রোজা কী এবং এর ফজিলত | What is Fasting & its Fazilat
| History | 💤 Page Views |
|---|---|
|
Published 14-Feb-2026 | 05:15 PM |
Total View 25 |
|
Last Updated 14-Feb-2026 | 05:42 PM |
Today View 0 |
রমজান মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ মাস। রহমত এবং ক্ষমা পাওয়ার মাস হল পবিত্র মাহে রমজান। এ মাসেই আল্লাহপাক পবিত্র কুরআন নাযিল করেছেন। রোজা মুসলিমদের জন্য ফরজ করা হয়েছে।
রোজা কী?
রোজা শব্দের অর্থ হল "বিরত থাকা"। আরবিতে রোজাকে "সাওম" বলা হয়, যার বহুবচন হল "সিয়াম"। সিয়াম অর্থ হল উপবাস থাকা, রক্ষা করা। রমজান মাস সিয়াম সাধনার মাস। ইসলামী শরীয়াতের পরিভাষায় আল্লাহপাকের হুকুম পালনার্থে এবং সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সুবহে সাদিক থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, সঙ্গম, পাপাচার এবং সেই সাথে যাবতীয় ভোগ-বিলাস ও অপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে বিরত থাকার নামই হচ্ছে সিয়াম।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহপাক শুধুমাত্র একটি আয়াতে রোজার কথা বলেছেন। দ্বিতীয়বার এর পুনরাবৃত্তি করেননি। সূরা বাকারার ১৮৩ নং আয়াতে আল্লাহ বলেনঃ
রমজান মাস কেন ফজিলতপূর্ণ
অন্যান্য মাসের তুলনায় রমজান মাসের ফজিলত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাবান। আরবি ১২টি মাসের মধ্যে রমজান মাস হল শ্রেষ্ঠ মাস। এ মাসের শ্রেষ্ঠত্বের পিছনে অনেক কারণ আছে। তার মধ্যে সর্বশ্রেঠ যে কারণ তা হল— আল্লাহপাক এই পবিত্র মাসে কুরআন অবতীর্ণ করেছেন।
অন্য মাসে একটি নফল আদায় করলে যে সওয়াব পাওয়া যাবে, রমজান মাসে সে নফল ফরজের সমতুল্য। আবার একটি ফরজ পালন করলে আল্লাহপাক ৭০ গুন সওয়াব তার আমলনামায় লিখে দিবেন (সুবাহানাল্লাহ)। এ মাসে আল্লাহপাক জাহান্নামের সকল দরজা বন্ধ করে দেন এবং সমস্ত কবরের আজাব বন্ধ করে দেন।
হাদিসে এসেছে:
রমজান মাসে আল্লাহপাক তার বান্দাদের জন্য সমস্ত রহমতের দরজা এবং জান্নাতের সকল দরজা খুলে দেন। অন্য এক হাদিসে এসেছে, রমজান মাসের প্রতিটি রাতে এবং দিনে আল্লাহপাক অসংখ্য মুমিন বান্দাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করেন।
রোজার ফজিলত
হাদিসে কুদসীর মধ্যে আল্লাহপাক বলেছেন:
"রোজা আমার জন্যে, এর প্রতিদান আমি আল্লাহ নিজেই দিব।"
এখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার হল আল্লাহপাক বলেছেন, রোজা আমার জন্য। অথচ আমরা যে নামাজ পড়ি, যাকাত দেই, হজ্জ্ব করি—সব আল্লাহর জন্যই করি। কিন্তু আল্লাহপাক অন্য কোথাও এমনটি বলেননি। এটি রোজার বিশেষ মর্যাদা।
রোজাদারদের জন্য আল্লাহপাক ৫টি পুরুষ্কারের কথা বলেছেন, যা শুধু উম্মতে মুহাম্মদের (স.) জন্য:
- ১. রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহপাকের কাছে মিসক আম্বরের চাইতে অধিক সুঘ্রাণযুক্ত।
- ২. রোজাদার ব্যক্তি ইফতার করার আগ পর্যন্ত যা দোয়া করবে, আল্লাহপাক তা কবুল করে নিবেন। এমনকি সমুদ্রের মাছও রোজাদার ব্যক্তির জন্য ক্ষমা চাইতে থাকে।
- ৩. রোজাদারদের জন্য আল্লাহপাক বেহেস্তকে সুসজ্জিত করেন।
- ৪. রমজানের শেষ রাত্রিতে আল্লাহপাক বান্দার গুন্নাহগুলোকে মাফ করে দেন।
- ৫. অভিশপ্ত শয়তানকে আল্লাহপাক বেঁধে রাখার কারণে গুন্নাহমুক্তভাবে জীবন-যাপন করা সহজ হয়।
এক হাদিসে রাসূল (স.) বলেছেন, তিন প্রকার ব্যক্তির দোয়া কখনো বৃথা যাবে না:
- রোজাদার ব্যক্তি।
- ন্যায়পরায়ণ শাসক।
- নির্যাতিত ব্যক্তি।
আল্লাহর হাবিব (স.) আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি পরিপূর্ণ ঈমানের সাথে আল্লাহপাকের সন্তুষ্টির জন্য রোজা আদায় করবে, আল্লাহপাক তার জিন্দেগীর সমস্ত গুন্নাহ মাফ করে দিবেন।" (সুবাহানাল্লাহ)। এর চাইতে বড় পুরস্কার আর কি হতে পারে!
হাদিসের মধ্যে এসেছে "রোজা ঢাল স্বরূপ"। ঢাল যেমন মানুষকে আত্মরক্ষা করতে সাহায্য করে, ঠিক রোজা হল মুমিনদের জন্য ঢাল স্বরূপ। রোজাদার ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা কথা বলতে পারবে না, সুদ গ্রহণ করতে পারবে না, ঘুষ দিতে পারবে না, ধোঁকা প্রতারণা করতে পারবে না।
জান্নাতের 'রাইয়ান' দরজা
নবী করিম (স.) বলেছেন: জান্নাতের ৮টি দরজা আছে। তার মধ্যে একটি দরজার নাম হল রাইয়ান। যা শুধুমাত্র রোজাদারদের জন্য আল্লাহপাক নির্ধারণ করেছেন। রোজাদার ব্যক্তিরা এই দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
"ওই ব্যক্তি ধ্বংস হয়ে যাক। যে ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় একটি রমজান পেলো কিন্তু রমজান পাওয়ার পরেও আল্লাহপাকের কাছ থেকে সে তওবা করে গুন্নাহমুক্ত হতে পারলো না।"
আমরা ধ্বংস হতে চাই না, বরং আমরা আল্লাহপাকের কাছে তওবা করে গুনাহমুক্ত জীবন পরিচালনা করতে চাই। আল্লাহপাক আমাদেরকে তৌফিক দান করুন। আমিন।
⚡ Trending Posts
- মার্চ ১৯৭১ - প্রতিটি দিনের ঘটনা
- প্রবন্ধ রচনা : বাংলাদেশের গণহত্যা : ২৫শে মার্চ
- ৭ই মার্চ, ১৯৭১ : বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ - PDF - Audio
- প্রবন্ধ রচনা : ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের তাৎপর্য - PDF
- অনুচ্ছেদ : ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ
- সাধারণ জ্ঞান : ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ / অপারেশন সার্চলাইট / স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র
- গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোর পোস্ট সমূহ
Leave a Comment (Text or Voice)
Comments (0)