বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক বেড়ানোর অভিজ্ঞতা
| Article Stats | 📡 Page Views |
|---|---|
|
Reading Effort 346 words | 2 mins to read |
Total View 1.2K |
|
Last Updated 25-Mar-2023 | 06:36 AM |
Today View 0 |
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক বেড়ানোর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করো।
আমাদের বাস এগিয়ে চলছে গাজীপুরের দিকে। ঢাকার সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে
শিক্ষক-শিক্ষার্থী মিলিয়ে আমরা ৫০ জন এশিয়ার সর্ববৃহৎ 'বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক'
দেখতে যাচ্ছি। দুদিকে শালবন, মাঝে মাঝে বাতিঘর, সবুজ গ্রাম। বাস বাঘের বাজার
পৌঁছে বামদিকে টার্ন নিল, আরও তিন কিলোমিটার যেতে হবে। কাছাকাছি পৌঁছতেই পার্কের
ফটো আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করল। ৪০০ টাকা প্রবেশ ফি দিয়ে ভিতরে ঢুকেই চোখ
জুড়িয়ে গেল সারি সারি নানা বাহারি রঙের ফুলের গাছ দেখে। সামনে এগিয়ে যাওয়া
কয়েকজন ভয়ে দৌড় দিয়েছে বাঘ-সিংহ দেখে। স্যারদের একজন ওদের সামলে নিলেন। বললেন
এরপর দেখবে বাজপাখি, ক্যাঙ্গারু, ডায়নাসোর। ওগুলো জীবন্ত নয়, কাজেই ভয় নেই।
পার্কের প্রথমে বঙ্গবন্ধু স্কয়ার। এখানে দুই হাজার প্রজাতির মেরুদন্ডী ও
অমেরুদন্ডী প্রাণীর দেহাবশেষ স্পিসিমেন ও স্টাফিং করে রাখা হয়েছে। আমরা মনোযোগ
দিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখলাম এবং নতুন অনেক কিছু জানলাম। বন্য পরিবেশে বন্যপ্রাণীর
অবাধ বিচরণ দেখতে আমরা গাড়িতে করে কোর সাফারি পার্কে ঢুকলাম। ধীরে ধীরে গাড়ি
চলছে। দু দিক থেকে এগিয়ে এলো বাঘ আর সিংহ। থাবা মারলো। আমরা প্রথমে ভয় পেলেও
পরে মানিয়ে নিয়েছি। একটা চিতা বাঘ গাছে উঠছে। বাঁক ঘুরতে করতে দেখা গেলে
হরিনপালের সঙ্গে। একটু পরেই বন্য মোষ তেড়ে এলো আমাদের দিকে, আবার কি মনে করে
অন্যদিকে চলে গেল। একদিন জলাধারে দেখা গেল জলহস্তী ডুবে আছে, দুটো মাথা তুলে
আমাদের দেখল। গয়াল ও সাম্বার দেখলাম, কিন্তু নীলগাই দেখতে পেলাম না। সাফারি
পার্কে দেখা গেল আফ্রিকান জেব্রা আর জিরাফ। জিরাফ গাছের ডাল থেকে পাতা খাচ্ছে।
আরো ছোটখাট প্রানী চোখে পড়ল বেশকিছু। ঘন গাছ আর ঝোপের কারণে বেশি কিছু দেখা গেল
না। আমরা আবার ঢুকলাম পাখিশালায়। ছোট-বড় নানা আকারের, নানা রঙের পাখি আর তাদের
কিচিরমিচির শুনে কান ঝালাপালা হয়ে গেল। নাম দেখে দেখে তাদের কতগুলোকে চিনলাম এবং
ছেড়ে এলাম বায়োডাইভারসিটি পার্কে। এখানে রয়েছে নাম জানা অজানা বিচিত্র অসংখ্য
গাছ। নাম দেখে দেখে কিছু গাছ চিনলাম। বাটারফ্লাই পার্ক এর সময় কাটালাম বেশ
কিছুক্ষন। স্বপ্নে অঞ্জন মাখিয়ে দিল নানা রঙের প্রজাপতি। ভয়ে কেউ স্নেক পার্কে
যেতে রাজি হলাম না। ততক্ষণে বের হওয়ার সময় হয়ে গেছে। বাসে উঠতে তীব্র ক্ষুধা
অনুভব করলাম। বাঘের বাজারে এসে হোটেলে কিছু খেয়ে নিলাম। তারপর সাফারি পার্কের
অভিজ্ঞতার ডালি নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করলাম।
Leave a Comment (Text or Voice)
Comments (0)