My All Garbage

Shuchi Potro
সাধারণ জ্ঞান অ্যাসাইনমেন্ট-২০২১ বাংলা রচনা সমগ্র ভাবসম্প্রসারণ তালিকা অনুচ্ছেদ চিঠি-পত্র ও দরখাস্ত প্রতিবেদন প্রণয়ন অভিজ্ঞতা বর্ণনা সারাংশ সারমর্ম খুদে গল্প ব্যাকরণ Composition / Essay Paragraph Letter, Application & Email Dialogue List Completing Story Report Writing Graphs & Charts English Note / Grammar পুঞ্জ সংগ্রহ বই পোকা হ য ব র ল তথ্যকোষ পাঠ্যপুস্তক CV & Job Application বিজয় বাংলা টাইপিং My Study Note আমার কলম সাফল্যের পথে
About Contact Service Privacy Terms Disclaimer Earn Money


৫ অক্টোবর - বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সহায়ক ওয়েব সাইট

সুন্দরবন ভ্রমণের একদিনের অভিজ্ঞতা

সুন্দরবন ভ্রমণের একদিনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর।



খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখি হিমেল যাত্রার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলেছে। মাঝারি সাইজের একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা, প্রয়োজনীয় খাবার, ওষুধ, বৈঠা, লগি, দড়ি, দিয়াশলাই ইত্যাদি প্রস্তুত করে রাখা। ওদের এলাকার ৭ নং ফরেস্ট রেঞ্জ এর মধ্যে। তাই হিমেল ওর বাবাকে দিয়ে স্থানীয় ফরেস্ট অফিসারের কাছ থেকে বনের অধিক গভীরে প্রবেশ না করার শর্তেও সুন্দরবনের প্রবেশের একখানি অনুমতি পত্র জোগাড় করেছে। হিমেলের এলাকার আরো দুই বন্ধু আমাদের সফর সঙ্গী হলো। আমাদের নৌকাটি একটি ছোট নদীর ভেতর দিয়ে এগিয়ে চলছে। দুপাশে ম্যানগ্রোভ জাতীয় উদ্ভিদ চোখে পরলো। গেওয়া, কেওড়া, ওরা ইত্যাদি। ১ ঘন্টা চলার পর আমাদের নৌকা প্রবেশ করল একটা বড় নদীতে। হিমেল জানালো এর নাম হরিণ খালি নদী। নদীর ওপারেই সুন্দরবন। হরিণখালির অনেক শাখা নদী সুন্দরবনের ভেতরে প্রবেশ করেছে এবং তারই কোন একটা পথ দিয়ে আমাদের নৌকা সুন্দরবনে প্রবেশ করছে।

উপসাগরের কোলঘেঁষে প্রকৃতি আপন হাতে গড়ে তুলেছে বিশ্বের বিস্ময় রহস্য ঘেরা সুন্দরবনকে। এ বন বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। বাংলাদেশের মধ্যে এর বিস্তৃতি ৬ হাজার বর্গ কিলোমিটার। ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে সুন্দরবনকে স্বীকৃতি দেয়। এখানে রয়েছে পৃথিবী বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সুদৃশ্য চিত্রল হরিণ, বানর, হনুমান, অজগরসহ নানা প্রজাতির সাপ, কুমির এবং শতাধিক প্রজাতির বিভিন্ন আকৃতির রংবেরঙের পাখি। জরিপ মতে প্রায় ৫০০ বাঘ এবং ৩০ হাজার চিত্রল হরিণ রয়েছে সুন্দরবন এলাকায়।

প্রায় দু'ঘণ্টা হলো আমরা বনের ভেতর প্রবেশ করেছি, কিন্তু কোন হরিণ বা বানর এখনো চোখে পড়েনি, শুধু চেনা-অচেনা কয়েক প্রজাতির পাখি ছাড়া। আমাদের নৌকাটি বনের সেই গভীর নিরবতা ভেঙ্গে অনর্গল শব্দ করে এগিয়ে চলছিল। হঠাৎ হিমেল নৌকার ইঞ্জিন বন্ধ করে দিল। বলল, তীরে লক্ষ্য করো। ওর দৃষ্টি অনুসরণ করে দেখতে পেলাম একটি হরিণের পাল দৌঁড়ে পালাচ্ছে। নৌকা তীরে ভিড়িয়ে আমরা নামলাম। হিমেল বলল, বেশি দূরে যাওয়া যাবে না। যেহেতু হরিণ আছে এখানে, সেহেতু বাঘও থাকতে পারে। কাজেই আমাদের তাড়াতাড়ি নৌকায় ফিরতে হবে। এখানে সুন্দরী গাছের ঘনত্ব অন্যান্য গাছের তুলনায় একটু বেশি। যার কারণে আমাদের চলতে কষ্ট হচ্ছিল, তবুও চলছিলাম। প্রায় একঘন্টা বনের স্থল ভাগ ঘুরেছি। হরিণ বানরের পাশাপাশি দেখতে পেলাম অনেক রকমের পাখি, গুইসাপ, বন বিড়াল এবং গোলপাতা নামক এক বিশেষ ধরনের উদ্ভিদ। স্থানীয়রা এগুলো দিয়ে ঘরের চাল তৈরি করে। একদল মৌয়ালের সঙ্গে দেখা হলো। তারা মধু সংগ্রহ করছে বিশেষ প্রক্রিয়ায়। হিমেল তাড়া দিল ফেরার জন্য। অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমরা ফেরার পথ ধরলাম।

No comments