বাংলাদেশে হা জং আদিবাসী
| History | 📡 Page Views |
|---|---|
|
Published 06-Dec-2025 | 11:29 PM |
Total View 53 |
|
Last Updated 22-Dec-2025 | 04:40 PM |
Today View 0 |
বাংলাদেশে যে সকল আদিবাসী জাতি রয়েছেন তার মধ্যে ‘হাজং’ উল্লেখযোগ্য। আবহমান কাল ধরে ‘হাজং’রা স্বতন্ত্র সামাজিক রীতিনীতি পালনের মাধ্যমে, আপন স্বকীয়তা লালন করে এদেশে বসবাস করে আসছেন। বাংলাদেশে বসবাসকারী হাজংদের জীবন ও সংস্কৃতি বৈচিত্র্যময়-
উৎপত্তি
হাজংদের আদি নিবাস বিহারের অদূরে অবন্তিনগর (মালব) নামক স্থানে এবং নিজেদেরকে তারা সূর্য বংশীয় ক্ষত্রিয় বলে দাবী করেন। পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, একবিংশতিবার ক্ষত্রিয় নিধনকারী পরশুরাম যখন ক্ষত্রিয়দের নির্মূল করার অভিযান চালায় সে সময়ে অবন্তিনগরের হাজং রাজা পুষ্পরথ নিহত হন। পঞ্চমাসের অন্তঃসত্ত্বা রাণী স্বরূপা আত্মরক্ষার্থে তার অনুসারীদের নিয়ে রাজ্য ছেড়ে পলায়ন করে আসামের কামরূপ রাজ্যের কামদত্ত মুনির আশ্রমে আশ্রয় গ্রহণ করেন। ঐ রাজবংশের শেষ রাজা ভাস্কর বর্মণের সময়ে হাজো রাজ্যের পতন ঘটে এবং এই হাজো নগর থেকে কাশ্যপ বর্মণ নামে এক দলপতি ১২,০০০ লোক নিয়ে গারো পাহাড়ের পশ্চিম-দক্ষিণ অংশে কড়ইবাড়ী পুটিমারি নামক স্থানে আস্তানা স্থাপন করেন।
আগমন ও পরিচয়
হাজংদের উৎপত্তি সম্পর্কে অধ্যাবধি কোনো বস্তুনিষ্ঠ ও বাস্তবভিত্তিক তথ্য নেই। হাজংরা আসামের কামরূপ জেলার হাজো অঞ্চল থেকে এদেশে এসেছেন। অন্য মতে হাজংরা কাছাড়ীরা প্রধান দুটো শাখায় বিভক্ত। একটি পর্বতবাসী এবং অন্যটি হাজাই বা সমতলবাসী। এই হাজাই থেকে হাজং শব্দের উৎপত্তি হয় বলে তারা মনে করেন। মূলত হাজংগণ সুদূর চীনের হোয়াংহো নদীর অববাহিকা থেকে তিব্বত, তিব্বত থেকে অবন্তিনগর (মালব), অবন্তিনগর থেকে প্রাগজ্যোতিষপুর (গৌহাটী) হাজোনগর এবং এই হাজোনগর থেকে গারো পাহাড়ের কড়ইবাড়ী বারহাজারী থেকে বাংলাদেশে বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃতি লাভ করেন।
আবাসভূমি
হাজংরা বর্তমানে বাংলাদেশের শেরপুর জেলার শ্রীবর্দী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলায়, নেত্রকোণ জেলার সুসং দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলায় এবং সুনামগঞ্জ জেলার সুনামগঞ্জ সদর, ধর্মপাশা, তাহেরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, বোয়ারা বাজার উপজেলায়, গাজীপুর সদর, শ্রীপুর, কালিয়াকৈর, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ও সখিপুর উপজেলায়, ময়মনসিংহের ধোবউড়া ও ভালুকা উপজেলায় হাজংদের বসবাস রয়েছে। এছাড়াও ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড়, খাসিয়া পাহাড়, আসামের নওগাঁ, কামরূপ, হোজাই, গোয়ালপাড়া, নলবাড়ী, দরং ও অরুণাচল অঞ্চলে এদের বসবাস রয়েছে।
সমাজ ব্যবস্থা ও পরিচালনা
হাজংদের সামাজিক ব্যবস্থায় কয়েকটি পরিবার নিয়ে একটি পাড়া, কয়েকটি পাড়া নিয়ে একটি গাঁও, কয়েকটি গাঁও নিয়ে একটি চালা এবং কয়েকটি চালা নিয়ে একটি পুরাগাঁও হয়। ‘পুরাগাঁও’ ও পরগনা সমার্থক শব্দ। পাড়া ও গাঁও (গ্রাম) প্রধানকে গাঁওবুড়া বলা হয়। চাক্লার প্রধানকে ‘সড়ে মড়ল’ বলা হয়। অতীতে পুরাগাঁও বা পরগনা প্রধানকে রাজা বলে সম্বোধন করা হতো। পাড়া বা গাঁওয়ের বয়স্ক, সচেতন, সচ্ছল ও বিজ্ঞ ব্যক্তিকেই সম্মিলিত সিদ্ধান্তে ‘গাঁওবুড়া’ নির্চাচন করা হয়। গাঁওদের নিযুক্ত গাঁওবুড়াদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে একজন চাকলার প্রধান নিযুক্ত হন। চাকলার প্রধানের নামকরণ করা হয় ‘সড়ে মড়ল’। পুরাগাঁও বা পরগনার প্রধান নির্বাচন করার জন্য একইভাবে গাঁওবুড়া ও সড়ে মড়লের মতামত সাপেক্ষে রাজা নির্বাচিত করা হতো।
পরীক্ষার প্রশ্নে হাজং
১ টঙ্গ আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট-
(ক) মারমা
(খ) চাকমা
(গ) হাজং
(ঘ) মুরং
২ যে জেলায় হাজংদের বসবাস নেই-
(ক) শেরপুর
(খ) ময়মনসিংহ
(গ) সিলেট
(ঘ) নেত্রকোণা
৩ হাজংদের আদিবাস কোথায়?
(ক) ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা
(খ) কক্সবাজার ও রামু
(গ) রংপুর ও দিনাজপুর
(ঘ) সিলেট ও মণিপুর
Leave a Comment (Text or Voice)
Comments (0)