন্ধ হয়ে যায়। অপরপক্ষে যদি সেই খারাপ কর্মটিকে তথা পাপকে ঘৃণা করা যায় তাহলে মানুষ আর সে পথে ধাবিত হবে না। পাপ আছে বলেই পাপীর সৃষ্টি। তাই প্রথমেই উচিত সমাজকে পাপমুক্ত করা। সমাজে পাপ না থাকলে পাপীর জন্ম হবে না।

মানুষকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। পাপকে ঘৃণা করেই পাপ নির্মূল সম্ভব। পাপীকে ঘৃণা করলে পাপ আরো বেড়েই চলে।

1 comment:


Show Comments