কোরবানির জন্য কেমন পশু নির্বাচন করবেন? সঠিক নিয়ম ও মাসআলা

Article Stats 📡 Page Views
Reading Effort
420 words | 3 mins to read
Total View
6
Last Updated
1 day ago
Today View
0

কোরবানির জন্য কেমন পশু নির্বাচন করবেন? বিস্তারিত মাসআলা

কোরবানির জন্য কেমন পশু নির্বাচন করবেন? সঠিক নিয়ম ও মাসআলা

কোরবানি হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে পশু জবেহ করার একটি পবিত্র ইবাদত। ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে সামর্থ্যবানদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না করা গুনাহের কাজ। কোরবানির পশু নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইসলামে সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও নির্দেশিকা রয়েছে। আসুন জেনে নিই, কোরবানির জন্য কেমন পশু নির্বাচন করা উচিত।

১. কোরবানির যোগ্য পশু ও বয়সের বাধ্যবাধকতা

ইসলামী বিধান অনুযায়ী মাত্র ছয় প্রকার পশু দিয়ে কোরবানি করা জায়েজ। এগুলো হলো: উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা। এগুলো ছাড়া অন্য কোনো পশু (যেমন: হরিণ বা বন্য পশু) দিয়ে কোরবানি বৈধ নয়। পশুর বয়সের ক্ষেত্রে যে নিয়ম মানতে হবে:

  • ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা: বয়স কমপক্ষে ১ বছর হতে হবে। তবে ছয় মাস বয়সী ভেড়া বা দুম্বা যদি দেখতে এতটাই মোটাতাজা হয় যে এক বছরের মতো মনে হয়, তবে তা দিয়ে কোরবানি জায়েজ।
  • গরু ও মহিষ: বয়স পূর্ণ ২ বছর হতে হবে।
  • উট: বয়স পূর্ণ ৫ বছর হতে হবে। (সূত্র: হিদায়া, খণ্ড: ০৪, পৃষ্ঠা: ১০৩)

২. শরিকে কোরবানি দেওয়ার নিয়ম

সব পশুতে শরিক হওয়ার সুযোগ নেই। পশুর ধরন অনুযায়ী শরিকানার নিয়ম নিচে দেওয়া হলো:

  • একক কোরবানি: ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার ক্ষেত্রে কেবল একজন ব্যক্তিই কোরবানি করতে পারবেন। এতে কোনো অংশীদার বা শরিক নেওয়া যাবে না।
  • যৌথ বা শরিকি কোরবানি: গরু, মহিষ এবং উটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭ জন ব্যক্তি শরিকে কোরবানি করতে পারবেন।
হাদিস: "একটি উট এবং গরু-মহিষে সাতজন ব্যক্তি কোরবানিতে অংশ নিতে পারে।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩১৮)

৩. যেসব ত্রুটি থাকলে পশু কোরবানি দেওয়া যাবে না

কোরবানির পশু হতে হবে দোষ-ত্রুটিমুক্ত। পশুর মধ্যে বড় ধরনের কোনো ত্রুটি থাকলে সেই পশু দিয়ে কোরবানি আদায় হবে না:

  • দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তি সম্পূর্ণ না থাকা।
  • এতটাই দুর্বল বা খোঁড়া যে জবেহ করার স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারে না।
  • লেজের বা কানের অর্ধেকের বেশি অংশ কাটা থাকা।
  • শিং একেবারে গোড়াসহ উপড়ে যাওয়া।
  • অধিকাংশ দাঁত পড়ে যাওয়া বা না থাকা।
  • রোগের কারণে বুকের দুধ শুকিয়ে যাওয়া। ছাগলের ক্ষেত্রে একটি এবং গরু-মহিষের ক্ষেত্রে দুটি স্তন কাটা থাকা।
হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "চার প্রকার পশু দিয়ে কোরবানি কখনোই জায়েজ হবে না। অন্ধ—যার অন্ধত্ব স্পষ্ট, রোগাক্রান্ত—যার রোগ স্পষ্ট, পঙ্গু—যার পঙ্গুত্ব স্পষ্ট এবং আহত—যার অঙ্গ ভেঙে গেছে।" (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩১৪৪)

৪. যেসব সামান্য ত্রুটি থাকলেও কোরবানি জায়েজ

পশুর মধ্যে ছোটখাটো কিছু ত্রুটি থাকলে তা মাকরূহ হলেও কোরবানি আদায় হয়ে যায়:

  • পশু উন্মাদ, তবে ঠিকমতো ঘাস-পানি খায়।
  • লেজ বা কানের অর্ধেকের কম অংশ কাটা।
  • জন্মগতভাবে শিং নেই, অথবা শিং আছে কিন্তু সামান্য ভেঙে গেছে (গোড়া থেকে উপড়ে যায়নি)।
  • একটি পা খোঁড়া, কিন্তু অন্য তিনটি পা দিয়ে ভর দিয়ে হাঁটতে পারে।
  • খাসি বা জন্মগতভাবে অণ্ডকোষ না থাকা (খাসি কোরবানি করা বরং উত্তম)।

💎 উপরের লিখাগুলো ওয়ার্ড ফাইলে সেভ করুন!

মাত্র 10 টাকা Send Money করে অফলাইনে পড়ার জন্য বা প্রিন্ট করার জন্য উপরের লিখাগুলো .doc ফাইলে ডাউনলোড করুন।

Download (.doc)

Sribas Ch Das

Founder & Developer

HR & Admin Professional (১২+ বছর) ও কোচিং পরিচালক (১৪+ বছর)। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সহজ Study Content নিশ্চিত করতেই এই ব্লগ।

🏷️ Tag Related

⚡ Trending Posts

Facebook Messenger WhatsApp LinkedIn Copy Link

✅ The page link copied to clipboard!

Leave a Comment (Text or Voice)




Comments (0)