ভাবসম্প্রসারণ : পেঁচা রাষ্ট্র করে দেয় পেলে কোনো ছুতা- / জান না আমার সঙ্গে সূর্যের শক্রতা?

Article Stats 📡 Page Views
Reading Effort
769 words | 5 mins to read
Total View
7.5K
Last Updated
5 days ago
Today View
0
পেঁচা রাষ্ট্র করে দেয় পেলে কোনো ছুতা-
জান না আমার সঙ্গে সূর্যের শক্রতা?

মূলভাব : যারা অন্ধকারের লোক তারা দিনের আলোতে আসতে ভয় পায়। তাই নানা চল, ছুতোর কথা বলে।

সম্প্রসারিত ভাব : বিশ্বের সমগ্র মানুষকে প্রধানত দুভাগে ভাগ করা যায়। এক ক্ষুদ্র নীচ, দুই মহৎ। নিজ স্বার্থচিন্তা ত্যাগ করে মহৎ ব্যক্তিগণ যুগে যুগে পৃথিবীর মানব সমাজের কল্যাণ করে চলেছেন। আজ মানব সমাজের অগ্রগতির জন্য এ মহৎ ব্যক্তিগণ দায়ী।

অন্যদিকে নীচ ব্যক্তিরা যুগে যুগে মহৎ ব্যক্তিদের কার্যকলাপের নিন্দা করে এসেছে। এর ফলে শুধু-তারাই আত্মপ্রসাদ লাভ করেনি পরন্তু মর্হূতের কাজে পদে পদে বিঘ্ন ঘটানোর জন্য পৃথিবীর সমগ্র মানব সমাজের অগ্রগতিও ব্যাহত হয়েছে।

নীচমনা ব্যক্তির মহত্বের প্রতি ঈর্ষার শেষ নেই। শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিকে নিন্দা করে সে নিজের নিকৃষ্টতাকে লুকিয়ে রাখতে চায়। যার কাছে সাহস ভরে দাঁড়াবার সাহস নেই, শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিকে নিজের শত্রু বলে রটনা করে আত্মপ্রসাদ লাভ করে। ক্ষুদ্র ব্যক্তিরা এ বলে নিজ সম্মান বৃদ্ধির চেষ্টা করে যে শক্তিমান মহৎ ব্যক্তির তুলনায় সে শক্তির দিক দিয়ে হীন হয়। বৈরিতাবশত শক্তিমান মহৎ ব্যক্তিকে সে এড়িয়ে চলে, তাকে আদৌ ভয় পায় না; অনেকটা সেই নিশাচর পেঁচার মতো, যে সূর্যের সঙ্গে কল্পিত প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা উল্লেখ করে নিজ সম্মান বৃদ্ধি করতে চায়। শুধু পেঁচার গৌরভ বিন্দুমাত্র বৃদ্ধি পায় না অথবা সূর্যের গৌরবও সামান্যতম হ্রাস পায় না। শুধু পেঁচাই সকলের কাছে হাস্যাম্পদ হয়ে ওঠে।

দুষ্ট কপট লোক তার নিজের খারাপ দিকগুলো রাখার জন্য ভাল মানুষের নামে মিথ্যা অপবাদ দেয়ার জন্য সর্বদা ব্যস্ত থাকে।


এই ভাবসম্প্রসারণটি অন্য বই থেকেও সংগ্রহ করে দেয়া হলো


ভাব-সম্প্রসারণ : পেঁচা নিজের অক্ষমতা গোপন রাখার জন্যে সূর্যের সাথে তার কাল্পনিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা প্রচার করে। তদ্রুপ আমাদের সমাজেও এরকম অনেক হীনমন্য প্রকৃতির লোক রয়েছে, যারা মহৎ-ব্যক্তিদের প্রতি কখনো কখনো ঈর্ষাপ্রবণ হয়ে ওঠে। মূলত, তাদেরও মহৎ ব্যক্তিদের মতো গৌরব ও সম্মানের অধিকারী হওয়ার অভিলাষ জাগে। অথচ তারা খুব ভাল করেই জানে যে, তাদের সে যোগ্যতা নেই। তাই তারা মহৎ ব্যক্তিদের সাথে কাল্পনিক-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হয় এবং নিজেদের অযোগ্যতা গোপন রাখার চেষ্টা করে।

পেঁচা অন্ধকারের জীব, অন্ধকারেই তার বিচরণ। দিবসের সূর্যলোকের প্রখরতা সে সহ্য করতে পারে না। তাই সে দিনের বেলায় গাছের কোটরে নিজেকে আত্মগোপন করে রাখে। অথচ সবার কাছে সে দুর্বলতা গোপন করে প্রচার করে বেড়ায় যে, সূর্যের সাথে তার জন্মগত শত্রুতা, সূর্যকে ঘৃণা করে বলেই দিনে আলোতে গাছের কোটর থেকে সে বের হয় না। পৃথিবীর জ্ঞানী, গুণী, বরেণ্য মহাপুরুষেরা তাঁদের প্রতিভা ও মহত্বের দীপ্তিতে পৃথিবীকে আলোকিত করেন। যাঁরা প্রতিভাবান শিল্পী, তাঁদের বিচরণ ভাবের ঊর্ধ্বলোকে। বিশ্বের যাঁরা মহাজ্ঞানী, জ্ঞানের আলোকিত জগৎই তাঁদের বিচরণভূমি। আর, যাঁরা মানবতার মহান পূজারী, বিশ্বপ্রীতির ঊর্ধ্বলোকেই তাঁদের প্রতিষ্ঠা। জ্ঞানে, শিল্পে, সাহিত্যে, রাজনীতি বা বিশ্বপ্রেমে যিনি পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠরূপে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন, পৃথিবীর স্বল্প শক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরা তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব সহ্য করতে না পেরে তাঁদের সমালোচনায় হয়ে ওঠে মুখর। ঈর্ষাতুর, শত্রুমনোভাবাপন্ন সেই হীনমন্যের দল নিজেদের শক্তির সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন। তারা কোনদিনই শ্রেষ্ঠত্বের সেই সুদূরলোক স্পর্শ করতে পারে না। তাই তারা নিন্দা ও কুটূক্তিবর্ষণে মহাশিল্পী কিংবা মহাপুরুষগণের শ্রেষ্ঠত্বকে কলঙ্কিত করবার জন্যে করে অপচেষ্টা। কিন্তু সেই অপপ্রয়াস কোনদিনই সফল হয় না। তাতে তারা নিজেরাই কলঙ্কিত হয় এবং বৃদ্ধি করে পৃথিবীর অপকীর্তির তালিকা। তাদের স্বাভাবিক খলতা এবং নিষ্ফল অহংকার দিয়ে মহাপুরুষদের দিব্য জ্যোতিকে তারা পারে না স্পর্শ করতে। সেই নিন্দুকদের কালিমালিপ্ত পেচক-বৃত্তি চিরকাল অন্ধকারেই থাকে আবৃত, চিরকাল বিশ্বমানবের কাছে তা হয় নিন্দিত এবং ধিক্কৃত।


এই ভাবসম্প্রসারণটি অন্য বই থেকেও সংগ্রহ করে দেয়া হলো


মূলভাব : পেঁচা বিরাট সূর্যের সাথে তার কাল্পনিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কাহিনি প্রচার করে এবং নিজের অক্ষমতা গোপন রাখে। পৃথিবীর হীনম্মন্য ব্যক্তিরাও মহৎ ব্যক্তিদের সঙ্গে এরকম প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা প্রচার করে প্রকারান্তরে নিজেদের অযোগ্যতা ঢাকার চেষ্টা করে।

সম্প্রসারিত ভাব : পেঁচা অন্ধকারের জীব, অন্ধকারেই তার বিচরণ। দিবসের সূর্যালোকের প্রখরতা তার অসহ্য। তাই সে দিনের বেলায় গাছের কোটরে নিজেকে আত্মগোপন করে রাখে। অথচ সবার কাছে সে তার দুর্বলতা গোপন করে প্রচার করে বেড়ায় যে, সূর্যের সাথে তার জন্মগত শত্রুতা। সেজন্যে সূর্যকে ঘৃণা করেই দিনের আলোতে সে গাছের কোটর থেকে বের হয় না। পৃথিবীতে রয়েছে ছোট ও বড়, মহৎ ও হীনপ্রবণ ব্যক্তির পাশাপাশি বসবাস। যারা হীনম্মন্য প্রকৃতির লোক, তারা মহৎ ব্যক্তিদের প্রতি কখনো কখনো ঈর্ষাপ্ৰৰণ হয়ে থাকে। তাদেরও মহৎ ব্যক্তিদের মতো গৌরব ও সম্মানের অধিকারী হতে অভিলাষ হয়। অথচ তারা খুব ভালো করেই জানে যে, তাদের সে যোগ্যতা নেই। তাই তারা মহৎ ব্যক্তিদের সঙ্গে কাল্পনিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কাহিনি প্রচার করে এবং নিজের অযোগ্যতা গোপন রাখার চেষ্টা করে। পৃথিবীতে এ পেঁচক স্বভাবসম্পন্ন মানুষের অভাব নেই। যে পেঁচা সূর্যের মতো বিপুল শক্তির অধিকারী হওয়া তোদূরের কথা, তার সামান্যতম কিরণকে সহ্য করতে পারে না, সেই পেঁচা সূর্যের কাল্পনিক প্রতিদ্বন্দ্বী হতে চায়। আকাশচুম্বী মহান ব্যক্তির কাছে মাথা তুলে দাঁড়াবার মতো ক্ষীণ শক্তিটুকুও যার নেই, সে কি না তাঁর নিন্দা করে নিজেকে বড় প্রতিপন্ন করতে চায়। কিন্তু এতে করে সে পৃথিবীর কাছে হয়ে ওঠে নীচ, হীনম্মন্য, হাসির পাত্র।

মন্তব্য : পৃথিবীর কিছু হীন প্রকৃতির লোক মহত্ত্বের প্রতি অপবাক্য প্রচার করে নিজেকে গর্বিত ও শ্রেষ্ঠ বলে প্রচার করে। এমন অপপ্রচারের মধ্য দিয়ে সে লাভ করে আত্মপ্রসাদ। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে তার নীচু চরিত্রের পরিচয়ই কেবল প্রকাশ পায়।

💎 উপরের লিখাগুলো ওয়ার্ড ফাইলে সেভ করুন!

মাত্র 10 টাকা Send Money করে অফলাইনে পড়ার জন্য বা প্রিন্ট করার জন্য উপরের লিখাগুলো Microsoft Word ফাইলে ডাউনলোড করুন।

Download (.docx)

Sribas Ch Das

Founder & Developer

HR & Admin Professional (১২+ বছর) ও কোচিং পরিচালক (১৪+ বছর)। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সহজ Study Content নিশ্চিত করতেই এই ব্লগ।

🏷️ Tag Related

⚡ Trending Posts

Facebook Messenger WhatsApp LinkedIn Copy Link

✅ The page link copied to clipboard!

Leave a Comment (Text or Voice)




Comments (0)