বইয়ে খোঁজার সময় নাই
সব কিছু এখানেই পাই

রচনা : স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ

ভূমিকা : আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গণপ্রতিরোধের এক উজ্জ্বল ইতিহাস। গণসংগ্রামের ইতিহাসের ভূমিকা অত্যন্ত উজ্জ্বল। ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ সেই কালরাতের পরের ইতিহাস প্রতিরোধ যুদ্ধে ভাস্বর। শহর থেকে গ্রামে মানুষ প্রথমে হতচকিত ও হতভম্ব বনে গেলেও তার পরেই শামিল হয়েছিল প্রতিরোধ যুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ বাহিনীর অবদান তেমনি এক অধ্যায়। মুক্তিযুদ্ধের প্রতিরোধ পর্বে পুলিশের অবদান চিরস্মরণীয়। স্বাধীন দেশে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন অকুতোভয় পুলিশদের সে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। 

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকা : ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে বর্বর পাক হানাদার বাহিনী যখন নির্বিচারে বাঙালিদের হত্যা করেছিল, রাজারবাগ পুলিশ লাইনে তখন প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। ওয়্যারলেসযোগে রাজারবাগ থেকে প্রতিরোধের এ খবর সারা দেশের সব পুলিশ ফাঁড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়। এরপর প্রায় ১৩ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য পাকিস্তানি কমান্ড থেকে বেরিয়ে সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা ৩০৩ রাইফেল দিয়ে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং নিঃশঙ্ক চিত্তে লড়াই করে দেশের তরে, মাতৃভূমির তরে জীবন উৎসর্গ করে। হানাদারদের ভারী অস্ত্রের গোলায় ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল সবকটি পুলিশ ব্যারাক, অসংখ্য পুলিশ সদস্য মৃত্যুবরণ করেন, তবুও কেউ মাথা নত করেনি। প্রকৃত অর্থে, মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ বাহিনীর বিদ্রোহই পাকিস্তান বর্বর বাহিনীকে হোঁচট খাইয়ে দিয়েছিল। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যরা অস্ত্রাগারের ঘণ্টা পিটিয়ে সবাইকে সতর্ক ও একত্রিত করে। অস্ত্রাগারে কর্তব্যরত সেন্ট্রির রাইফেল থেকে গুলি করে অস্ত্রাগারের তালা ভাঙে এবং তৎকালীন দায়িত্বরত কর্মকর্তার কাছ থেকে জোর করে অস্ত্রাগারের চাবি নিয়ে নিজেদের মধ্যে অস্ত্র ও গোলাবারুদ বিতরণ করে। প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী পুলিশ সদস্যরা পুলিশ লাইনের চারদিকে, ব্যারাক ও বিভিন্ন দালানের ছাদে অবস্থান নেয়। মাত্র ৫ মিনিট পর পাকসেনাদের কনভয় রাজারবাগ পুলিশ লাইনের মেইন গেটে এসে পৌঁছে এবং বাঙালি পুলিশ সদস্যরা কৌশলগত স্থানে পজিশন নেয়। রাত ১১টা ৪৫মিনিটে রাজারবাগ পুলিশ লাইনের দক্ষিণ-পূর্ব দিক (পুলিশ হাসপাতাল কোয়ার্টার সংলগ্ন) থেকে প্রথম গুলিবর্ষণ হয়। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই প্যারেড গ্রান্ডের উত্তর-পূর্ব দিক (শাহজাহানপুর ক্রসিং) থেকে গুলির শব্দ পাওয়া যায়। ব্যারাকের ছাদে অবস্থানরত বাঙালি পুলিশ সদস্যরা পাকসেনাদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করে। পিআরএফ-এর ৪টি ব্যারাকে আগুন ধরে যায়। পাকবাহিনী ট্যাংক বহরসহ প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রবেশ করে। এ আক্রমণে পাকবাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় আটশ। রাত ১২টা ৩০ মিনিটে পাকবাহিনীর ভারী অস্ত্রের মুখে বাঙালি পুলিশ সদস্যরা তাদের কৌশল পরিবর্তন করে। গেরিলা পদ্ধতিতে পাকবাহিনীর ওপর হামলা চালায় এবং অনেককে হতাহত করে। পুলিশের অপর একটি গ্রুপ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ মালিবাগ প্রান্ত দিয়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে। রাজারবাগ পুলিশ লাইনের সেদিনের সেই অস্ত্র আর গোলাবারুদ ব্যবহৃত হয়েছে সারা দেশে, সীমান্তবর্তী মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ শিবিরে এবং সম্মুখযুদ্ধে। রাত ৩টা ৩০ মিনিটে কামান আর মর্টারের আক্রমণ থামে, তবে বন্দি হয় প্রায় দেড়শ বাঙালি পুলিশ, রাজারবাগ পুলিশ লাইন দখল করে নেয় দখলদার বাহিনী, তার আগেই রাজারবাগ পুলিশ লাইনের কিছু বীর বাঙালি অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ রাজারবাগ ত্যাগ করেন। রাজারবাগ পুলিশ লাইনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর বাংলাদেশের পুলিশের নাম প্রথমে ইস্ট বেঙ্গল পুলিশ রাখা হয়। পরবর্তীতে এটি পরিবর্তিত হয়ে ইস্ট পাকিস্তান পুলিশ নাম ধারণ করে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত এ নামে পুলিশের কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল, বেশ কয়েকজন এসপিসহ সব পর্যায়ের পুলিশ সদস্য বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে জীবনদান করেন। ১৯৭১ সালের মার্চ মাস থেকেই প্রদেশের পুলিশ বাহিনীর ওপর কর্তৃত্ব হারিয়েছিল পাকিস্তানের প্রাদেশিক সরকার। পরবর্তীতে পুলিশের এ সদস্যরা ৯ মাসজুড়ে দেশব্যাপী গেরিলাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলে। স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্রে ১২৬২ জন শহীদ পুলিশ সদস্যের তালিকা উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রসঙ্গত ঝিনাইদহের তৎকালীন সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে ঐতিহাসিক গার্ড অব অনার প্রদান করেন। ২০১৩ সালের মার্চ যাত্রা শুরু করে ‘বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর’। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর’ স্থাপন একটি মহতী উদ্যোগ। সেই দিনের ত্বরিত সিদ্ধান্ত, সাহসিকতা ও বীরত্ব গাথার বিভিন্ন প্রমাণ বহন করছে এ ‘বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর’। গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সেইসব পুলিশ সদস্যকে যারা বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই সব মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনাসহ সব নারী যারা সম্ভ্রম হারিয়েছেন দেশের স্বাধীনতার জন্য। তোমাদের ঋণ শোধ হওয়ার নয়। মুক্তিযুদ্ধকালীন পুলিশের এসব গৌরবসময় স্মৃতিচিহ্ন ও স্মারক দিয়ে সাজানো হয়েছে এ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ ইতিহাসের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন করবে নতুন প্রজন্মের। এ জাদুঘরে পুলিশ সদস্যদের নানান বীরত্ব গাথা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ছবি ও বর্ণনায়। এখানে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের অংশগ্রহণের বাস্তব প্রমাণ সংবলিত বিভিন্ন তথ্য ও দলিল যেগুলো সাধারণ মানুষের কাছে এখনো অজানা। অজানা সেই কাহিনীগুলো এখনো শরীরে শিহরণ জাগায়। মনে করিয়ে দেয় যুদ্ধের বিভীষিকাময় দিনগুলো। 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ : মুক্তিযুদ্ধের পর ‘বাংলাদেশ পুলিশ’ নামে সংগঠিত হয়। বাংলাদেশ পুলিশ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের পুলিশ বাহিনীর মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান, অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে। মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ পুলিশের ট্র্যাডিশনাল চরিত্রে বিরাট পরিবর্তন এসে দিয়েছে। শুধু আইন পালন আর অপরাধ প্রতিরোধ বা দমনই নয়, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গত এক যুগে জঙ্গিবাদ দমন এবং নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। ১৯৭৬ সালে প্রথম ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠিত হয়। পরে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে পৃথক পৃথক মেট্রোপলিটন পুলিশ ফোর্স গঠিত হয়। মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধান হলেন পুলিশ কমিশনার। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিটের গোয়েন্দা শাখার অধীনে কাজ করে সোয়াত। সোয়াত ইউনিটের সদস্যরা অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম ব্যবহার করেন। এদের দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। জরুরি প্রয়োজন এবং সংকট ব্যবস্থাপনা, সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ, জিম্মি উদ্ধার ইত্যাদি অপরাধ মোকাবেলায় সোয়াত সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। ট্রাফিক পুলিশ ছোট শহরগুলোতে জেলা পুলিশের অধীনে এবং বড় শহরগুলোতে মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীনে কাজ করে। ট্রাফিক পুলিশ ট্রাফিক আইনকানুন মেনে চলতে যানবাহনগুলোর ড্রাইভারদের বাধ্য করে এবং অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ করে পুলিশের বিশেষ শাখা। বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখা দ্বারা বিদেশ থেকে বাংলাদেশে আগত এবং বিদেশের উদ্দেশ্যে গমনরত বাংলাদেশি ও বিদেশি যাত্রীদের ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিষেবা প্রদান করা হয়। গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) একটি বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট। এটি অত্যন্ত দক্ষ, বাস্তবধর্মী ও প্রযুক্তিনির্ভর শাখা। প্রত্যেক মেট্রোপলিটন পুলিশ এবঙ জেলা পুলিশের নিজ গোয়েন্দা শাখা আছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সন্ত্রাসবাদ, খুন ও অর্গানাইজড ক্রাইম মোকাবেলা, তদন্তের কাজ করে থাকে। অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রয়োজনে সিআইডি তাদের ফরেনসিক সমর্থন দেয়। সিআইডি ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুল এবং ফরেনসিক ট্রেনিং স্কুল নামে দুটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে। রেলওয়ে পুলিশ বাংলাদেশ রেলওয়ের সীমানায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করে। তারা রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের শৃঙ্খলা রক্ষা, ট্রেন ভ্রমণরত যাত্রীদের সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব পালন করে। রেল দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটলে তারা এর বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। রেলওয়ে পুলিশ রেঞ্জের প্রধান হলেন একজন ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (রেলওয়ে পুলিশ) পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা। মহাসড়ক নিরাপদ করা এবং যানজটমুক্ত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার হাইওয়ে পুলিশ গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করলে ২০০৫ সালে হাইওয়ে পুলিশ তার যাত্রা শুরু করে। হাইওয়ে পুলিশ রেঞ্জের প্রধান কর্মকর্তা হলেন ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (হাইওয়ে পুলিশ রেঞ্জের প্রধান কর্মকর্তা হলেন ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (হাইওয়ে পুলিশ)। শ্রম আইন, ২০০৬ বাস্তবায়নে এবং শিল্প এলাকায় অশান্তি প্রতিরোধকল্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও গোয়েন্দ তথ্য সংগ্রহপূর্বক সম্ভাব্য শ্রম অসন্তোষ মোকাবেলার উদ্দেশ্যে ২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর শিল্প পুলিশ যাত্রা শুরু করে। ২০১২ সালে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, ভ্রমণরত বিদেশি রাষ্ট্রীয় অতিথিদের নিরাপত্তা রক্ষায় বিশেষ নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা ব্যাটালিয়ন নামে পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা হয়। এপিবিএনের প্রধান অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শকের নিয়ন্ত্রণে একজন উপমহাপরিদর্শক এ বাহিনী পরিচালনা করে থাকেন। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর একটি এলিট ইউনিট হচ্ছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। একটি মহিলা ব্যাটালিয়নসহ সর্বমোট এগারোটি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে আছে। একজন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক এর প্রধান। এপিবিএনের একটি বিশেষায়িত ইউনিট বিমানবন্দর সশস্ত্র পুলিশ হিসেবে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য বিমানবন্দর এলাকার মধ্যে নিয়োজিত আছে। বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ঢাকা, বাংলাদেশের বৃহত্তম ও ব্যস্ততম বিমানবন্দর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইন প্রয়োগের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ ইউনিট। ২০০৯ সালে বিশ্বের দীর্ঘতম বালুকাবেলা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ভ্রমণরত স্থানীয় ও বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা বিধানে গঠিত হয় পর্যটন পুলিশ। পর্যটন পুলিশ জেলা পুলিশের অধীনে কাজ করছে। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‌্যাব (RAB) বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস দমনের উদ্দেশ্যে গঠিত চৌকস বাহিনী। পুলিশ সদর দপ্তরের অধীনে পরিচালিত এ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ গঠিত হয় এবং একই বছরের ১৪ এপ্রিল (পহেলা বৈশাখ) তাদের কার্যক্রম শুরু করে। বাংলাদেশ পুলিশের পাশাপাশি বাংলাদেশের সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী, আনসার ও সিভিল প্রশাসনের সদস্যদের নিয়ে র‌্যাব গঠিত হয়। ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশের নিয়ন্ত্রণে মহাপরিচালক র‌্যাব ও বাহিনী পরিচালনা করেন। র‌্যাবের অন্যতম সাফল্য হলো জঙ্গি দমন, বিশেষত জামায়াতুল মুজাহিদীন (জেএমবি) রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হলে ওঠার আগেই র‌্যাব তাদের সমস্ত নেটওয়ার্ক ধ্বংস করে দেয়। ১৯৮৯ সালে নামিবিয়ায় বাংলাদেশ পুলিশের প্রথম জাতিসংঘের শান্তি মিশনের প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে কাজ করে। এরপর থেকে যথাক্রমে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা আইভরিকোস্ট, সুদান, দারফুর, লাইবেরিয়া, কসাভো, পূর্ব তিমুর, ডি আর কঙ্গো, অ্যাঙ্গোলা, হাইতিসহ অন্যান্য মিশনে কাজ করে। ২০০৫ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশন আইভরিকোস্টে প্রথম সন্নিবেশিত পুলিশ ইউনিট (এফপিইউ) কাজ শুরু করে। শান্তিরক্ষী মিশনে সর্বোচ্চ সংখ্যক পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি বাংলাদেশের। পুলিশ-জনতার মধ্যে ব্যবধান দূর করা ও জনতার সহায়ক হিসেবে পুলিশ কাজ করবে- এমন লক্ষ্য নিয়ে চালু করা হয় কমিউনিটি পুলিশিং পদ্ধতি। ২০০৭ সালে এ কার্যক্রম শুরুর পর থেকে অপরাধ দমন ও এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ পদ্ধতি বেশ ভূমিকা রাখছে। কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কমিটি থাকলেও মূলত থানার ওসির ওপর এটা অনেকটা নির্ভর করে। কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা নতুন একটি ব্যবস্থার ধারণা হিসেবে সমাজ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলেছে। স্থানীয় লোকজন নিজেরা মাসিক চাঁদা/অনুদান দিয়ে রাত্রিকালীন পাহারার ব্যবস্থা করা এবং সেই সঙ্গে সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখার একটি উত্তম প্রয়াস এটি। সারাদেশে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাদের কার্যক্রম নজরদারি করতে ও তাদের ওপর গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পুলিশ অভ্যন্তরীণ ওভারসাইট নামে একটি বিশেষায়িত বিভাগ কাজ করে। ২০০৭ সালে ও বিভাগটি প্রতিষ্ঠি হয়। সদর দপ্তরের একজন সহকারী মহাপুলিশ পরিদর্শক এ বিভাগের প্রধান এবং তিনি সরাসরি মহাপুলিশ পরিদর্শকের কাছে রিপোর্ট দাখিল করেন। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি পুলিশ ইউনিট পিআইওর সরাসরি নজরদারির আওতাধীন। পিআইওর এজেন্টরা পুলিশ হেডকোয়ার্টারের পিআইওর ইউনিটের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সারা দেশে ছড়িয়ে আছেন। 

উপসংহার : পরিবেশে বলা যায়, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশমাতৃকার তরে নিজেদের জীবন বাজি রেখে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে তা জাতি আজও গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। সময়ের বিবর্তনে এ বাহিনীর বিরুদ্ধে অনেক অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এর বিকল্প নেই। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী দেশের মানুষের নিরাপত্তায় সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সব ধরনের কার্যক্রম অত্যন্ত নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সাথে পালন করে থাকে।

No comments