ভাবসম্প্রসারণ : গতিই জীবন, স্থিতিতে মৃত্যু

Article Stats 📡 Page Views
Reading Effort
626 words | 4 mins to read
Total View
30.5K
Last Updated
07-May-2026 | 12:01 AM
Today View
0
গতিই জীবন, স্থিতিতে মৃত্যু

মূলভাব : গতিশীলতা বা প্রবাহমানকতাই জীবনকে প্রাণবস্ত করে তোলে, আর স্থবিরতা আত্মার মৃত্যু ঘটায়।

সম্প্রসারিতভাব : এ জগৎ স্থিতিশীল নয়। অনন্তকাল ধরে এটি চলবে মহাকালের গতি যেদিন থেমে যাবে সেদিন ঘটবে মহাপ্রলয়। এ অনন্ত যাত্রা পথে আমাদের জীবনও তাই এবং ভবিষ্যতেও গতিশীল। গতিশীলতার মধ্যেই ফুটে ওঠে জীবনের লক্ষণ। সংগ্রাম মুখর আমাদের জীবন। জীবনে বেঁচে থাকতে হলে কাজের প্রয়োজন। কর্মই মানুষকে গতিশীল রাখে। কুঁড়ে এবং গোঁড়া ব্যক্তিরা সমাজে জীবন্মৃত অবস্থায় পড়ে থাকে। কারণ তাদের আত্মার মৃত্যু অনেক আগেই ঘটে যায়। স্রোতস্বিনী নদীর জলে কারণে সেখানে শেওলা জমাতে পারে না। কিন্তু স্রোতহীন নদী শেওলায় ভরে যায় এবং এতে জল নষ্ট হয়ে ব্যহারের অযোগ্য হয়। তেমনি কর্মময় জীবনই হচ্ছে জীবন। কর্মহীন জীবন মৃত্যুর নামান্তর। এ পৃথিবী হচ্ছে এক বিরাট রণক্ষেত্র। সংগ্রাম করে, যুদ্ধ করে এখানে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হয়। ডারউন বলেছেন, ‘প্রকৃতির জগতে যে অধিকতর যোগ্য সেই টিকে থাকবে।’ অথাৎ পৃথিবীতে বাঁচতে হলে, টিকে থাকতে হলে সংগ্রাম করেই টিকে থাকতে হবে। দৃষ্টি রাখতে হবে সামনের দিকে, পেছনের দিকে নয়। চিন্তা, চেতনায় যারা অগ্রসর তারাই এগিয়ে যায় প্রগতির পথে। তারাই আনেন বিবর্তন, সৃষ্টি করে নব নব সভ্যতা। মানুষের কল্যাণের জন্য তারাই আবিষ্কার করে নতুন নতুন উপাদন। আর যারা কর্মহীন কুঁড়ে তারা জড় পদার্থের মত অচল। এরা কোন উপারেতো আসেই না বরং অপরের চলার গতিকে ব্যাহত করে। তাই এরা যেমন উপেক্ষিত তেমনি অবাঞ্চিত।

কর্মহীন জীবন কোন মানুষেরই কাম্য হতে পারে না। এতে করে মানুষ অচল ও অসাড় হয়ে পড়ে। কাজই মানুষের জীবনে আনবে গতি। যে গতিতে মানুষ জীবনের অর্থ খুঁজে পাবে।


এই ভাবসম্প্রসারণটি অন্য বই থেকেও সংগ্রহ করে দেয়া হলো


সৃষ্টিশীল যা কিছু দৃশ্যমান, তার সবকিছুই প্রবাহমান। চলমানতাই জীবনের বৈশিষ্ট্য, নিশ্চলতা মৃত্যু। স্থবিরতা ব্যক্তি ও সমাজজীবনকে যেমন স্তিমিত করে দেয়, জাতীয় জীবনকেও করে বিপর্যস্ত। ঐশ্বর্যমণ্ডিত ও সমৃদ্ধ জাতীয়-জীবনে তাই গতিশীলতার কোনো বিকল্প নেই।

নদীর গৌরব তার স্রোতধারার মধ্যে, স্রোতই নদীকে গতিশীলতা দান করে, তার বুকে ভরে দেয় পূর্ণতার সার্থকতা। সব জঞ্জাল, মালিন্য আর ক্লেদাক্ত আবর্জনা নদীর দুরন্ত গতিধারায় ভেসে চলে যায়। নদীর বহমান ধারায় প্রতি মুহূর্তে জলরাশি নিত্য-নতুন, কোনো পঙ্কিল বাধা তার জলকে মলিন করে তুলতে পারে না। সব মালিন্য ধৌত করে নদী আন বেগে চির-চঞ্চল, উৎস থেকে মোহনার পূর্ণতার অভিমুখে নিত্য ধাবমান। এই নদীই তার গৌরব হারায় যখন কোনো কারণে তার বেগ মন্দীভূত হয়ে পড়ে, তার স্রোতধারা রুদ্ধ হয়ে যায়, তার গতি স্থির হয়ে যায়। তখন তার বুক শৈবাল বা আবর্জনায় ভরে ওঠে। তদ্রুপ, ব্যক্তিগত তথা সামাজিক জীবনে কোনো ব্যক্তি যদি স্থবির হয় তবে তার জীবনে উন্নতির আশা অবাস্তব কল্পনা ছাড়া তার কিছুই নয়। নদীর মতোই জাতিয় জীবনের পূর্ণতাও নির্ভর করে তার চলমানতার ওপর।

অগ্রগমনই জাতির বিকাশোন্মুখের পরিচায়ক। যে জাতির স্বাভাবিক চলনধর্ম আছে, সে জাতিই নবীন সভ্যতাকে সহজে আত্মসাৎ করতে পেরেছে। সংকীর্ণ আচার-বিচার-সংস্কার সে গতিপ্রবাহকে রুদ্ধ করতে পারে না, সচলতার বেগেই সব বাধাকে অনায়াসে সে অতিক্রম করে যায়। স্বচ্ছন্দ ও নির্বাধ গতিতে এগোতে না পারলে জাতির আত্মবিকাশ ব্যাহত হয়। পদে পদে শাস্ত্রের অনুশাসন ও দেশাচারের বাধা-নিষেধ স্বতঃস্ফূর্ত বহমান জীবনধারাকে স্তব্ধ করে। চলমানতা হারিয়ে ফেলার অর্থই হল জাতির ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সফল সম্ভাবনার অপমৃত্যু। জীবনে উন্নতির চাবিকাঠি হল সংস্কারমুক্ত হয়ে গতিময়-জীবনের দিকে অগ্রসর হওয়া। যে জাতি যতদিন উন্নয়নকামী ও কর্মঠ থাকে, ততদিন কোনোরূপ কুসংস্কার তার গতি রোধ করতে পারে না। কিন্তু সে-জাতি যদি তার পুরাতন ঐতিহ্যকে বুকে ধরে অগ্রগতির পথে না এগোয় তবে স্রোতহীন নদীর মতোই শত সংস্কার এসে তাকে ঘিরে ফেলে। ফলে ধীরে ধীরে সে এ-ধরা থেকে লয়প্রাপ্ত হয়। একইভাবে ব্যক্তিজীবনেও গতিশীলতার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, সংগ্রামে-সংঘাতের মধ্য দিয়ে জীবনের শ্রেষ্ঠ ফসলটি তুলে নেওয়া যায়। কর্মবীর মানুষই সৌভাগ্যের স্বর্ণশীর্ষে হয় আসীন। বিপরীতপক্ষে যারা অলস, কর্মবিমুখ, জীবনের চলার পথ যাদের রুদ্ধ, স্থির, তাদের পদে পদে বরণ করে নিতে হয় পরাজয়, জীবনভর তাকে হতাশায়, নিরাশায় দীর্ঘশ্বাসের সেতু রচনা করতে হয়।

যে জাতির জীবনধারা অচল, অসার সে জাতির অপমৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। গতিশীল জীবন প্রবাহই জাতীয় জীবনকে করে জীবন্ত ও উজ্জ্বল।

💎 উপরের লিখাগুলো ওয়ার্ড ফাইলে সেভ করুন!

মাত্র 10 টাকা Send Money করে অফলাইনে পড়ার জন্য বা প্রিন্ট করার জন্য উপরের লিখাগুলো Microsoft Word ফাইলে ডাউনলোড করুন।

Download (.docx)

Sribas Ch Das

Founder & Developer

HR & Admin Professional (১২+ বছর) ও কোচিং পরিচালক (১৪+ বছর)। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সহজ Study Content নিশ্চিত করতেই এই ব্লগ।

🏷️ Tag Related

⚡ Trending Posts

Facebook Messenger WhatsApp LinkedIn Copy Link

✅ The page link copied to clipboard!

Leave a Comment (Text or Voice)




Comments (1)

Guest 08-Apr-2022 | 05:01:24 AM

Vlo ee hoyse