তালাক-ই-তৌফিজ এবং তালাক হলফনামার এফিডেভিট ফরম্যাট (বিজয় ও ইউনিকোড) - MS Word / Docx

Article Stats 📡 Page Views
Reading Effort
603 words | 4 mins to read
Total View
5
Last Updated
14 hours ago
Today View
3

বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইন (১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ) অনুযায়ী বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য নোটারি পাবলিক বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের সম্মুখে একটি ‘হলফনামা’ (Affidavit) সম্পাদন করতে হয়। এরপর উক্ত তালাকের নোটিশ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান/মেয়র এবং অপর পক্ষকে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠাতে হয়। নোটিশ পাওয়ার পর ৯০ দিন পার হলে তালাক কার্যকর হয়।

১. স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তালাক প্রদানের হলফনামা

তালাক প্রদানের হলফনামা

প্রথম পক্ষ (হলফকারী/স্বামী):
নাম: [স্বামীর নাম], পিতা: [পিতার নাম], মাতা: [মাতার নাম]
ঠিকানা: [গ্রাম/মহল্লা, ডাকঘর, থানা, জেলা]
বয়স: [বয়স] বছর, ধর্ম: ইসলাম, পেশা: [পেশা], জাতীয়তা: বাংলাদেশী, এনআইডি নং: [এনআইডি নম্বর]।

দ্বিতীয় পক্ষ (স্ত্রী):
নাম: [স্ত্রীর নাম], পিতা: [পিতার নাম], মাতা: [মাতার নাম]
ঠিকানা: [গ্রাম/মহল্লা, ডাকঘর, থানা, জেলা]

আমি প্রথম পক্ষ (হলফকারী) পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালার নাম স্মরণ করিয়া অত্র তালাক প্রদানের হলফনামার বয়ান আরম্ভ করিলাম। আমি শপথপূর্বক ঘোষণা করিতেছি যে:

  1. আমি এবং দ্বিতীয় পক্ষ দুজনেই জন্মসূত্রে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক এবং ইসলাম ধর্মের অনুসারী।
  2. গত [বিবাহের তারিখ] তারিখে ইসলামী শরিয়াহ ও বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী [দেনমোহরের পরিমাণ]/- টাকা দেনমোহর ধার্য করিয়া দ্বিতীয় পক্ষের সহিত আমার বিবাহ সম্পন্ন হয় এবং উক্ত বিবাহ সংশ্লিষ্ট কাজী অফিসে রেজিস্ট্রি করা হয়।
  3. বিবাহের পর কিছুদিন আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করি। কিন্তু পরবর্তীতে আমাদের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয়। দ্বিতীয় পক্ষ আমার অবাধ্য হয়ে চলেন, সাংসারিক কাজে অমনোযোগী হন এবং আমার বিনা অনুমতিতে যথেচ্ছভাবে চলাফেরা করেন।
  4. এমতাবস্থায়, তার সাথে আমার দাম্পত্য জীবন চালিয়ে যাওয়া এবং ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক স্বামী-স্ত্রীর পবিত্র সম্পর্ক বজায় রাখা কোনোভাবেই আর সম্ভব নয়।
  5. বিধায়, আমি স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে, সুস্থ মস্তিষ্কে এবং অন্যের বিনা প্ররোচনায় আজ রোজ [তারিখ] তারিখে [সময়] ঘটিকার সময় ২ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ সাক্ষীর উপস্থিতিতে দ্বিতীয় পক্ষ [স্ত্রীর নাম]-কে আমার স্ত্রীত্ব হতে এক, দুই, তিন তথা "তালাক, তালাক, তালাক" বলিয়া চূড়ান্তভাবে তালাক প্রদান করিলাম। আজ হতে সে আমার জন্য হারাম এবং আমি তার জন্য হারাম। আমাদের মধ্যে আর কোনো স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক বিদ্যমান রইল না।
  6. আমি ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৭(১) ধারা অনুযায়ী এই তালাকের নোটিশ সংশ্লিষ্ট [ইউনিয়ন পরিষদ/সিটি কর্পোরেশন]-এর চেয়ারম্যান/মেয়র এবং দ্বিতীয় পক্ষ বরাবর রেজিস্ট্রি ডাকযোগে প্রেরণ করিলাম।

উপরে বর্ণিত সকল তথ্য আমার জ্ঞান ও বিশ্বাস মতে সম্পূর্ণ সত্য। কোনো তথ্য গোপন করা হয়নি।

সাক্ষীগণের নাম ও স্বাক্ষর:
১. ...............................
২. ...............................
........................................
প্রথম পক্ষের (স্বামীর) স্বাক্ষর

২. স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে তালাক প্রদানের হলফনামা (তালাক-ই-তৌফিজ)

নোট: স্ত্রীর ক্ষেত্রে তালাক দিতে হলে কাবিননামার ১৮ নং কলামে স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া থাকতে হবে। একে 'তালাক-ই-তৌফিজ' বলা হয়।

তালাক-ই-তৌফিজ বা ক্ষমতা বলে তালাক প্রদানের হলফনামা

প্রথম পক্ষ (হলফকারী/স্ত্রী):
নাম: [স্ত্রীর নাম], পিতা: [পিতার নাম], মাতা: [মাতার নাম]
ঠিকানা: [গ্রাম/মহল্লা, ডাকঘর, থানা, জেলা]
বয়স: [বয়স] বছর, ধর্ম: ইসলাম, জাতীয়তা: বাংলাদেশী, এনআইডি নং: [এনআইডি নম্বর]।

দ্বিতীয় পক্ষ (স্বামী):
নাম: [স্বামীর নাম], পিতা: [পিতার নাম], মাতা: [মাতার নাম]
ঠিকানা: [গ্রাম/মহল্লা, ডাকঘর, থানা, জেলা]

আমি শপথপূর্বক ঘোষণা করিতেছি যে, গত [বিবাহের তারিখ] তারিখে আমাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। উক্ত কাবিননামার ১৮ নং কলামে দ্বিতীয় পক্ষ আমাকে বিবাহ বিচ্ছেদ বা তালাক প্রদানের শর্তহীন ক্ষমতা (তালাক-ই-তৌফিজ) প্রদান করেন। দ্বিতীয় পক্ষের অমানবিক আচরণ ও চরম অবহেলার কারণে আমার পক্ষে তার সাথে দাম্পত্য জীবন চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিধায়, আমি স্বেচ্ছায় কাবিননামার ১৮ নং কলামে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ২ জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে দ্বিতীয় পক্ষ [স্বামীর নাম]-কে এক, দুই, তিন তথা "তালাক, তালাক, তালাক" বলিয়া চূড়ান্তভাবে তালাক প্রদান করিলাম।

সাক্ষীগণের নাম ও স্বাক্ষর:
১. ...............................
২. ...............................
........................................
প্রথম পক্ষের (স্ত্রীর) স্বাক্ষর
অত্যন্ত জরুরি

⚠️ আইনি সতর্কতা (Disclaimer)

  • শুধুমাত্র এই হলফনামা (Affidavit) সম্পাদন করলেই তালাক কার্যকর হয় না।
  • আইন অনুযায়ী এই হলফনামার পাশাপাশি একটি তালাকের নোটিশ চেয়ারম্যান/মেয়র এবং অপর পক্ষকে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে (AD সহ) পাঠানো বাধ্যতামূলক।
  • চেয়ারম্যান/মেয়র নোটিশ প্রাপ্তির দিন থেকে ৯০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর তালাক চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়।
  • বাস্তব ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য স্থানীয় রেজিস্টার্ড কাজী বা একজন আইনজীবীর সহায়তা গ্রহণ করা আবশ্যক।

নমুনা ফরম্যাট ডাউনলোড করুন

স্বামী কর্তৃক তালাক নামা

Unicode Writing Bijoy Writing

স্ত্রী কর্তৃক তালাক নামা

Unicode Writing Bijoy Writing

Sribas Ch Das

Founder & Developer

HR & Admin Professional (১২+ বছর) ও কোচিং পরিচালক (১৪+ বছর)। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সহজ Study Content নিশ্চিত করতেই এই ব্লগ।

🏷️ Tag Related

⚡ Trending Posts

Facebook Messenger WhatsApp LinkedIn Copy Link

✅ The page link copied to clipboard!

Leave a Comment (Text or Voice)




Comments (0)