বইয়ে খোঁজার সময় নাই
সব কিছু এখানেই পাই

রচনা : এইডস / ঘাতক ব্যাধি এইডস / AIDS

↬ এ যুগের ঘাতক ব্যাধি এইডস

↬ শতাব্দীর নয়া আতঙ্ক এইডস

↬ এইডস ও তার প্রতিকার

↬ মরণব্যাধি এইডস


ভূমিকা : বর্তমান সভ্যতা মানুষের বহু শতাব্দীর স্বপ্ন ও সাধনার ক্রম পরিণাম। আজ জীবনের সর্বক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অবিসংবাদিত প্রভুত্ব। বিজ্ঞানের ক্রমাগত জয়যাত্রা ও অকৃপণ উপহার বিশ্বের অনেক বিস্ময়কে সম্ভব করে তুলেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিস্ময়কর অগ্রগতি সমাজের চেহারাই যেন বদলে দিয়েছে। চিকিৎসাক্ষেত্রে বিজ্ঞান আমূল পরিবর্তন সাধন করেছে। বিজ্ঞানের আশীর্বাদে মানুষ জটিল ও দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তি পেয়েছে। বিজ্ঞান আজ চিকিৎসাকে উন্নতির চরম শিখরে নিয়ে গেছে। এত কিছুর পরও বিজ্ঞান আজ ঘাতক ব্যাধি ‘এইডস’-এর প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে পারেনি। এ নিয়ে বিশ্বব্যাপী গবেষণা চলছে। আশা করা যায় অদূর ভবিষ্যতে এই মরণব্যাধির ওষুদ আবিষ্কৃত হবে। যতদিন আবিষ্কার না তা হয়, ততদিন এইডস বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থের জন্য একটি মারাত্মক হুমকি। এইচআইভি শরীরের রোগপ্রতিরোধ কোষগুলোকে ক্রমাগত ধ্বংস করতে থাকে এবং আক্রান্ত ব্যক্তি ধীরে ধীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

এইডসের পরিচয় : এইডস এইচআইভি ভাইরাসঘটিত মরণব্যাধি। এইচআইভি ‘হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস’ (Human Immunodeficiency Virus – HIV)-এর সংক্ষিপ্ত আকার। এইচআইভি দ্বারা কোনো ব্যক্তি আক্রান্ত হলে তাকে এইচআইভি বহনকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু তাতেই একজনকে এইডস আক্রান্ত বলা যায় না। কারণ এইডস বা অ্যাকোয়ার্ড ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি সিনড্রম (Acquired Immunodeficiency Syndrome – AIDS) হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। ফলে এইচআইভি সংক্রমণের পরও কোনো ব্যক্তি দীর্ঘদিন শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে পারে। এইচআইভি (HIV) নামক ভাইরাস এ রোগের জন্য দায়ী। এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শূন্যের কোঠায় চলে আসে। এইচআইভি টাইপ ওয়ান এ কাজ করে দ্রুত, টাইপ টু ভাইরাস কাজ করে ধীরে। এ রোগ হলে আক্রান্ত ব্যক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে, জ্বর হয়, ডায়রিয়া দেখা দেয়, লসিকা গ্রন্থি ফুলে যায়। এই কালান্তক ব্যাধির ভয়াবহতার কারণেই জাতিসংঘে গঠিত হয়েছে এইডস বিষয়ক সংস্থা ইউএন এইডস (UNAIDS)। ১ ডিসেম্বরকে ঘোষণা করা হয়েছে বিশ্ব এইডস দিবস হিসেবে।

এইডস নির্ণয় পদ্ধতি : রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই সাধারণত এইডস রোগের ভাইরাস শনাক্ত করা হয়। রক্ত পরীক্ষা ছাড়াও এইডসের জীবাণু বহনকারী ব্যক্তির বীর্য, মুখের লালা, চোখের পানি, প্রস্রাব, বুকের দুধ প্রভৃতিতে এইচআইভি জীবাণুর অস্তিত্ব বিদ্যমান। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ৩ সপ্তাহ থেকে ৩ মাসের মধ্যে রোগ সংক্রমণ শুরু হয়।

এইডসের লক্ষণ ও চিকিৎসা : এইচআইভি জীবাণু বহনকারী ব্যক্তির শরীরে বিভিন্ন লক্ষণ দেখা যায়। নিচে পর্যায়ক্রমে লক্ষণগুলো দেওয়া হলো-

১. হঠাৎ শরীরের ওজন দশ শতাংশের বেশি কমে যাওয়া।
২. এক মাসের অতিরিক্ত সময় ধরে ডায়রিয়া ও জ্বর থাকা।
৩. শরীরের বিভিন্ন স্থানের লসিকা গ্রন্থির ফুলে ওঠা।
৪. শরীরের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘমেয়াদি হারপিস সিমপ্লেক্সের সংক্রমণ।
৫. রক্তের এইচআইভি পরীক্ষায় পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া ইত্যাদি।

এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এখন পর্যন্ত এ রোগের কার্যকর কোনো ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। সামান্য পরিমাণ যা হয়েছে তা দ্বারা শুধু ব্যক্তির শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ধ্বংসসাধন দীর্ঘায়িত করা যায়। এ কারণে প্রতিরোধই এর একমাত্র চিকিৎসা। স্বাভাবিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হওয়া, সঙ্গী-সঙ্গিনীর প্রতি ভালোবাসা ও বিস্বস্ত থাকা, রোগপ্রতিরোধক কনডমসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ব্যবহার, পরীক্ষা ছাড়া পেশাদার ব্যক্তির রক্ত গ্রহণ না করা, ইনজেকশনের সময় একই সুচ বিভিন্ন রোগীর দেহে ব্যবহার না করা। এইডস সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে এমন সব বিষয়ে সতর্ক থাকলে এইডস অনেকাংশে রোধ সম্ভব হবে।

বাংলাদেশে এইডস : এইডস সংক্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। যেসব কারণে এইডস ছড়ায় তার সব উপকরণই এদেশে ব্যাপকভাবে বিদ্যমান। এদেশের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারত ও মায়ানমারে এই রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভারত ও মায়ানমার থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ প্রতিদিনই অবাধে যাতায়াত করছে এদেশে। দারিদ্র্য ও অশিক্ষার কারণে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে এইডসের অবাধ অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। এদেশে এইচআইভি পজিটিভ কিনা তা পরীক্ষা বা এইচআইভি স্ক্যানিং টেস্ট হয়নি। বাংলাদেশে এইডসের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য সন্দেহজনক সব শ্রেণি-পেশার লোকের এইচআইভি স্ক্রানিং টেস্ট করতে হবে। বিশেষ করে বিদেশগামী ও বিদেশাগত ব্যক্তিদের, মাদকাসক্ত ও পতিতাদের নিয়মিত এইচআইভি স্ক্যানিং করাতে হবে।

আমরা জানি যে, এইচআইভিতে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে সুস্থ ও স্বাভাবিক শরীরের জন্য বিপজ্জনক নয় এমন সব রোগের মানুষ মৃত্যুবরণ করে। এইডসের সামান্য পরিমাণে চিকিৎসা পাওয়া গেলেও তা দ্বারা রোগপ্রতিরোধ সম্ভব হয় না, শুধু রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ধ্বংসসাধন দীর্ঘায়িত করা যেতে পারে। পৃথিবীতে এ যাবৎ এইডসের যত চিকিৎসা পদ্ধতি বের হয়েছে তা দিয়ে এ রোগ প্রতিরোধ বা সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য নয়। তা কেবল এইচআইভি বহনকারীকে পরিপূর্ণ এইডসে পরিণত হওয়াকে বিলম্বিত করা। এসব দিক এদেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে।

এইচআইভি ভাইরাসের অবস্থান ও বিস্তার : মানুষের শরীরে এইচআইভি ভাইরাসের অবস্থান তিন জাতীয় তরল পদার্থে- বীর্যে, রক্তে ও মায়ের দুধে। এই তিন জাতীয় তরল পদার্থের আদান-প্রদানের মাধ্যমে ‘এইডসে’ বিস্তার লাভ করে। এইচআইভি আক্রান্ত রোগীর সঙ্গে অনিরাপদ (কনডমহীন) যৌনমিলনে বীর্যের সঙ্গে এ রোগ ছড়াতে পারে। এইচআইভি আক্রান্ত রোগীর শরীরের রক্ত গ্রহণ করলে এই রোগ সংক্রমিত হয়। শিশুরা এইচআইভিতে আক্রান্ত হয় এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত মায়ের দুধ পানে। যৌনকর্মীদের মাধ্যমে যৌনসম্পর্ক স্থাপনের সময় অসতর্কতার কারণে এইচআইভি ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাইরাসটি দীর্ঘদিন পর্যন্ত মানুষের শরীরে সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে বলে এইচআইভি বহনকারীরা তা প্রাথমিক অবস্থায় বুঝতে পারে না। ফলে নিজের অজান্তেই এইচআইভি বহনকারীরা এ রোগ ছড়িয়ে যায়। নিচে এ রোগ সংক্রমিত হওয়ার আরও কিছু বিষয় দেওয়া হলো-

১. এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত সুচ ও সিরিঞ্জ ব্যবহার করলে এইচআইভি সংক্রমণ হতে পারে।
২. এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ব্যবহৃত সুচ দিয়ে উল্কি, নেশাজাতীয় ওষুধ বা সাধারণ ওষুধ গ্রহণ করলে এইচআইভি সংক্রমণ হতে পারে।
৩. এইচআইভি বহনকারী মায়ের গর্ভস্থ সন্তানকে এইচআইভি সংক্রমণ করতে পারে।
৪. দানকৃত বা অন্য কোনো উপায়ে সংগৃহীত রক্তের যথার্থ পরীক্ষা না করে এইচআইভি বহনকারী ব্যক্তির রক্ত অন্য কারও রক্তের চাহিদায় ব্যবহার করলে এইচআইভি ছড়ায়।
৫. নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণের সময় অসতর্কতায় এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে একই সুচ বা সিরিঞ্জ ব্যবহার করলে এইডস ছড়ায়।

এইডসের ভয়াবহতা : এইচআইভি ভাইরাস ছড়িয়ে বিশ্বে এইডস এখন মারাত্মক আকার ধারণ করছে। বর্তমানে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ৭২ লক্ষ লোক এইচআইভি/এইডসে আক্রান্ত। এর মধ্যে ১০ লক্ষ বয়স্ক এবং শিশু নতুনভাবে আক্রান্ত হয়েছে। চীন ও ইন্দোনেশিয়ার কোনো কোনো স্থানে এ রোগের সংক্রমণ মহামারী আকার ধারণ করেছে। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০২ সালে প্রতিদিন ১,২০০ লোক এইডসজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেছে। একই সঙ্গে প্রতিদিন ২,৭০০ লোক নতুনভাবে এইচআইভিতে সংক্রমিত হয়েছে। বর্তমানে এই সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এশিয়া- প্রশান্ত অঞ্চলে প্রতি বছর দশ থেকে পনেরো লক্ষ লোক নতুনভাবে এইচআইভি দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে। অনেকে মনে করছে জনসাধারণের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের নিম্ন হার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর মারাত্মক মহামারীকেও আচ্ছাদিত করতে পারে। এশিয়ায় উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে তরুণ ও কিশোর সম্প্রদায়, যৌনকর্মী ও তাদের খদ্দের, সমকামী পুরুষ, নেশাগ্রহণকারী, পথশিশু প্রভৃতি। জরুরি ভিত্তিতে যদি প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার না করা হয় তাহলে আগামী দশ বছরের মধ্যে কেবলমাত্র চীনে তিন থেকে পাঁচ কোটি এবং ভারতে চার থেকে ছয় কোটি লোক এইচআইভি দ্বারা আক্রান্ত হবে।

এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধ : এইডস প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাদান ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা দরকার। শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে অল্পবয়সীদের মধ্যে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি উভয় প্রকার প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়। নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টি ও দক্ষতা অর্জনের শিক্ষায় মানুষকে শিক্ষিত করে তুলতে হবে। কারণ যুবসমাজকে যদি যথার্থ শিক্ষাদান, সঠিক তথ্য, দক্ষতা অর্জনে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় তাহলে তারা অযাচিত যৌনচার থেকে বিরত থাকবে, এইডসসহ বিভিন্ন যৌনরোগ থেকে আত্মরক্ষার ব্যাপারে সচেতন থাকবে। নিচে এইডস প্রতিরোধমূলক একটি শিক্ষা নির্দেশিকা দেওয়া হলো-
  • প্রতিরোধমূলক শিক্ষা ব্যবহার মাধ্যমে মানুষের স্বাস্থ্যকর জীবনব্যবস্থা, দায়িত্বপূর্ণ আচরণ ও রোগপ্রতিরোধে অনুপ্রাণিত করা।
  • এইচআইভি/এইডসের ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে প্রতিরোধ আন্দোলনকারীদের জ্ঞান অর্জন, আচরণের পরিবর্তন ও দক্ষতা অর্জনে সহায়তা দান করা।
  • এইডস বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা পালনকারী প্রতিটি কারণ যেমন- যৌন আচরণ, মেয়েদের অবস্থান, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, জেন্ডার ইস্যু, সামাজিক ও পারিবারিক অবস্থা, শিক্ষা, দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য, নেশাজাতীয় দ্রব্যের ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ক নির্দেশ করে এমন বিষয় প্রতিরোধমূলক শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
  • শিক্ষাপ্রদানকারীকে যোগ্যতাসম্পন্ন, নিষ্ঠাবান ও দক্ষ হতে হবে, যাতে তারা এইডস প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় শিক্ষা বিস্তার করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিবাবকদের সচেতন ও অনুপ্রাণিত করতে পারে।
  • শিক্ষা, শিল্প-সংস্কৃতি ইত্যাদি মাধ্যম বিচার-বিবেচনা করে আমাদের দেশের বাইরের সংস্কৃতিকে অবহেলা না করে শিক্ষালাভের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
  • সাধারণ শিক্ষা কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
  • বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, প্রচারমাধ্যম, অনানুষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক প্রভৃতির মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক শিক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে।
  • এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধে জীবনমুখী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
উপসংহার : এইডস মানে নিশ্চিত মৃত্যু। প্রতিকারের বিধান এখনো তৈরি হয়নি। এইডসের ব্যাপক সংক্রমণ একটা দেশ, একটা জাতিকে ধ্বংসের শেষ সীমায় পৌঁছে দিতে পারে। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য এটি হুমকিস্বরূপ। কারণ এইডস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার মতো সব ধরনের পারিপার্শ্বিকতা ও উপযুক্ততা এখানে আছে। বাংলাদেশে শতকরা ৪৫ ভাগ যুবক-যুবতি বিবাহপূর্ব যৌনাচারে অভ্যস্ত। ফলে এক্ষেত্রে এইডসে আক্রান্ত হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে পতিতাপল্লি রয়েছে। এছাড়া অসংখ্য ভাসমান পতিতাও এইডসের জীবাণু বহন করছে। তাদের কাছে যাওয়া বেকার যুবক, ছাত্র, বাস-ট্রাক ড্রাইভার, ব্যবসায়ীদের মাধ্যমেও এইডস ব্যাপক হারে ছড়াচ্ছে। কারণ তাদের বেশিরভাগই অসংযমী, অবাধ যৌনাচারী ও মাদকাসক্ত। অন্যদিকে বেকারত্বের অভিশাপ ঘোচাতে যুব সম্প্রদায়ের একটি বিশাল অংশ নেশার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। ফলে এইডস বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাজেই মানুষের মধ্যে নৈতিকতাবোধ জাগানো, আত্মসচেতনতা সৃষ্টি, যৌনশিক্ষা প্রভৃতির মাধ্যমে এইডস প্রতিরোধ আন্দোলন করা এখনই প্রয়োজন।

No comments