ওমরাহ করার সঠিক নিয়ম ও কাবা শরীফের বিস্তারিত পরিচিতি

Article Stats 📡 Page Views
Reading Effort
2,051 words | 12 mins to read
Total View
1
Last Updated
5 hours ago
Today View
0

কাবা শরীফের বর্ণনা ও পরিচিতি (সংক্ষেপে)

পবিত্র কাবা শরীফ ও মাতাফ

পবিত্র কাবা শরীফ

  • ১। রুকনে আসওয়াদ: পূর্ব দিকের কোণ, যেখানে হজরে সাওয়াদ (কালো পাথর) অবস্থিত।
  • ২। রুকনে ইরাকি: উত্তর-পূর্ব কোণ, যা ইরাকের দিকে মুখ করে আছে।
  • ৩। রুকনে শামি: উত্তর-পশ্চিম কোণ, যা সিরিয়ার (শাম) দিকে মুখ করে আছে।
  • ৪। রুকনে ইয়ামানি: দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ, যা ইয়েমেনের দিকে মুখ করে আছে।
উল্লেখ্য: তাওয়াফ (কাবা শরীফের চারপাশে প্রদক্ষিণ) শুরু হয় রুকনে আসওয়াদ থেকে, তারপর রুকনে ইরাকি, রুকনে শামি, রুকনে ইয়ামানি হয়ে রুকনে আসওয়াদে এসে এক চক্কর শেষ হয়। এইভাবে সাত চক্কর দিতে হয়।

মুলতাযিম কোথায়?

মুলতাযিম হলো হজরে আসওয়াদ আর কাবার দরজার মাঝের দেয়ালের অংশ।
মুলতাযিমে দোয়া করার পদ্ধতি: অনেক বড় ফজিলতের স্থান এটি। রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং সাহাবায়ে কেরাম এই স্থানে এসে কাবার দেয়ালে বুক, মুখ, হাত লাগিয়ে কেঁদে কেঁদে দোয়া করতেন। বর্ণনায় আছে এই জায়গায় দোয়া করলে আল্লাহ্ তা’লা ফিরিয়ে দেন না, বরং কবুল করেন। (নিজের সমস্ত চাওয়া-পাওয়া যা ইচ্ছা সহজ ভাষায় আল্লাহর কাছে কাঁদতে কাঁদতে চাইবেন।)

মাকামে ইবরাহিম কী?

মাকামে ইবরাহিম হলো, কাবা শরীফের দরজার সামনে আনুমানিক ৪০-৫০ ফুট দূরে, সোনালী রঙের গম্বুজের মতো সুন্দর খাঁচার মধ্যে সংরক্ষিত থাকা একটা পাথর খণ্ড, যার উপর হযরত ইবরাহিম (আঃ) দাঁড়িয়ে কাবা শরীফ নির্মাণ করেছিলেন। সেই পাথরের মধ্যে ইব্রাহীম (আঃ) পায়ের ছাপ এখনও স্পষ্টভাবে দেখা যায়। (এটি দোয়া কবুলের স্থান)

হাতিম কী?

হাতিম কাবার (কাবা শরিফ) একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যদিও এটি বর্তমানে কাবার মূল কাঠামোর বাইরের অর্ধবৃত্তাকার (৪ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতা) সাদা পাথরের দেয়াল। হাতিম অংশ কাবার ভেতরের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই হাতিমের ভেতরে ২ রাকাত নফল নামাজ পড়া সম্ভব হলে, সেটা কাবার ভেতরে নামাজ পরার সমতুল্য ও অত্যন্ত ফজিলত পূর্ণ।
ওমরার তওয়াফ করার সময়ে কেউ হাতিমের ভেতর দিকে হাঁটা যাবে না। বরং এই অংশটিকে কাবার অংশ ধরে তার বাইরে দিয়ে ঘুরতে হবে।

মিজাবে রহমত কী?

মিজাবে রহমত হলো কাবা শরীফের ছাদ থেকে বৃষ্টির পানি নির্গমনের জন্য স্থাপিত একটি স্বর্ণ নির্মিত নালি বা পাথর। এই অংশ দিয়ে হাতিমের দিকেই পানি পড়ে।
মেজাবে রহমতের নিচে, অর্থাৎ হাতিম অংশে দাঁড়িয়ে দোয়া করা অত্যন্ত ফজিলত পূর্ণ এবং আল্লাহ্‌র রহমত লাভের বিশেষ স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়।


জেনে রাখা ভালো

মিকাত কী?

মিকাত হলো একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা বা স্থান, যেই স্থান সীমারেখা অতিক্রম করার আগেই একজন ওমরার নিয়তকারী যাত্রী (ইহরাম পরিধান করা ও নিয়ত করা ফরজ)। এই সীমারেখা অতিক্রম করার পর ইহরাম ছাড়া মক্কার দিকে যাওয়া জায়েজ নয়।

বাংলাদেশি ওমরা যাত্রীদের জন্য মিকাত কোথায়?

ইয়ালামলাম, যা বিমানে জেদ্দার দিকে যাওয়ার পথে পড়ে। প্রাকটিক্যাল দিক থেকে বিচার করলে একজন ওমরাহ যাত্রী বাংলাদেশ বিমান বন্দর অথবা বাসা থেকেই ইহরাম পরে নিতে পারেন। তবে, খেয়াল রাখতে হবে নিয়ত অবশ্যই “ইয়ালামলাম” (মিকাত সীমা) অতিক্রম করার আগেই করতে হবে।
যদি কেউ আগে মদীনায় যায়, সেই ক্ষেত্রে মিকাত হবে “যুল হুলাইফা” এই স্থানটিকে ”আবিয়ার আলি” নামেও ডাকা হয়। এই স্থান অতিক্রম করার আগেই ইহরাম পরিধান ও নিয়ত করা আবশ্যক।

সংক্ষেপে:

যাত্রাপথ মিকাত
বাংলাদেশ -> মক্কা ইয়ালামলাম (বিমানে)
মদিনা -> মক্কা যুল হুলাইফা (মদিনা থেকে মক্কা যাওয়ার পথে বাসে এবং ট্রেনে উভয় ক্ষেত্রে)

কোন কারণে ইহরামের কাপড় নাপাক হলে ইহরামের কাপড় কি বদলানো যাবে?

- হ্যাঁ, বদলানো যাবে।
ইহরাম একটি অবস্থার নাম (নিয়ত ও দোয়া সহ), শুধুমাত্র কাপড়ের নাম নয়। কাপড় নাপাক হলে, কাপড় ধুয়ে নিতে হবে অথবা পরিস্কার করে অন্য ইহরামের কাপড় পরে নিতে হবে। উল্লেখ্য যে এতে করে ইহরামের নিয়ত বা অবস্থা ভঙ্গ করে না, তাই আবার নিয়ত করার দরকার নেই।

মক্কা শরীফে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই কি ওমরা করে ফেলতে হবে?

মক্কা শরীফে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে ওমরা করা বাধ্যতামূলক না। তবে ইহরাম অবস্থায় থাকা মানে কিছু কাজ হারাম। তাই অবহেলা না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওমরা সম্পন্ন করা উচিত। যাত্রাপথে শরীর ক্লান্ত হয়ে যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, অনেক সময় মক্কায় পৌঁছাতে রাত হয়ে যায়, সেই ক্ষেত্রে হোটেলে গিয়ে বিশ্রাম নিন, কিন্তু ইহরামের নিয়ম মেনে চলতে হবে। বেশি দেরি হয়ে গেলে ভুলবশত কিছু করলে দম (একটি কোরবানি দিতে হতে পারে), তাই কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওমরা সম্পন্ন করে ফেলা সুন্নত ও বুদ্ধিমানের কাজ।

তাওয়াফের সময় স্যান্ডেল এবং সেলাইকরা ব্যাগ বহন করা যাবে কি?

হ্যাঁ, তাওয়াফের সময় স্যান্ডেল এবং ছোট সেলাই করা ব্যাগ হাতে বা কাঁধে বহন করা যাবে। এতে কোন সমস্যা নেই, কোন নিষেধাজ্ঞাও নেই।

মাতাফ (Mataf) কী?

মাতাফ বলতে বুঝানো হয় কাবা শরীফের চারপাশের খোলা অংশ যা মূলত শুধু তাওয়াফের স্থান। বর্তমানে মাতাফ তিনটি স্তরে (গ্রাউন্ড, প্রথম তলা ও ছাদে) তৈরি, যাতে হাজী ও ওমরাহ্‌কারীরা সহজে তাওয়াফ করতে পারেন।


ওমরাহ

‘ওমরাহ’ শব্দের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে জিয়ারত করা, সাক্ষাৎ করা। সামর্থবান লোকদের জন্য জীবনে একবার ওমরাহ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। একাধিকবার ওমরাহ করা মুস্তাহাব। হজ্জ্ব আদায়কারীর মত ওমরাহ পালনকারীগনও আল্লাহর ঘরের সম্মানিত মেহমান স্বরূপ। হজ্জ্বের মত ওমরাহ্ ও গুনাহ মাফের এবং দোয়া কবুল হওয়ার অন্যতম মাধ্যম।

ওমরাহ্‌র ফরজসমূহ:

  1. ইহরাম বাঁধা, নিয়ত করা (মিকাত অতিক্রম করার আগে)
  2. কাবা শরীফ তাওয়াফ করা

ওমরাহ্‌র ওয়াজিব সমূহ:

  1. সাঈ করা (সাফা মার ওয়া পর্বতদ্বয়ের মাঝখানে সাঈ করা)
  2. মাথার চুল ছোট করা বা মাথা মুণ্ডানো

ওমরাহ করার ধাপসমূহ:

(১) ইহরাম গ্রহণ

ইহরাম নেওয়ার সময় – নির্ধারিত মীকাত সীমার পূর্বেই ইহরাম পরিধান করতে হয়। বিনা ইহরামে মীক্কাত অতিক্রম করা হারাম।

  • পুরুষদের জন্য : দুই টুকরা সেলাই বিহীন সাদা কাপড় পরিধান করা।
  • মহিলাদের জন্য : সেলাই করা পূর্ণাঙ্গ সতর ঢাকা থাকবে মত ঢিলাঢালা বোরখা পরিধান করবেন, মাথার চুল দেখা যেতে পারবে না এমন ওড়না বা হিজাব পরতে হবে। মুখমল্ডল সম্পূর্ণভাবে ঢেকে রাখা যাবে না। পর্দার প্রয়োজন হলে ঢিলেঢালা কাপড় দিয়ে মুখ আড়াল করা যাবে, তবে তা ঠোঁট বা মুখে লেগে না যায় এমন ভাবে হতে হবে।

ইহরাম গ্রহণের পূর্বে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে গোসল করতে হবে। (মাথার অতিরিক্ত চুল, গোঁফ (পুরুষ), নখ, শরীরের অপ্রয়োজনীয় লোম কাটতে হবে)। কোন কারণে গোসল করতে না পারলে অযু করলেও চলবে। তারপর শরীরে সুগন্ধি মাখবেন এবং ইহরামের সেলাইবিহীন সাদা কাপড় পরিধান করবেন। মহিলারা তাদের ইহরামের কাপড় পরিধান করবেন।

ইহরামরত অবস্থায় পুরুষ ও মহিলার জন্য যা যা করা হারাম-

  • মাথা বা শরীরের চুল ইচ্ছাকৃতভাবে কাঁটা বা ছেড়া যাবে না।
  • নখ কাটা যাবে না।
  • কোন রকমের সুগন্ধি, সুগন্ধিযুক্ত সাবান, ক্রিম ব্যবহার করা যাবে না।
  • পশু পাখি শিকার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  • দাম্পত্য সম্পর্কে জড়ানো বা কথা বলা (উত্তেজক) নিষিদ্ধ।
  • গাছ, ঘাস, পাতা ছেড়া নিষিদ্ধ।
  • মারামারি, ঝগড়া, কটু কথা বলা নিষেধ।
  • পুরুষরা সেলাই করা কাপড় পরা নিষেধ।
  • পুরুষরা মাথায় টুপি, চাদর, গামছা দিয়ে ঢেকে রাখা নিষিদ্ধ।
  • পুরুষরা পায়ের গিরা (Ankle) ঢেকে যায় এমন জুতা পরা নিষিদ্ধ।
  • মহিলারা মুখ পুরোপুরি ঢেকে রাখা নিষিদ্ধ। মুখ আড়াল করা যাবে, কিন্তু মুখে লেগে না থাকা এমনভাবে নেকাব দিতে হবে।
  • মহিলাদের জন্য হাত মোজা পরা ইহরামে নিষিদ্ধ।

ভুল করলে কী হবে?
যদি নিষিদ্ধ কোন কাজ ভুলে বা অজান্তে করে ফেলেন তাহলে নিচের তিনটি কাজের যেকোন ১টি উপায়ে ফিদিয়া দিতে হয়।
১। পশু কোরবানি (একটি ছাগল/ভেড়া কোরবানি)
২। তিনদিন রোযা
৩। ছয়জন গরিবকে খাওয়ানো

(২) সুন্নাতুল ইহরামের নামাজ :

ইহরাম পরিধানের পর ২ রাকাত নামাজ আদায় করা সুন্নত।

নামাজের নিয়্যত :
نَوَيْتُ أَنْأُصَلِّيَ رَكْعَتَيْنِ سُنَّةَ الإِحْرَامِ لِلَّهِ تَعَالَى
উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া রাকআতাইন সুন্নাতাল ইহরামি মিল্লাহি তা’আলা
বাংলায়: “আমি আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ইহরামের দুই রাকাত সুন্নত নামাজ পড়ার নিয়্যত করলাম।"

(৩) ওমরাহর নিয়্যত :

اللَّهُمَّ إِنِّيأُرِيدُ الْعُمْرَةَ فَيَسِّرْهَا لِي وَتَقَبَّلْهَا مِنِّي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী উরীদুল উমরাতা ফাইয়াসসিরহা লী ওয়া তাকাব্বালহা মিন্নী
বাংলায়: “হে আল্লাহ, আমি ওমরা আদায়ের ইচ্ছা পোষণ করছি, আপনি আমার জন্য তা সহজ করে দিন এবং আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করে নিন।”

(৪) তালবিয়া পাঠ :

ওমরাহর নিয়ত করে পুরুষরা জোরে জোরে তিনবার তালবিয়া পাঠ করবেন, মহিলারা মনে মনে তিনবার তালবিয়া পাঠ করবেন।

لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَاشَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ
উচ্চারণ: লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্-নিমাতা লাকা ওয়াল মুল্ক, লা শারীকা লাক।
বাংলা অর্থ: আমি হাজির, হে আল্লাহ! আমি হাজির। আমি হাজির,আপনার কোনো শরীক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা, নিয়ামত ও রাজত্ব আপনারই, আপনার কোনো শরীক নেই।

(৫) আল হারামে (মসজিদে) প্রবেশের দোয়া :

ডান পা দিয়ে প্রবেশ করতে হয়।

بِسْمِ اللَّهِ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَىرَسُولِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِيذُنُوبِي وَافْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি, ওয়াস্‌সালাতু ওয়াস্‌সালামু ‘আলা রাসূলিল্লাহ। আল্লাহুম্মাগ্‌ফির লি যুনূবী, ওয়াফতাহ্ লি আবওয়াবা রহমাতিক।
বাংলা অর্থ: “আল্লাহর নামে শুরু করছি, এবং রাসূলুল্লাহর প্রতি সালাত ও সালাম। হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন এবং আপনার রহমতের দরজাগুলো আমার জন্য খুলে দিন।”

(৬) কাবা ঘরের দিকে প্রথম দৃষ্টি পরার সাথে সাথে দোয়া :

لا إلهإلا الله الله أكبر
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার।
বাংলা অর্থ: “আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আল্লাহ সবচেয়ে বড়।”

(৭) তাওয়াফ শুরু

হাজরে আসওয়াদকে চুমু দিবেন এমন ভঙ্গিতে (ইশারা করে) :

  • দুই হাত কাঁধ বরাবর বা কানের লতায় তুলবেন।
  • কাবার দিকে হাতের তালু থাকবে।
  • তারপর পড়বেন-
“بِسْمِ اللَّهِ، اللَّهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ”
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।
বাংলা অর্থ: “আল্লাহর নামে শুরু করছি, আল্লাহ সবচেয়ে বড়, এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।”

এই দোয়া তাওয়াফের সাতটি (৭টি) চক্করের শুরুতে সাত বার পড়তে হয়।

তাওয়াফের ২টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রিপস – (পুরুষদের জন্য)

  • রমল করা
  • ইজতিবা করা

“রমল” মানে হলো তাওয়াফের সময় প্রথম তিন চক্করে দ্রুত পায়ে জোরে জোরে হাঁটা। কাঁধে শক্তি ও গর্ব প্রকাশের মতো ভঙ্গিতে হাঁটা।
“ইজতিবা” মানে হলো তাওয়াফের সময় পুরুষরা ইহরামের উপরের চাদর ডান বাহুর নিচে দিয়ে এনে বাম কাঁদের ওপর ফেলে পরা। এতে করে ডান কাঁধ উন্মুক্ত থাকে। এটি সুন্নত।

সংক্ষেপে মনে রাখার জন্য:

প্রশ্ন রমল ইজতিবা
রমল কখন করবে? ইজতিবা কখন করবে? প্রথম তিন (৩টি) চক্করে। সাতটি (৭টি) চক্করই ইসতিবার সঙ্গে করতে হয়, তবে প্রথম ৩টি তে রমল ও বাকি ৪টিতে স্বাভাবিক হাঁটা।
কারা রমল ও ইজতিবা করবে? শুধু পুরুষরা শুধু পুরুষরা
মেয়েরা করবে? না; করবে না না; করবে না।

তাওয়াফের ৭ চক্কর কি দোয়া পড়া উচিত?

  • যে কোন ভালো দোয়া পড়া যায়।
  • কুরআনের আয়াত, হাদীসের দোয়া নিজের ভাষায় হৃদয়ের সব চাওয়া (আখেরাত ও দুনিয়ার জন্য) আল্লাহ্‌র কাছে ব্যাকুল ভাবে চাইবেন।
  • ক্ষমা চাইবেন সমস্ত গুনাহ্‌র জন্য। (বিগত ও সামনের যত গুনাহ্‌ হয়ে যেতে পারে)
  • বেশি বেশি দরুদ শরীফ পড়বেন।
  • রুকনে ইয়ামানি (চতুর্থ কোনা) ও হাজরে আসওয়াদের মাঝের জায়গাতে চক্কর চলাকালীন সময় এই- দোয়াটা পড়বেন। (সাত চক্করে সাত বার পড়া উত্তম)
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ: রব্বানা আতিনা ফিদ্ দুনিয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়া ক্বিনা ‘আযাবান্ নার।
বাংলা অর্থ: “হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন, আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।”

তাওয়াফ শেষ – হাজরে আসওয়াদের সামনে এসে তাওয়াফ শেষ হয়।

ওয়াজিবুত তাওয়াফ নামাজ

  • এই দুই রাকাত নামাজ ওয়াজিব, যদি না পরা হয় কাফফারা দিতে হবে।
  • এই নামাজ, তাওয়াফ শেষ করার পরই সম্ভব হলে মাকামে ইব্রাহীমের পেছনে, তা সম্ভব না হলে মসজিদের যে কোন জায়গায় পড়লেও হয়ে যাবে।
নামাজের নিয়ত-
نَوَيْتُ أَنْأُصَلِّيَ رَكْعَتَيِ وَاجِبِ الطَّوَافِ لِلَّهِ تَعَالَى
উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া রাক‘আতাই ওয়াজিবিত্ তাওয়াফি লিল্লাহি তা‘আলা।
বাংলা অর্থ: “আমি নিয়ত করলাম আল্লাহর উদ্দেশ্যে তাওয়াফের ওয়াজিব দুই রাকাআত নামাজ আদায় করার।”

নামাজ আদায় পদ্ধতি

  • ২ রাকাত নামাজ।
  • প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহার পর সূরা কাফিরুন পড়া উত্তম।
  • দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহার পর সূরা ইখলাস পড়া উত্তম।
  • নামাজ শেষে, আল্লাহর কাছে মনের যত চাওয়া-পাওয়া আছে তা অতি অনুনয়-বিনয় করে চাওয়া, কান্নাকাটি করে ক্ষমা চাওয়া, কারণ এই জায়গায় দোয়া কবুল হয়।

জমজমের পানি পান করা

নামাজ শেষ করে পবিত্র জমজমের পানি পান করতে হবে তিনবার। কেবলামুখী হয়ে পানি পান করবেন। পানি পান করার সময় এই দোয়াটি পড়বেন-

اللَّهُمَّ إِنِّيأَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَرِزْقًا وَاسِعًا، وَشِفَاءً مِنْ كُلِّ دَاءٍ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ‘ইলমান নাফিআ, ওয়া রিযকান ওয়াসিআ, ওয়া শিফাআ মিন কুল্লি দা’ই।
বাংলা অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান, প্রশস্ত রিজিক এবং সকল রোগ থেকে আরোগ্য প্রার্থনা করছি।”

(জমজমের অবস্থান কোথায় এবং সাফা মারওয়ার দিক নির্দেশনার মানচিত্র নিম্নে দেওয়া হলো)

আল-মসজিদ আল-হারাম

আল-মসজিদ আল-হারাম

সাঈ করা-

“সাঈ” এর অর্থ হলো চেষ্টা করা, দৌড়ানো বা পরিশ্রম করা। ইসলামের পরিভাষায় সাঈ হলো আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি উদ্দেশ্যে সাফা পাহাড় থেকে মারওয়া পাহাড়ে এবং মারওয়া থেকে সাফা পর্যন্ত সাতবার যাতায়াত করা।

সাঈ করার ধাপ সমূহ (সংক্ষেপে):

  • তাওয়াফ শেষ করার পর জমজমের পানি পান করে সাঈ শুরু করতে হয়।
  • সাফা থেকে মারওয়া – ১ রাউন্ড
  • মারওয়া থেকে সাফা – ২ রাউন্ড
  • এই ভাবে মোট ৭বার যাতায়াত করতে হয়।
  • সাঈ চলাকালে দোয়া, জিকির, তাসবিহ, দরুদ পড়া যায়।
  • পুরুষরা সবুজ বাতি চিহ্নিত অংশে হালকা দৌড়াবে মহিলা ধীরে হাঁটবে।

সাফা পাহাড়ে উঠার শুরুতে পড়তে হয়-

إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْشَعَائِرِ اللَّهِ
উচ্চারণ: ইন্নাস্‌সাফা ওয়াল মারওাতা মিন্ শা‘আ-ইরিল্লাহ।
বাংলা অর্থ: “নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।”

সাফা পাহাড়ে উঠে রাসুল্লাহ (সাঃ) কাবার দিকে মুখ করে হাত উঁচু করে নিচের দোয়া করতেন-

اللّٰهُ أَكْبَرُ، اللّٰهُ أَكْبَرُ، اللّٰهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَإِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُالْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَىكُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ،
উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন কাদীর।
বাংলা অর্থ: “আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসাও তাঁরই, আর তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।”

সাফা মারওয়াতে সাঈ চলাকালে দোয়া-

رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْأَعَزُّ الْأَكْرَمُ
উচ্চারণ: রব্বিগ্‌ফির ওয়ারহাম, ইন্নাকা আনতাল আ‘আজ্জুল আকরাম।
বাংলা অর্থ: “হে আমার রব! ক্ষমা করুন এবং দয়া করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশক্তিমান ও সর্বমহান।”

💎 উপরের লিখাগুলো ওয়ার্ড ফাইলে সেভ করুন!

মাত্র 30 টাকা Send Money করে অফলাইনে পড়ার জন্য বা প্রিন্ট করার জন্য উপরের লিখাগুলো Microsoft Word ফাইলে ডাউনলোড করুন।

Download (.doc)

Sribas Ch Das

Founder & Developer

HR & Admin Professional (১২+ বছর) ও কোচিং পরিচালক (১৪+ বছর)। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সহজ Study Content নিশ্চিত করতেই এই ব্লগ।

🏷️ Tag Related

⚡ Trending Posts

Facebook Messenger WhatsApp LinkedIn Copy Link

✅ The page link copied to clipboard!

Leave a Comment (Text or Voice)




Comments (0)