সুন্নাহ পদ্ধতিতে কোরবানির পশু জবেহ করার নিয়ম ও দোয়া
| Article Stats | 💤 Page Views |
|---|---|
|
Reading Effort 537 words | 3 mins to read |
Total View 2 |
|
Last Updated 3 hours ago |
Today View 0 |
কোরবানি কেবল একটি ধর্মীয় রীতি নয়, এটি মহান আল্লাহর প্রতি আমাদের আনুগত্য ও ত্যাগের এক মহান নিদর্শন। কোরবানির পশু ক্রয় থেকে শুরু করে তা সঠিকভাবে জবেহ করা পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট ইসলামী বিধান রয়েছে। আজকের ব্লগে আমরা কোরবানির পশু জবেহ করার সঠিক সুন্নাহ পদ্ধতি ও দোয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো।
জবেহকারীর যোগ্যতা ও প্রাথমিক শর্তাবলি
- মুসলমান হওয়া শর্ত: জবেহকারীকে অবশ্যই ঈমানদার মুসলমান হতে হবে। কোনো কাফের বা মুরতাদের জবেহ করা পশুর মাংস খাওয়া জায়েজ নেই।
- লিঙ্গভেদ নেই: জবেহকারী পুরুষ বা মহিলা যেই হোন না কেন, যদি তিনি জবেহ করার সঠিক নিয়ম জানেন এবং বিসমিল্লাহ পড়েন, তবে তার জবেহ করা পশু হালাল।
- নাবালেগ শিশু: যদি কোনো নাবালেগ শিশু জবেহ করার নিয়ম জানে এবং আল্লাহর নাম নিয়ে জবেহ করে, তবে সেই পশুর মাংস খাওয়া হালাল হবে।
- ঈদের নামাজের পর: ঈদের নামাজের আগে কোরবানি করা জায়েজ নয়। নামাজ শেষ হওয়ার পরই কোরবানি করতে হবে।
জবেহ করার আগে পশুর প্রতি দয়া (সুন্নাহ)
ইসলাম পশুদের প্রতি সর্বোচ্চ দয়া প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে। জবেহ করার আগে নিচের কাজগুলো করা সুন্নাহ:
- ক্ষুধার্ত না রাখা: জবেহ করার আগে পশুকে পর্যাপ্ত পানি পান করানো এবং ক্ষুধার্ত না রাখা জরুরি।
- ছুরি ধার করা: পশুর সামনে ছুরি ধার দেওয়া মাকরূহ। আগে থেকেই ছুরি খুব ধারালো করে নিতে হবে যাতে পশুর কষ্ট কম হয়।
- শান্ত রাখা: এক পশুর সামনে অন্য পশু জবেহ করা উচিত নয়। এতে পশু আতঙ্কিত হয়।
জবেহ করার দোয়া ও পদ্ধতি
পশুকে বাম কাতে কিবলার দিকে মুখ করে শোয়ানোর পর জবেহকারী নিজের পা পশুর ঘাড়ের এক পাশে রেখে নিচের দোয়াটি পড়বে:
অনুবাদ: নিশ্চয়ই আমি একনিষ্ঠভাবে সেই মহান সত্তার দিকে মুখ ফিরাচ্ছি যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও মৃত্যু সব কিছুই মহান আল্লাহর জন্য, যিনি বিশ্বজাহানের প্রতিপালক। তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি এ কাজের জন্যই আদিষ্ট হয়েছি। হে আল্লাহ! এটি তোমার পক্ষ থেকেই প্রাপ্ত এবং তোমারই সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গকৃত।
জবেহ করার সময় অবশ্যই বলতে হবে:
* ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহর নাম (বিসমিল্লাহ) না বললে সেই পশুর মাংস খাওয়া হারাম হয়ে যায়।
জবেহ করার কারিগরি নিয়ম
- নিজের পশু নিজে জবেহ করা: নিজের কোরবানির পশু নিজে জবেহ করা উত্তম। না পারলে অন্তত উপস্থিত থাকা ভালো।
- রগ কাটা: জবেহ করার সময় চারটি রগ কাটা জরুরি—১. শ্বাসনালী, ২. খাদ্যনালী এবং ৩ ও ৪. দুই পাশের দুটি মোটা রক্তনালী (শাহরগ)। অন্তত তিনটি রগ কাটা গেলে জবেহ শুদ্ধ হবে।
- অতিরিক্ত না কাটা: পশুর প্রাণ পুরোপুরি বের হওয়ার আগে ঘাড় মটকানো বা মেরুদণ্ডের হাড় কাটা মাকরূহ।
- চামড়া ছাড়ানো: পশু সম্পূর্ণ ঠান্ডা হওয়ার আগে বা শরীরের কম্পন বন্ধ হওয়ার আগে চামড়া ছাড়ানো বা পশুরু অঙ্গ কাটা কঠোরভাবে নিষেধ।
জবেহ পরবর্তী দোয়া
কোরবানি শেষ হওয়ার পর আল্লাহর দরবারে কবুলিয়াতের জন্য এই দোয়াটি পড়া যেতে পারে:
অনুবাদ: হে আল্লাহ! আমার পক্ষ থেকে এটি কবুল করুন ঠিক যেভাবে আপনি কবুল করেছিলেন আপনার প্রিয় হাবিব মুহাম্মদ (সা.) এবং বন্ধু ইব্রাহিম (আ.)-এর পক্ষ থেকে।
একটি বিশেষ অনুরোধ: কোরবানি শেষ হওয়ার পর পশুর রক্ত ও বর্জ্য যেখানে সেখানে ফেলবেন না। এতে পরিবেশ দূষিত হয় এবং মানুষের কষ্ট হয়। বর্জ্যগুলো গর্ত খুঁড়ে মাটি চাপা দিন অথবা সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত স্থানে ফেলুন। পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ।
Leave a Comment (Text or Voice)
Comments (0)