বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সহায়ক ওয়েব সাইট

সে ক্লান্তি ছাড়া ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ে কিভাবে?

পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে কিংবা অধিক সময় পড়ালেখা করতে সাহায্য নিতে পারেন নিম্নের পন্থাগুলো –

।।এক।।
পড়াশোনা করার জন্য প্রথম শর্ত হওয়া উচিত উপযুক্ত জায়গা বাছাই করা। কারন জায়গা নির্বাচন উপযুক্ত না হলে আপনার পড়ালেখায় মনোযোগ বসবে না। বৈজ্ঞানিক তথ্য মতে — প্রচুর আলো বাতাস পাওয়া যায় এমন জায়গা পড়ার জন্য উপযুক্ত।রতাই পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা আছে এবং বাতাস চলাচল করতে পারে এমন জায়গা পড়ার জন্য উত্তম। পর্যাপ্ত আলো থাকলে চোখের উপর স্ট্রেস কম পড়বে এবং বাতাস আপনার দেহমন প্রফুল্ল রাখবে ফলে শরীর সহজে ক্লান্তিবোধ করবে না। দিনে আলোতে পড়তে চেষ্টা করুন এবং সরাসরি সূর্যের আলোতে কখনো পড়ার চেষ্টা করবেন না। রাতের বেলা পরিমিত আলো ব্যবহার করুন।

।।দুই।।
পড়ার সময় আপনার পড়াশোনার জন্য দরকারী জিনিসপত্র সব হাতের কাছে রাখুন। প্রয়োজনে যেন আপনাকে উঠতে না হয় এমন ব্যবস্থা করে রাখুন। কারণ টেবিল থেকে একবার উঠলে আপনার মন কোথায় থেকে কোথায় চলে যাবে আপনি নিজেও জানতে পারবেন না।

।।তিন।।
বেশকিছু সময় পড়ার পর হালকা নাস্তা করুন। ইংরেজি তে যাকে 'লাইট ফুড' বলে এমন কিছু খেয়ে নিন। এতে শরীরে এক্সট্রা এনার্জি গেইন হবে। ফলে দেহমনে সহজে অবসাদ আসবে না। তবে হ্যা– অতি বুদ্ধিমান হয়ে কখনো ভরপেটে পড়তে বসবেন না। এতে আপনার ঘুম পাবে। তাই এখন থেকে পড়ার মাঝে বিরতি রেখে হালকা নাস্তা করে নিন। এতে অধিকসময় পড়তে পারবেন এবং পড়া সহজ লাগবে নিজের কাছে।

।।চার।।
পড়ার সময় পরিমিত পরিমাণ পানি পান করতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান করলে আপনার শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় থাকবে এবং দেহে স্বাভাবিক অক্সিজেনের পরিমান বজায় থাকবে। এতে সহজে আপনার ক্লান্তি আসবে না। তাই পড়ার সময় একটা পানির বোতল হাতের কাছে রাখুন এবং মাঝেমধ্যে পানি পান করুন।

।।পাঁচ।।
পড়ার সময় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন সকল ধরনের ইন্সট্রুমেন্ট হতে দূরে থাকুন। পড়তে বসার আগে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, সোশাল নেটওর্য়াক (ফেসবুক,ইউটিউব) ইত্যাদি বন্ধ করে রাখুন। এসব জিনিস আমাদের মাইন্ড চেঞ্জ করে দেবার ক্ষমতা রাখে। আর একবার মাইন্ড চেঞ্জ হলে আমাদের পড়ার ব্যাপক পরিবর্তন আসতে পারে। তবে যারা ল্যাপটপ/ডেক্সটপে পড়াশোনা করেন তারা চাইলে সোশাল নেটওয়ার্ক মিউট রাখা সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন। এতে আপনার ডেক্সবারে অনাকাঙ্ক্ষিত নোটিফিকেশন কিংবা মেসেজ সমূহ আসবে না।

।।ছয়।।
আমরা যারা শহরে মেসে কিংবা বাসাবাড়িতে থাকি তারা চাইলেও অনেক সময় হৈচৈ কিংবা কোলাহল মুক্ত পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারিনা। তারা চাইলে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বাজাতে পারেন। আজকাল ইউটিউবে অনেক সফট হোয়াইট মিউজিক কিংবা ইন্সট্রউমেন্টাল মিউজিক পাওয়া যায়।চাইলে ব্যাকগ্রাউন্ডে মিউজিক হিসেবে এসব বাজাতে পারেন। তবে হ্যা— কখনোই আপনার প্রিয় মিউজিক কিংবা প্লে লিস্ট বাজাবেন না। যারা নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারবেন তারা চাইলে ট্রাই করতে পারেন।

।।সাত।।
আপনি চাইলে রুটিন করে নিয়মমাফিক পড়তে পারেন। এতে আপনার টাইম-টেবল একটা সিডিউলে বাধা থাকবে। তবে রুটিন করার সময় মাথায় সময়ের বিষয়টা রাখতে হবে। আপনি সময় দিতে পারবেন এমন সব টাইমকেই রুটিনে পড়ার জন্য নির্ধারন করবেন। নয়তো কাজের কাজ হবে। চাইলে টপিক প্লান করেও কাজটা করতে পারেন। আজকের দিনে এই এই টপিকগুলো শেষ করবো। এমন করেও আপনি আপনার রুটিন করতে পারেন।

।।আট।।
ধরুন, আপনার হাতে ৪০ মিনিট সময় ফ্রি আছে এখন। এমন অবস্থায় কি টপিক পড়লে তা এই সময়ের মধ্যেই হবে এমন বিষয় সিলেক্ট করুন। সময়ের সাথে ডিফেন্ড করে সাবজেক্ট কিংবা টপিক সিলেক্ট করে পড়তে পারলে অনেক অকাজের সময়গুলো কাজের হয়ে যায়।

।।নয়।।
কিছু কিছু পড়া আছে যা সোজাসাপ্টা মনে রাখা যায় না। এইরকম বিষয়গুলো উদাহরণ কিংবা ছন্দে মনে রাখুন। আবার চাইলে আপনার পরিপার্শ্বের কিছুর সাথে সাদৃশ্য রেখে তা মাথায় গেঁথে নিতে পারেন।এভাবে আপনার অনেক বিষয় গুলো সহজ করে ফেলুন।

।।দশ।।
পড়তে বসার আগে মনস্থির করে নিবেন আমাকে এতোক্ষণ পড়তে হবে কিংবা এই টপিকের এতোখানি পড়তে হবে। এই সময়ে আশেপাশে যাই ঘটুক না কেন আমি আমার প্রতিজ্ঞায় অনড় থাকবো। আমাদের ব্রেন সাবকনসাস মাইন্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রণ হয়। সুতরাং আপনি যখন এমন কিছু মনে শক্ত করে ধরে রাখবেন তখন সাবকনসাস মাইন্ড বিষয়টি দ্রুত শেষ করতে ব্রেনকে তাড়া দিবে। এতে আপনার কাজের কাজ হয়ে যাবে।

।।এগার।।
আমরা যখন স্টুডেন্ট না হয়ে শিক্ষক হয়ে কোনো কিছু পড়ি তখন তার আগাগোড়া খুঁটিনাটি সব পড়ে ফেলি। সুতরাং নিজেকে একজন শিক্ষকের চরিত্রে ভাবতে শিখুন আর পড়ুন। ধরে নিন, এই বিষয়টি নিয়ে আপনার ছাত্রকে আপনি পড়াবেন। এতে আপনার পড়া অনেক ভালো হবে আর জানার পরিধিও ব্যাপক হবে।

।।বার।।
মনকে কখনো প্রেশার দিবেন না। কদিন পর আমার পরীক্ষা কিংবা এই সময়ে আমার প্রস্তুতি শেষ করা লাগবে এমন করে মনের ভেতর প্রেশার ক্রিয়েট করবেন না। নিজেকে শান্ত রাখুন এবং ধীরস্থির করে একে একে সব শেষ করুন।

আজিবুল হাসান
৩১ মার্চ, ২০২১

No comments