শ্রী শ্রী লক্ষ্মীদেবীর পূজা পদ্ধতি ও পাঁচালী

History 📡 Page Views
Published
5 days ago
Total View
13
Last Updated
5 days ago
Today View
0

শ্রী শ্রী লক্ষ্মীদেবীর পূজা

পদ্ধতি ও পাঁচালী

বন্দনা

“নারায়ণং নমস্কত্যং
নরঞ্চৈব নরোত্তমং।
দেবীং সরস্বতীঞ্চৈব ততো জয় মুদীরয়েৎ।।
(লক্ষ্মী পূজায় ঘন্টা বাদ্য নিষেধ)

অর্থ:- শুদ্ধাসনে পূর্বমুখী হইয়া বসিবেন। নমো বিষ্ণুঃ (তিন বার) বলিতে বলিতে তুলসীর জলের ছিটা মাথায় দিবেন।

হরিস্মরণ মন্ত্র

“নমঃ অপবিত্র পবিত্রোবা সর্বাবস্থাং গতোহপিবা যঃ স্মরেৎ পুন্ডরীকাক্ষ সর্বাবাহ্যাভ্যন্তর শুচিঃ।”

আচমন মন্ত্র

“নমো আত্মতত্ত্বয় নমঃ। নমো বিদ্যাতত্ত্বায় নমঃ। নমোঃ শিবতত্ত্বায় নমঃ।”

সূর্য্যার্ঘ্য

কুশাতে দুর্বা, চাউল, ফুল, জল লইয়া মন্ত্র পড়িবেন -

“নমোঃ বিবস্বতে ব্রহ্মণ ভাস্বতে বিষ্ণু তেজসে জগৎ সবিত্রে শুচয়ে সবিত্রে কর্ম্মদায়িনে ইদমর্ঘ্যং নমো ভগবতে শ্রীসূর্য্যায় নমঃ।”

হাত যোড় করিয়া -

“নমঃ এহি সূর্য্য সহস্রাংশো তেজোরাশে জগৎপতে অনুকম্পায় মাং ভক্তং গৃহানার্ঘ্যং দিবাকরম্।”

নমষ্কার

“নমো জবাকুসুম সঙ্কাশং কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিং ধ্বান্তারিং সর্ব্বাপাপঘ্নং প্রণতোহস্মি দিবাকরম্।”

স্বস্তিবাচন

নয়টি চাউল লইয়া একবারে তিনটি করিয়া নিম্নোক্ত মন্ত্র পাঠ পূর্ব্বক ৩ বার ঘটে দিবেন- “নমঃ স্বস্তি ভবন্তো ধ্রুবন্তু” ৩ বার পাঠ করিবেন।

সঙ্কল্প

বিষ্ণুর্নমোহদ্য অমুক মাসি অমুক পক্ষে অমুক তিথৌ অমুক গোত্রা শ্রীঅমুক দেবী লক্ষী প্রীতি কাম গণেশাদি নানা দেবতা গন্ধপুষ্পদান পুর্ব্বক শ্রী শ্রী লক্ষ্মী পূজা তদিতিহাস কথা শ্রবণ কর্ম্মাহং করিষ্যে, ঘটে উক্ত জল দিবেন।

ঘটস্থাপন মন্ত্র

“নমোঃ সর্ব্বতীর্থোদ্ভবং বারি সর্ব্বদেব সমন্বিতং ইমং ঘটং সমারুহ্য তিষ্ঠ দেবী স্থিরো ভব।”

আসনশুদ্ধি

আসনের নীচে ভূমিতে চন্দন দ্বারা ত্রিকোন মন্ডল করিয়া এতে “গন্ধ পুষ্পে নমোঃ হ্রীং আধার শক্তয়ে কমলাসনায় নমঃ। অন্তনায় নামঃ, কুর্ম্মায় নমঃ পৃথিব্যৈ নমঃ।” (চাউল দ্বারা অর্চনা করিবে) ও মন্ডলে চাউল দুর্বা লইয়া বলিবে- “মেরুপৃষ্ঠ ঋষি সুতলং ছন্দঃ কুর্ম্ম দেবতা আসন পরিগ্রহণে বিনিয়োগঃ। (হাত জোড় করিয়া) “নমঃ পৃথিত্বয়া ধৃতা লোকা দেবিত্বং বিষ্ণুনা ধৃতা তঞ্চধারয় মাং নিত্যং পবিত্রং আসনং কুরু।”

ভূতশুদ্ধি

দুর্ব্বা,চাউল,পুষ্প লইয়া নিম্ন মন্ত্র পাঠে মাথার উপর দিয়া পেছন দিকে ফেলিয়া দিবে। “নমঃ অপসর্পন্তুতে ভূতা যে ভূতা ভূমি পালকা ভূতা নাম বিরোধে পূজা, কর্ম্ম করোম্যহং”।
অতঃপর ঊর্ধ্বে তিনটি তালি দিয়া গায়ের চতুর্দিকে তুড়ি দিবে।

অর্ঘ্য পাত্র স্থাপন

কোশার নীচে মাটিতে চন্দন দ্বারা ত্রিকোণ মন্ডল করিয়া অতঃপর মন্ডলে চাউল দ্বারা অর্চনা করিবে।

“নমঃ অনন্তায় কুর্ম্মায়, পৃথিব্যৈ নমঃ। আধার শক্তয়ে নমঃ আধারে মং বহ্নি মন্ডলায় দ্বাদশ কলাত্মনে নমঃ”। (৩ বার জল ঢালিবে ও কোশায় গন্ধ পুষ্প দিবে এবং অর্ঘ্য সাজাইয়া) “ওঁ চন্দ্র মন্ডলায় ষোড়শ কলাত্মনে নমঃ। কবচে নামগুণ্ঠা ধেনু মুদ্রা মৃতিকৃন্য মৎস্য মুদ্রামাচ্ছাদ্য কুর্মমুদ্রাং প্রদস্য অঙ্কুশ মুদ্রয়া তীর্থানাবহ্য মন্ত্র পঠেৎ। নমো গঙ্গে চ যমুনেচৈব গোদাবরী সরস্বতী নর্মদে সিন্ধু কাবেরী জলেহস্মিন সন্নিধিং কুরু।” মূল মন্ত্র শ্রীং কোশার উপর ৮ বার জপ করিবে পরে ফুলটি লইয়া মাথায় ও পূজার সমস্ত জিনিসে জলের ছিটা দিবে।

তৎপর এতে “গন্ধ পূষ্পে গণেশায়ঃ নমঃ বলিয়া এক একটি গন্ধ পুষ্প দিবে। এতে গন্ধ পুষ্পে শিবাদি পঞ্চদেব তাগণেভ্যো নমঃ। এতে গন্ধ পূষ্পে নমো নারায়ণায় শ্রীবিষ্ণুবে নমঃ।”

লক্ষ্মীর ধ্যান

(চন্দনাক্ত ফুল লইয়া)

“নমঃ পাশাক্ষমালিকাম্ভোজ সৃনিভির্যাম্য সৌম্ময়ো।
পদ্মসনস্থাং ধ্যায়েচ্চ শ্রিয়ং ত্রৈলোক্যমাতরং।
গৌরবর্ণাং স্বরূপাঞ্চ সর্ব্বালঙ্কার ভূষিতাং।”

এই মন্ত্র পাঠে নিজের মাথায় ফুলটি দিয়ে সোহমিতি চিন্তা করিবে। পুনঃ অর্ঘ্যপাত্র পূর্ব্বমত স্থাপন করিবে এবং পুনঃ লক্ষ্মীর ধ্যান করিয়া চাউল দ্বারা তিনবার অর্চনা করিবে। “নমোঃ শ্রীং লক্ষ্ম্যৈ দেব্যৈ নমঃ”। তৎপর “এতৎ পাদ্যং, ইদমর্ঘ্যং, ইদং, আচমনীয়ং ইদং স্নানীয়ং, এষতে গন্ধঃ এতৎ পুষ্পং, এতানি বিল্বপত্রানি, এষ,ধূপ,এষ দীপ, এদং সোপকরণ নৈবৈদ্যং ইদং পানার্থ জলং, ইদং পুনরাচমনীয় জলং এতৎ তাম্বুলং শ্রীং লক্ষ্মী দেবৈ নমঃ”। তৎপর চাউল দ্বারা তিনবার অর্চনা করিবে। পরে বলিবে “শ্রীং লক্ষ্মী দেবী পূজিতোহসি ক্ষমস্ব।

পুষ্পাঞ্জলী

তিনবার দিবে

“এষ সচন্দন বিল্বপত্র পুষ্পাঞ্জলী নমঃ সায়ুধায়ৈ সপরিবারায়ৈ সাঙ্গপাঙ্গয়ৈ নমো শ্রী শ্রীলক্ষ্মী দেব্যৈ নমঃ। বামেঃ গুরুভ্যেঅ নমঃ দক্ষিণে গণেশায় নমঃ মধ্যে শ্রীং লক্ষ্মী দেব্যৈ নমঃ শ্রীং শ্রীং” দশবার জপ করিবে।

নমষ্কার

“বিশ্বরূপস্য ভার্য্যাসি পদ্মে পদ্মালয়ে শুভে।
সর্ব্বতো পাহিমাং দেবী মহালক্ষ্মী নমোহস্তুতে।।”

দক্ষিণা

বিষ্ণুর্নমোহস্য অমুকে মাসি অমুকে পক্ষে অমুকে তিথৌ অমুক গোত্রা “শ্রীঅমুকী দেবী কৃতৈতৎ শ্রী শ্রী লক্ষ্মীপ্রীতি কামা গণেশাদি নানা দেবতা গন্ধ পুষ্পদান পূর্বক শ্রী শ্রী লক্ষ্মী পূজা তৎ ইতিহাস শ্রবণ কর্ম প্রতিষ্ঠার্থং দক্ষিণা কিঞ্চিৎ কাঞ্চন মূল্যেং (তাম্রিকং) শ্রীবিষ্ণু দৈবতং যথানাম্নে গোত্রায় ব্রাহ্মণায়াং দদে।”

কেষাঞ্চিৎ মতে অচ্ছিদ্র নাই
তৎপর সূর্য্যার্ঘ্য, কৃতাঞ্জলী, সূর্য্য নমষ্কার মন্ত্র পাঠ করিবেন। বিশেষ কর্মদায়িনে স্থলে কর্ম সাক্ষিণে। তৎপর জল লইয়া:- “অস্মিন্ কর্মনি যৎকিঞ্চিৎ বৈগুণ্যং জাতঃ তদ্দোষপনায় দশকৃত্য গোবিন্দ নাম স্মরণমহং করিষ্যে। নমঃ গোবিন্দ” দশবার জপ করিবেন।

পাঁচালী

দোল পূর্ণিমার নিশি নির্মল আকাশ।
মন্দ মন্দ বহিতেছে মলয় বাতাস।।
লক্ষ্মীদেবীবামে করি বসি নারায়ণ।
কহিতেছে নানা কথা সুখে আলাপন।।
হেনকালে বীণা করে দেবর্ষি নারদ।
হরি গুণে গানে মাতি হইয় বিভোর।।
ধীরে ধীরে যুক্ত কড়ে করিয়া প্রণতি।
কহিলা নারদ মুণি নারয়ণী প্রতি।।
কহ মাত এ কেমন তোমার বিচার।
চঞ্চলা চপলা প্রায় ফিরে দ্বারে দ্বার।।
ক্ষণকাল তরে তব নাহি কোথা স্থিতি।
মর্ত্তবাসী সদা তাই ভুগেছি দুর্গতি।।

সতত কু-ক্রিয়ায় রত নর-নারীগণ।
অসহ্য যাতনা দেয় দুর্ভিক্ষ ভীষণ।।
অন্নাভাবে শীর্ণকায় বলহীন দেহ।
অতি কষ্টে আত্মহত্যা করিতেছে কেহ।।
কেহ প্রিয় প্রাণাদিক পুত্র কন্যাগণে।
বিক্রী করি খাইতেছে অন্নের কারনে।।
বল বল, বল দেবী কি পাপের ফলে।
ভীষণ দুর্ভিক্ষ সদা মর্ত্ত্য লোকে জ্বলে।।
কমলা ব্যথিত হয়ে দুঃখিত অন্তরে।
কহিলেন অতঃপর ক্ষুণ্ণ মুনিবরে।।
নরলোকে দুঃখ পায় শোকের বিষয়।
দুষ্কৃতির ফল ইহা জানিবে নিশ্চয়।।
চঞ্চলা ইহার নাম কিসের লাগিয়া।
কারণ ইহার তবে শুন মন দিয়া।।
দিবা নিদ্রা অনাচার ক্রোধ অহঙ্কার।
আলস্য কলহ মিথ্যা ঘিরিছে সংসার।।
উচ্চ হাসি উচ্চ ভাষা কহে নারীগণে।
সন্ধ্যা কালে নিদ্র যায় ঝগড়া জনে জনে।।
দয়া মায়া লজ্জা আদি দিয়া বিসর্জ্জন।
যেথায় সেথায় করে স্বেচ্ছায় গমন।।
না দেয় প্রদীপ তারা প্রতি সন্ধ্যা কালে।
বাবুগিরি করে তারা রং মাখে গালে।।

ভোরেতে দেয় না তাঁরা গোবরের ছড়া।
কি জানি মলিন হবে তার সেমিজ পরা।।
লক্ষ্মী স্বরূপিনী নারী করিয়া সৃজন।
পাঠাইয়াছি ধরাধামে সুখের কারণ।।
অনেক সুখেতে তাঁরা ভুলিয়া আমায়।
অকার্য্যে কুকার্য্যে তারা সংসার মজায়।।
শ্বশুর শাশুড়ীগণে নহে ভক্তিমতী।
বাক্যবান বর্ষে সদা তাহাদের প্রতি।।
স্বামীর আত্মীয়গণে না করে আদর।
থাকিতে চাহয়ে তারা হয়ে স্বতন্ত্র।।
লজ্জা আদি গুণ যত নারীর ভূষণ।
একে একে হৃদয় হতে করেছে বর্জ্জন।।
অতিথি আসিলে তারা কষ্ট বাসে মনে।
স্বামীর আগেতে খায় যত নারীগণে।।
পতিরে করেছে হেলা না শুনে বচন।
ছাড়িয়াছে গৃহকর্ম ছেড়েছে রন্ধন।।
পুরুষেরা পরিহাসে সময় কাটায়।
মিথ্যা ছাড়া সত্য কথা কভু নাহি কয়।।
সতত ইহারা মোরে জ্বালাতন করে।
চপলার প্রায় তাই ফিরে ঘরে ঘরে।।
ঈর্ষা দ্বেষ হিংসা পূর্ণ মানবহৃদয়।
নর নারী সবে হেরি কুটিলতাময়।।

দেব দ্বিজে ভক্তিহীন তুচ্ছ গুরুজন।
কেবল আপন সুখ করে অন্বেষণ।।
রসনা তৃপ্তির জন্য অভক্ষ্য ভক্ষণ।
তারি ফলে নানা দুঃখে অকালে মরণ।।
যেই ঘরে এইরূপ পাপের আগার।
অচলা হইয়া তথা থাকি কি প্রকার।।
বর্জ্জিয়া এ সব দোষ হলে সদাচারী।
নিশ্চলা থাকিয়া সদা বিদ্য বিভবরী।।
এত শুনি মুনিবর কহে ক্ষুন্ন মনে।
কি হলে প্রসন্না দেবী হবে নরগণে।।
পারে কি লভিতে নর তব পদ ছায়া।
ওহে দয়াময়ী তুমি না করিলে দয়া।।
সৃষ্টি স্থিতি প্রলয়ের তুমি অধিকারী।
জগৎ প্রসুতি তুমি জগৎ ঈশ্বরী।।
কৃপা করি কহ মাতঃ বিহিত বিধান।
নরের দুঃখের লাগি কাঁদে মোর প্রাণ।।
দেবর্ষির বাক্যে দেবীর দয়া হল মনে।
বিদায় করিল তারে মধুর বচনে।।
মর্ত্ত্যবাসীদের দুঃখে কাঁদিছে অন্তর।
প্রতিকার চেষ্টা আমি করিব সত্বর।।
ভাবিয়া চিন্তিয়া বলে নারায়ণী প্রতি।
কিরূপে হেরিব এবে নরের দুষ্কৃতি।।

কেমনে তাদের দুঃখ করিব মোচন।
উপদেশ দেহ মোরে হৃদয় রঞ্জন।।
শুনিয়া রমার বাণী কহে রমাপতি।
উতলা কি হেতু দেবী স্থির কর মতি।।
শুন সতী মন দিয়া বচন আমার।
লক্ষ্মীব্রতনরলোকে করহ প্রচার।।
গুরুবারে সন্ধ্যাকালে মিলি নারীগণে।
পূজিয়া শুনিবে কথা আনন্দিত মনে।
বাড়িবে ঐশ্বর্য্য তাহে তোমার কৃপায়।
দারিদ্রতা দূরে যাবে জানিবে নিশ্চয়।।
শ্রীহরির বাক্যে দেবী অতি হৃষ্ট মনে।
গমন করিলা ধরায় ব্রত প্রচারণে।।
অবন্তি নগরে গিয়ে হল উপনীত।
দেখিয়া শুনিয়া হল বড়ই চিন্তিত।।
নগরে অধীর ছিল ধনেশ্বর রায়।
ঐশ্বর্য্য অপার তার কুবরের প্রায়।।
সোনার সংসার তার শূন্য হিংসা দ্বেষ।
পালিত অধীনগণে পুত্র নির্বিশেষ।।
এক অন্নে সাত পুত্র রেখে ধনেশ্বর।
স-সম্মানে যথাকালে গেল লোকান্তর।।
ভার্য্যার কুহকজালে সপ্ত সহোদর।
পৃথক হইল অন্ন কিছু দিন পর।।

হিংসা দ্বেষ অলক্ষ্মীর যত সহচর।
একে একে সবে আসি প্রবেশিল ঘর।।
ক্রমে ক্রমে লক্ষ্মীদেবী ছাড়িল সবারে।
সোনার সংসার তার গেল ছারখারে।।
বৃদ্ধা ধনেশ্বর পত্মী নিজ ভাগ্য দোষে।
না পারি তিষ্ঠিতে আর বধুদের রোষে।।
চলিল বিপিনে বৃদ্ধা ত্যজিতে জীবন।
অদৃষ্টের ফলে হয় এ হেন ঘটন।।
অন্নাভাবে শীর্ণ দেহ মলিন বদন।
চলিতে শক্তি নাই করিতে ক্রন্দন।।
সকরুণ স্বরে দেবী জিজ্ঞাসে বৃদ্ধারে।
কি হেতু এসেছ তুমি এ ঘোর কান্তারে।।
কাহার তনয়া তুমি কাহার ঘরণী।
কি হেতু মলিন মুখ দেখি বিষাদিণী।।
বৃদ্ধা বলে পতিহীনা আমি অভাগিনী।
কি হবে শুনিয়া মম দুঃখের কাহিনী।।
পিতা পতি ছিল মোর অতি ধনবান।
সদা ছিল মোর ভাগ্যে লক্ষ্মী অধিষ্ঠান।।
সোনার সংসার মোর ছিল ধনে জনে।
পুত্র বধুগণ মোরে সেবিত যতনে।।
পতির হইল কাল, সুখ শান্তি যত।
গৃহ হতে ক্রমে ক্রমে হল তিরোহিত।।

সাতপুত্র সাত হাঁড়ি হয়েছে এখন।
সতত বধুরা মোর করে জ্বালাতন।।
নারায়ণ বলে শুন আমার বচন।
আত্মহত্যা মহা পাপ নরকে গমন।।
যাও দেবী গৃহে ফিরে কর লক্ষ্মীব্রত।
অচিরে হইবে সুখ তব পুর্ব্বমত।।
গুরুবারে সন্ধ্যাকালে মিলি নারীগণ।
করিবে লক্ষ্মীর ব্রত হয়ে এক মন।।
জলপূর্ণ ঘটে দিয়ে সিন্দুরের ফোঁটা।
আম্রের পল্লব দিবে শিরে এক গোটা।।
আসন সাজায়ে তাহে দিয়ে গুয়া পান।
সিন্দুর গুলিয়ে দিবে ব্রতের বিধান।।
ধুপ দীপ জ্বালাইয়া রাখিবে ধারেতে।
শুনিতে বসিবে কথা দুর্বা লয়ে হাতে।।
মনেতে লক্ষ্মীর মূর্ত্তি করিয়া চিন্তন।
এক চিত্তে ব্রতকথা করিবে শ্রবণ।।
কথান্তে উলুধ্বনি দিয়া প্রণাম করিবে।
তারপর এয়োগণ সিন্দুর লইবে।।
যে রমণী ব্রত করে প্রতি গুরুবারে।
হইবে বিশুদ্ধ মন লক্ষ্মীদেবীর বরে।।
যেই গৃহে ব্রতকালে সব নারীগণ।
সর্ব্বকার্য্য পরিহরি ব্রতে দেয় মন।।

সেই গৃহে বাঁধা রব হইয়া অচলা।
ভক্ত বাঞ্ছা পূর্ণ করি আমি যে কমলা।।
গুরুবারে হয় যদি পূর্ণিমা উদিত।
অনাহারে যেই নারী করে এই ব্রত।।
সকল বাসনা তার হইবে পূরণ।
পতি পুত্র সহ সুখে রবে সর্ব্বক্ষণ।।
লক্ষ্মীর ভান্ডার স্থাপি সব ঘরে ঘরে।
রাখিব তন্ডার তাহে এক মুষ্টি করে।।
সঞ্চয়ের পথ ইহা জানিবে সকলে।
অসময়ের উপকার পাবে এর ফলে।।
আলস্য ত্যাজিয়া সুতা কাট বামাগণ।
দেশের অবস্থা সবে করিয়া চিন্তন।।
প্রসন্না থাকিবা তাহে কহিলাম সার।
যাও গৃহে কর গিয়া ব্রতের প্রচার।।
বলিতে বলিতে দেবী নিজ মূর্ত্তি ধরি।
দরশন দিলা তারে রমা কৃপা করি।।
হেরিয়া হইল বৃদ্ধা আনন্দে বিভোর।
প্রণাম করিছে সতী করি হাত যোড়।।
প্রসন্না হইয়া দেবী দিয়া তারে কোল।
অন্তর্দ্ধান হইলেন বল হরিবোল।।
কর এবে ব্রত মোর সংসারের প্রচার।
অচিরে হইবে তব বৈভব অপার।।

পুত্র বধুগণ বশে থাকিবে তোমার।
সুখ শান্তিময় তব হইবে সংসার।।
এত বলি লক্ষ্মীদেবী হল অন্তর্দ্ধান।
হৃষ্ট চিত্তে বৃদ্ধা গৃহে করিলা গমন।।
আসিয়া গৃহেতে সব করিলা বর্ণন।
যেরূপে ঘচিল তার দেবী দরশন।।
ব্রতের বিধান সতী বলিল সবারে।
সবিশেষ কথা দেবী কহিল তাহারে।।
বধূগণ মিলে সবে করে লক্ষ্মীব্রত।
হিংসা দ্বেষ স্বার্থভাব চলিল ত্বরিত।।
মিলিল একত্রে পুনঃ ভাই সাতজন।
মিলে সহোদরা সম সব বধূগণ।।
মা লক্ষ্মী করিল তথা পুনরাগমন।
অচিরে হইল গৃহ শান্তি নিকেতন।।
অবশেষে শুন এক অপূর্ব ব্যাপার।
ব্রতের বিধন হল যে ভাবে প্রচার।।
অবন্তি নগরে এক গৃহস্ত ভবনে।
নারীগণ নিয়োজিত ব্রতের সাধনে।।
শ্রীনগরবাসী এক বণিক তনয়।
উপনীত হল আসি ব্রতর সমায়।।
অনেক সম্পতি তার ভাই পঞ্চজন।
পরস্পর অনুগত ছিল সর্ব্বক্ষণ।।

ব্রত দেখি হেলা করি সাধুর তনয়।
বলে একি ব্রত এতে কিবা ফলোদয়।।
সদাগর বাক্য শুনি বলে নারীগণ।
কর লক্ষ্মীব্রত যাতে মানস সাধন।।
যে জন করিবে ইহা ধন জনে তার।
লক্ষ্মীর বরেতে হবে পূর্ণিত সংসার।।
ইহা শুনি সদাগর বলে আহঙ্কারে।
যে জন অভাবে থাকে পূজে সে উহারে।।
ধন জন সুখ ভোগ যা কিছু সম্ভবে।
সকল আমার আছে আর কিবা হবে।।
কপালে না থাকে যদি লক্ষ্মী দিবে ধন।
হেন বাক্য কভু আমি শুনিনি কখন।।
গর্বিত বচন দেবী সহিতে না পারে।
অহঙ্কার দোষে দেবী ছাড়িল তাহারে।।
ধন মদে মত্ত হয়ে লক্ষ্মী করি হেলা।
নানা জিনিষ পূর্ণ তরি বাণিজ্যেতে গেলা।।
দৈব যোগে লক্ষ্মী কোপে সহ ধন জন।
সপ্ততরী জল মাঝে হল নিমগন।।
ইষ্টক আলয়াদি যা কিছু তাহার।
বজ্রাঘাতে দগ্ধ হয়ে হল ছারখার।।
দূর গেল ভ্রাতৃ ভাব হল ভিন্ন অন্ন।
সোনার সংসার এবে সকলি বিপন্ন।।

ভিক্ষাজীবি হয়ে সবে ফিরে ঘরে ঘরে।
জঠর জ্বালায় ঘোরে দেশ দেশান্তরে।।
পড়িয়া বিপাকে তাই সাধুর তনয়।
অশ্রু ঝরে দুই নেত্রে কাঁদে উভরায়।।
কি দোষ পাইয়া বিধি করিল এমন।
অধম সন্তান আমি অতি অভাজন।।
সাধুর দুর্দশা দেখি দয়া উপজিল।
করুণা হৃদয় লক্ষ্মী সকলি বুঝিল।।
দুঃখ দূর তবে তারে করিলা কৌশল।
পাঠাই অবন্তি পুরে করি ভিক্ষার ছল।।
নানা স্থানে ঘুরাইয়া আনি তার পরে।
উপনীত করাইল অবন্তি নগরে।।
লক্ষ্মীব্রত দেখে তথা সব নারীগণ।
স্মরণ হইল তার পূর্ব বিবরণ।।
বুঝিল তখন কেন পড়িল বিপাকে।
অহঙ্কার দোষে দেবী ত্যাজিল আমাকে।।
জোড় হস্তে ভক্তি ভাবে হয়ে একমন।
করিল তাঁহাকে স্তুতি সাধুর নন্দন।।
অতঃপর স্তর করি এক চিত্ত মনে।
একাগ্র হৃদয়ে সাধু ব্রত কথা শুনে।।
ব্রত অন্তে সদাগর করিয়া প্রণাম।
ব্রতের সঙ্কল্প করি আসে নিজ ধাম।।

বধুগণে বলে সাধূ লক্ষ্মী ব্রত সার।
সকলে মিলিয়া কর প্রতি গুরুবার।।
সাধূর বাক্যেতে তুষ্ট হয়ে বধূগণ।
ভক্তি মনে করে তারা ব্রত আচরণ।।
ভক্তাধীনা নারায়ণী হইয়া সদয়।
নাশিল সাধুর ছিল যত বিঘ্নচয়।।
দেবীর কৃপায় তার সম্পদ লভিল।
দারিদ্রতা দূরে গিয়ে নিরাপদ হল।।
সপ্ত ডিঙ্গা উঠে ভসি জলের উপর।
আনন্দে পূর্ণিত হল সাধুর অন্তর।।
মিলিল ভ্রাতারা পুনঃ আর বধূগণ।
সাধূর সংসার হল শান্তি নিকেতন।।
এইরূপে মর্ত্ত লোকে ব্রতের প্রচার।
মনে রেখ ধরাধামে লক্ষ্মীব্রত সার।।
লক্ষ্মীব্রত যে রমণী করে এক মনে।
লক্ষ্মীর দয়ায় তার বাড়ে ধনে জনে।।
অপুত্রার পুত্র হয় নির্ধনের ধন।
ইহলোকে সুখী অন্তে গোলকে গমন।।
এই ব্রত কথা শুনে যেবা রাখে ঘরে।
লক্ষ্মীর বরেতে তার মনোবাঞ্ছা পুরে।।
ব্রত করি স্তব পাঠ যেই জন করে।
অভাব না রহে তার লক্ষ্মী দেবীর বরে।।

লক্ষ্মীর ব্রতের কথা হল সমাপন।
ভক্তি ভরে বর চাহ যার যাহা মন।।
সিন্দুর সিঁথিতে দাও এয়োগণ মিলে।
উলুধ্বনী কর পরে অতি কৌতুহলে।।
লক্ষ্মীর ব্রতের কথা বড় মধুময়।
প্রণাম করিয়া যাও যে যার আলয়।
জোড় করি দুই হাত ভক্তিযুক্ত মনে।
প্রণাম করিয়া এবে যে থাক যেখানে।।
অগতির গতি মাতঃ তুমি নারায়ণী।
দয়াময়ী জগম্মাতা বিপদ নাশিনী।।
ভক্ত বৎসলা দেবী তুমি নারায়ণী।
হরিপ্রিয়া পদ্মাসনা ভূতা পহারিণী।।
এতদুরে পাঁচালী যে সমাপ্ত হইল।
লক্ষ্মী প্রীতি সবে মিলে হরি হরি বল।।

== সমাপ্ত ==

💎 উপরের লিখাগুলো ওয়ার্ড ফাইলে সেভ করুন!

মাত্র ১০ টাকা Send Money করে অফলাইনে পড়ার জন্য বা প্রিন্ট করার জন্য উপরের লিখাগুলো .doc ফাইলে ডাউনলোড করুন।

Download (.doc)
Sribas Chandra Das

Sribas Ch Das

Founder & Developer

HR & Admin Professional (১২+ বছর) ও কোচিং পরিচালক (১৪+ বছর)। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সহজ Study Content নিশ্চিত করতেই এই ব্লগ।

🏷️ Tag Related

⚡ Trending Posts

Facebook Messenger WhatsApp LinkedIn Copy Link

✅ The page link copied to clipboard!

Leave a Comment (Text or Voice)




Comments (0)

SSC রুটিন
২০২৬
আর মাত্র ৪ দিন বাকি
বাংলা-১ম পত্র
২১ এপ্রিল ২০২৬ | মঙ্গলবার
আর মাত্র ৬ দিন বাকি
বাংলা-২য় পত্র
২৩ এপ্রিল ২০২৬ | বৃহস্পতিবার
আর মাত্র ৯ দিন বাকি
ইংরেজি-১ম পত্র
২৬ এপ্রিল ২০২৬ | রবিবার
আর মাত্র ১১ দিন বাকি
ইংরেজি-২য় পত্র
২৮ এপ্রিল ২০২৬ | মঙ্গলবার
আর মাত্র ১৩ দিন বাকি
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
৩০ এপ্রিল ২০২৬ | বৃহস্পতিবার
আর মাত্র ১৬ দিন বাকি
গণিত
০৩ মে ২০২৬ | রবিবার
আর মাত্র ১৮ দিন বাকি
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়
০৫ মে ২০২৬ | মঙ্গলবার
আর মাত্র ২০ দিন বাকি
ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা
০৭ মে ২০২৬ | বৃহস্পতিবার
আর মাত্র ২৩ দিন বাকি
পদার্থবিজ্ঞান / ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা / ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং
১০ মে ২০২৬ | রবিবার
আর মাত্র ২৪ দিন বাকি
ভূগোল ও পরিবেশ
১১ মে ২০২৬ | সোমবার
আর মাত্র ২৫ দিন বাকি
কৃষি / গার্হস্থ্য / অন্যান্য
১২ মে ২০২৬ | মঙ্গলবার
আর মাত্র ২৬ দিন বাকি
হিসাববিজ্ঞান
১৩ মে ২০২৬ | বুধবার
আর মাত্র ২৭ দিন বাকি
রসায়ন / পৌরনীতি / ব্যবসায় উদ্যোগ
১৪ মে ২০২৬ | বৃহস্পতিবার
আর মাত্র ৩০ দিন বাকি
উচ্চতর গণিত / বিজ্ঞান
১৭ মে ২০২৬ | রবিবার
আর মাত্র ৩৩ দিন বাকি
জীববিজ্ঞান / অর্থনীতি
২০ মে ২০২৬ | বুধবার