My All Garbage

Shuchi Potro
সাধারণ জ্ঞান অ্যাসাইনমেন্ট-২০২১ বাংলা রচনা সমগ্র ভাবসম্প্রসারণ তালিকা অনুচ্ছেদ চিঠি-পত্র ও দরখাস্ত প্রতিবেদন প্রণয়ন অভিজ্ঞতা বর্ণনা সারাংশ সারমর্ম খুদে গল্প ব্যাকরণ Composition / Essay Paragraph Letter, Application & Email Dialogue List Completing Story Report Writing Graphs & Charts English Note / Grammar পুঞ্জ সংগ্রহ বই পোকা হ য ব র ল তথ্যকোষ পাঠ্যপুস্তক CV & Job Application বিজয় বাংলা টাইপিং My Study Note আমার কলম সাফল্যের পথে
About Contact Service Privacy Terms Disclaimer Earn Money


বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সহায়ক ওয়েব সাইট

অনুচ্ছেদ : বিশ্বায়ন

বিশ্বায়ন


ইংরেজি ‘গ্লোবালাইজেশন’ এর বাংলা পরিভাষা বিশ্বায়ন। বিশ্বব্যাপী মানুষের রাজনীতিক, অর্থনীতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও প্রযুক্তিগত নৈকট্য ও অভিন্নতার ধারাকে বলা যায় বিশ্বায়ন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবনীয় উন্নতির ফলে পৃথিবী ছোট হয়ে এসেছে। ফলে বিশ্বগ্রাম, বিশ্ব নাগরিকত্ব, মুক্ত বাজার, মুক্ত সংস্কৃতি ইত্যাদি শব্দগুলো সবার মনেই প্রভাব ফেলছে। সবাই বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে। আর এভাবেই ধর্ম-বর্ণ-পেশা-লিঙ্গ-দেশ নির্বিশেষে বিশ্বের একে অন্যের খুব কাছাকাছি হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে অর্থনীতির ক্ষেত্রে বিশ্বায়ন হচ্ছে বিশ্বকে একক বাজারে পরিণত করে বিশ্বব্যাপী উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। উন্নত দেশগুলো তাদের অলস পুঁজি অনুন্নত দেশগুলোতে বিনিয়োগের ফলে আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় কিছুটা সমতা তৈরি হবে। সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও বিশ্বায়নের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কিন্তু সেক্ষেত্রে প্রতিটি দেশ ও জাতি তাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা করতে তৎপর হয়ে উঠেছে। তবে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিশ্বায়নের প্রভাবে উন্নত দেশগুলো কিছুটা ফায়দা লুটবেই, আশার কথা সেক্ষেত্রেও সতর্ক হতে শুরু করেছে অনেক দেশ। শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির বিনিময়ের মাধ্যমে অবশ্যই লাভবান হবে অনুন্নত দেশগুলো। কিন্তু কিছু কিছু দেশীয় প্রযুক্তির ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারপরও বাংলাদেশ গার্মেন্টসসহ আরও কিছু ক্ষেত্রে বিশ্ববাজারে প্রবেশ করে নিজস্ব অর্থনীতি মজবুত করছে। আর নিজস্ব রাজনীতি, সংস্কৃতি, শিল্পের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করছে। বিশ্বায়নকে গ্রহণ করছে প্রকৃত উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অংশীদার হিসেবে।


একই অনুচ্ছেদ আরেকবার সংগ্রহ করে দেয়া হলো


সাধারণ অর্থে ‘বিশ্বায়ন’ সমগ্র বিশ্বকে আধুনিকতা ও অগ্রগতির এক বলয়ে সমন্বিত করার একটি তত্ত্ব বা ধারণা। যার সূত্রপাত ঘটেছে তথ্যপ্রযুক্তির অভাবিত বিকাশের মধ্য দিয়ে। তাই বিশ্বায়ন বলতে বিশ্বজুড়ে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের সাম্প্রতিক অগ্রগতিকেই বোঝানো হয়ে থাকে। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বিশ্বায়ন হচ্ছে সমগ্র বিশ্বকে একটি মাত্র বিশাল রাজ্যে একত্রীকরণ। বিশ্বায়ন আজ একটি বহুমাত্রিক প্রত্যয় আর বহুমাত্রিক প্রত্যয় হিসেবে বিশ্বায়ন সম্পর্কিত বিভিন্ন নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিচয় পাওয়া যায়। যেমন বিশ্বজুড়ে শক্তি ও ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতার পটভূমি হলো লাগামহীন বিশ্বায়ন, যার অবধারিত পরিণতি হলো অর্থনৈতিক মাৎস্যন্যায়। মাৎস্যন্যায় শব্দের অর্থ হচ্ছে বড় মাছ কর্তৃক ছোট মাছকে খেয়ে ফেলা। অর্থাৎ ধনী রাষ্ট্রগুলো আরও ধনী এবং গরিব রাষ্ট্রগুলো আরও গরিব হওয়ার এই প্রক্রিয়াকে বিশ্বায়ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বিশ্বায়ন এই যোগাযোগেরই অপর নাম। আত্মরক্ষা এবং আত্মবিকাশ উভয় কারণেই বিশ্বকে আজ এগিয়ে যেতে হবে বিশ্বায়নের দিকে। তবে বিশ্বায়নের সর্বগ্রাসী প্রভাব থেকে নিজেদের রক্ষার কথাও দরিদ্র ও স্বল্পোন্নত দেশ গুলোকে ভাবতে হবে। বিশ্বায়ন যেন ধনী দেশগুলোর প্রভুত্ব ও উপনিবেশ বিস্তার না করে সত্যিকার অর্থেই সারাবিশ্বকে একটি উদার, সর্বজনীন উন্নত আধুনিক জীবনের আওতায় নিয়ে আসা যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বিশ্বায়নকে আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত করে আন্তর্জাতিকতাবাদের ধারণার উপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।


একই অনুচ্ছেদ আরেকবার সংগ্রহ করে দেয়া হলো


নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় সারাবিশ্বে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় ছিল বিশ্বায়ন। মার্শাল ম্যাকলোহানের মতে ‘গ্লোবাল ভিলেজ’-এর অন্য একটি রূপই হচ্ছে বিশ্বায়ন। একে অভিহিত করা হয় এমন একটি প্রক্রিয়া হিসেবে, যা রাষ্ট্র ও সম্প্রদায়ের পুরোনো কাঠামো ও সীমানা অবলুপ্ত করেছে। বিশ্বায়নকে বলা হচ্ছে একটি সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক জীবনের ক্রমবর্ধমান পরাজাতীয়করণ, যার ফলে সৃষ্টি হয়েছে এক বিশ্বসীমানা, এক বিশ্বসম্প্রদায়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, বিশ্বায়ন কোনো একক প্রক্রিয়া নয় বরং এটি সর্বব্যাপী ও সার্বিক প্রক্রিয়া। বিশ্বায়ন রাষ্ট্রীয় সীমানার প্রাচীর ভেঙে অর্থনৈতিক মিথষ্ক্রিয়া প্রভৃতি সকলক্ষেত্রেই ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। ফলে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তা-চেতনা এবং বিশ্বাসের ক্ষেত্রে একটি বৈশ্বিক অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে যে বিশ্বায়নের কথা বলা হচ্ছে তা মূলত পুঁজিবাদের সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের উপনিবেশ ছাড়া কিছু নয়। এর মাধ্যমে সম্পদশালী উন্নত দেশগুলো তৃতীয় বিশ্বের ওপর অর্থনৈতিক নয়া উপনিবেশবাদ প্রতিষ্ঠা করে পুঁজিবাদের হাতকে শক্তিশালী করতে চায়। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার সুযোগ উন্নত দেশগুলো গ্রহণ করছে। সুতরাং তাদের উপেক্ষা করা সম্ভব না হলেও নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনে আমাদেরও সতর্ক থাকতে হবে। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে আন্তর্জাতিক সমাজের সাথে তাল মিলিয়ে চলার মতো উপযোগী করে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

No comments